রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:২৬
আহলে বাইতের (আ.) প্রতি ভালোবাসা: ইসলামের অপরিহার্য শিক্ষা

মহানবী (সা.) তাঁর রিসালাতের বিনিময়ে একমাত্র 'আহলে বাইতের (আ.) প্রতি ভালোবাসা'-কেই প্রতিদান হিসেবে ঘোষণা করেছেন-এই মহান বাণীই উঠে এসেছে মেদিনীপুরের মসজিদে আহলে বাইত (আ.)-এর আলোচনাসভার কেন্দ্রবিন্দুতে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত: মাওলানা মোআজ্জাম আলী (মুবাল্লািগ, পশ্চিম বঙ্গ, ভারত) পবিত্র কুরআনের সূরা আশ-শুরার ২৩ নং আয়াতের তাৎপর্য তুলে ধরে মসজিদে আহলে বাইত (আ.)-এ এক বিশেষ ভাবে আলোচনা করেন। এতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের একটি মৌলিক দিকনির্দেশনা উপস্থাপন করা হয়।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল আয়াতটি:

"قُل لَّا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى"

বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, তবে নিকটাত্মীয়দের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা ছাড়া।

মাওলানা মোআজ্জাম আলী আয়াতটির ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর রিসালাত পৌঁছে দেয়ার বিনিময়ে দুনিয়াবী কোনো পারিশ্রমিক চাননি; বরং একমাত্র প্রতিদান হিসেবে তিনি তাঁর ‘আহলে বাইত’ তথা পরিবার-পরিজনের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছেন । এটি একটি আধ্যাত্মিক সম্পর্ক, যা উম্মতের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই 'কুরবা' (নিকটাত্মীয়) বলতে বিশেষভাবে হজরত আলী (আ.), হজরত ফাতিমা (আ.) এবং তাঁদের সন্তান হজরত হাসান ও হোসাইন (আ.)-কে বোঝানো হয়েছে। বিভিন্ন বিশুদ্ধ হাদিস ও তাফসির গ্রন্থে এই ব্যাখ্যাই প্রাধান্য পেয়েছে । এটি কেবলমাত্র পারিবারিক সম্পর্ক নয়, বরং ঈমানের পরীক্ষাস্বরূপ, যা প্রকৃত মুমিনের পরিচয় বহন করে ।

সভার শেষ পর্যায়ে মাওলানা মোআজ্জাম আলী আয়াতটির সামগ্রিক বার্তা তুলে ধরে বলেন, এই ভালোবাসা শুধু মুখেই বলার বিষয় নয়; এটি আহলে বাইতের (আ.) আদর্শ ও পথ অনুসরণের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। যারা এই মহান ব্যক্তিত্বদের প্রতি ভালোবাসা পোষণ করে এবং তাঁদের দেখানো পথে চলে, তারাই সত্যিকারের সফলতা লাভ করে ।

মসজিদে আহলে বাইত (আ.)-এর এই আয়োজনটি উপস্থিত আজাদারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী হয়েছে বলে জানা গেছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha