হাওজা নিউজ এজেন্সি: সাক্ষাতে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে গাজার মানবিক সংকট, মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিবন্ধকতা এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় রেড ক্রসের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
রেড ক্রসের প্রতিনিধিরা গাজার অবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, সংস্থার নীতিগত অবস্থান অনুযায়ী মানবিক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সরাসরি সংলাপ ও যোগাযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ইসরায়েলেও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জের কথা তাঁরা তুলে ধরেন।
জবাবে ইরানের রাষ্ট্রদূত পশ্চিম এশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী সংকটের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার পেছনে ভূরাজনৈতিক স্বার্থ, ক্ষমতার রাজনীতি ও সম্প্রসারণবাদী নীতির ভূমিকা রয়েছে।
ড. জালিল রাহিমি জাহানাবাদি আন্তর্জাতিক রেড ক্রসসহ মানবিক সংস্থাগুলোর ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিশ্ব জনমত শান্তি, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের পক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর উচিত আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও বেসামরিক জনগণের সুরক্ষার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করা।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোতে হাসপাতাল, বিদ্যালয়, আবাসিক এলাকা ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাসহ বেসামরিক অবকাঠামোর সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুধু উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশের পরিবর্তে মানবিক সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকের শেষে ইরানের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও দেশটির ইতিহাস-সংস্কৃতির ওপর সংঘাতের প্রভাব তুলে ধরা আলোকচিত্র সংকলন “এস্তাদেহ দার ঘোবার” (ধুলোয় দাঁড়িয়ে থাকা) রেড ক্রসের প্রতিনিধিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে “মাশকে নাতামাম” (অসমাপ্ত পাঠ) শীর্ষক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রও তাঁদের প্রদান করা হয়।
সাক্ষাতে উভয় পক্ষ মানবিক মূল্যবোধ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
আপনার কমেন্ট