হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর মেহদি মোল্লায়ি আরানি ‘ইকরা’ ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আহমদ বিন ইউসুফের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেন।
‘ইকরা’ বাংলাদেশে কোরআন শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সুপরিচিত প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সময়ে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের কার্যালয়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আন্তরিক ও গঠনমূলক পরিবেশে অব্যাহত রয়েছে।
সাক্ষাতের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর ইরানি সমাজের বিশ্বাস ও মানসিকতা গঠনে কোরআনের শিক্ষার ভূমিকা তুলে ধরে বলেন, ইসলামী বিপ্লবের শহীদ সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী তাঁর প্রায় চার দশকের নেতৃত্বে কোরআনিক জ্ঞান ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির অন্যতম প্রধান দিক হলো আল্লাহর প্রতিশ্রুতির প্রতি ঈমান ও দৃঢ় বিশ্বাস শক্তিশালী করা।
তিনি বলেন, কোরআন মুখস্থ করা ও তিলাওয়াত করা কোরআনের শিক্ষা বোঝা, বিশ্বাস করা এবং জীবনে বাস্তবায়নের পথে প্রাথমিক ধাপ। কোরআনের মর্মবাণী যদি মানুষের অন্তর ও জীবনে গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে বাহ্যিক শক্তির সামনে সে নিজেকে দুর্বল ও অসহায় মনে করবে না।
মোল্লায়ি আরানি ‘নিশ্চয়ই সমস্ত মর্যাদা ও শক্তি আল্লাহরই’, ‘নিশ্চয়ই আমার রব আমার সঙ্গে আছেন, তিনি আমাকে পথ দেখাবেন’ এবং ‘তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন’-এ ধরনের কোরআনের আয়াত উল্লেখ করে বলেন, কোরআন আমাদের শিক্ষা দেয় যে প্রকৃত মর্যাদা ও শক্তি একমাত্র আল্লাহর। মানুষ ও কোনো সমাজ যখন আল্লাহর দ্বীনের সাহায্যের পথে এগিয়ে যায়, তখন তারা আল্লাহর সাহায্য লাভ করবে।
তিনি ‘তোমরা কি আমাদের জন্য দুটি কল্যাণের একটির অপেক্ষা করছ?’-এই আয়াতের উল্লেখ করে বলেন, কোরআনের দৃষ্টিতে একজন মুমিন সব পরিস্থিতিতেই নিজেকে বিজয়ী মনে করেন। কারণ সত্যের পথে চলার চূড়ান্ত পরিণতি হলো অপরাজেয়তা ও বিজয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলর হযরত মূসা (আ.) ও ফেরাউন, হযরত ইবরাহিম (আ.) ও নমরুদ এবং হযরত দাউদ (আ.) ও জালুতের ঘটনাগুলোর উল্লেখ করে বলেন, নবীদের ইতিহাস ও কোরআনের কাহিনিগুলো প্রমাণ করে যে জুলুম ও সীমালঙ্ঘন কোনো সময়ে শক্তিশালী মনে হলেও শেষ পর্যন্ত তা পরাজিত হবে।
তিনি ‘তুমি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন দেখতে পাবে না’ এবং ‘তুমি আল্লাহর বিধানের কোনো রূপান্তরও দেখতে পাবে না’-এই আয়াতগুলোর আলোকে বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মগুলো অপরিবর্তনীয়। এই বিশ্বাস জুলুমের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে আশা, দৃঢ়তা ও সাহসের উৎস হতে পারে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৭ কোটিরও বেশি, ফলে এটি বিশ্বের অন্যতম জনবহুল মুসলিম দেশ। তবে জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আরবি ভাষার সঙ্গে পর্যাপ্তভাবে পরিচিত না হওয়ায় তারা কোরআনের মূল আরবি পাঠ সরাসরি পড়া ও তা থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ পান না।
অন্যদিকে, অনেক কোরআন শিক্ষাকেন্দ্রে মূলত হিফজ ও তিলাওয়াতের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোরআনের অর্থ ও মর্ম বোঝা, আয়াত নিয়ে চিন্তা-গবেষণা এবং জীবনযাপন গঠনে কোরআনের শিক্ষার প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পায়।
এ কারণে হিফজ ও তিলাওয়াতের পাশাপাশি কোরআনের অর্থ, মর্ম ও জ্ঞান শিক্ষা জোরদার করা বাংলাদেশের কোরআনভিত্তিক সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হতে পারে। এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কোরআনের আরও গভীর সম্পর্ক তৈরি এবং ঐশী শিক্ষাভিত্তিক জীবনধারা গড়ে তোলার পথ সুগম হতে পারে।
সাক্ষাতের শেষে বাংলাদেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের কার্যালয় ও ‘ইকরা’ ইনস্টিটিউটের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের কোরআনভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আপনার কমেন্ট