হাওজা নিউজ এজেন্সি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়াত আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদি (রহ.) ‘বিপদ থেকে সমাজকে রক্ষায় আহলে বাইতের প্রতি তাওয়াসসুলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করা হলো:
“যে বিষয়টি আমাদের এসব বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে, তা হলো আহলে বাইতের (আ.) প্রতি অব্যাহত তাওয়াসসুল।
আমরা যখনই কোনো পদক্ষেপ নিতে চাই, প্রথমেই হযরত ওয়ালিয়ে আসর (আ.ফা.)-এর পবিত্র সত্তার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করি এবং বলি: ‘হে মাওলা! আমি আপনার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আপনি নিজেই আমাকে সাহায্য করুন, যাতে আপনার কাছে যা কল্যাণকর ও মঙ্গলজনক, সেটিই বাস্তবায়িত হয়।’
আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের জন্য কোনো পদক্ষেপ নিই; কিন্তু প্রকৃত কল্যাণ কোথায়, কোনটি আমাদের জন্য সত্যিকার অর্থে মঙ্গলজনক—তা আমরা নিজেরা জানি না। তাই নিজেদের আপনাদের কাছে সঁপে দিই—আমাদের হৃদয়, আমাদের ঈমান ও আমাদের কর্মকে।
আমরা যে বিষয়টুকু বুঝতে পারি যে, সেটিই আমাদের কর্তব্য, তা পালনের চেষ্টা করি। আর আপনারা আমাদের হাত ধরে রাখুন, যেন আমরা পথভ্রষ্ট হয়ে না পড়ি। আমাদের জন্য এর চেয়ে কার্যকর আর কিছু নেই।
দুঃখজনকভাবে, আমরা যখন কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করি, তখন অনেক সময় এসব বিষয় নিজেরাই ভুলে যাই।
আমরা মানুষকে বলি, তাওয়াসসুল করুন—মাথাব্যথার জন্য, জীবনের নানা সমস্যার জন্য। অথচ আমাদের দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জীবন-মরণ প্রশ্নের ক্ষেত্রে তাওয়াসসুলের কথা ভুলে যাই।
জিয়ারতে আশুরা ভুলে যাবেন না। ইমাম হুসাইন (আ.)-এর নামে খাবার বিতরণ, আহলে বাইতের (আ.) প্রতি ভালোবাসায় পরিপূর্ণ জীবনযাপন এবং হুসাইনি চেতনায় উজ্জীবিত থাকা—এসবও ভুলে যাবেন না।
এসবই আমাদের ইসলামী ব্যবস্থা ও সমাজের স্থায়িত্ব ও অগ্রগতির অন্যতম অবলম্বন। এগুলোই আমাদের শয়তানের ফাঁদে পতিত হওয়া থেকে রক্ষা করে।
আল্লাহ যেন এমন দিন কখনো না আনেন, যেদিন আহলে বাইতের (আ.) আঁচল—বিশেষত সাইয়্যেদুশ শুহাদা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর আঁচল—থেকে আমাদের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।”
সূত্র: প্রয়াত আল্লামা মিসবাহ ইয়াজদি (রহ.)-এর বক্তব্য, ২৬ দেই ১৩৯০ (১৬ জানুয়ারি ২০১২)।
আপনার কমেন্ট