হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাকাই ‘মিসলে খোমেইনী’ (খোমেইনীর মতো) ক্যাম্পে শিক্ষার্থীদের সাথে এক বৈঠকে ইরানের বৃহৎ শক্তিগুলোর সাথে সংঘর্ষের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জ বর্ণনা করে তাওয়াক্কুল, প্রতিরোধ ও দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
আমেরিকার লক্ষ্য ইরানকে ধ্বংস করা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানের প্রতি আমেরিকার নীতির প্রসঙ্গে বলেন, আমেরিকানদের নীতি ও লক্ষ্য, কোনও দ্বিধা ছাড়াই, ইরানকে ধ্বংস করা।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকানরা মাঝে মাঝে কিছু স্লোগান দিতে পারে, কিন্তু এই স্লোগানগুলো সবার কাছে এখন অর্থহীন হয়ে গেছে।
মহাশক্তির বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধের কাহিনি
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উল্লেখ করে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থাকে ঐ আয়াতের সাথে তুলনা করে বলেন, বিশ্বের মহাশক্তিগুলোর সাথে আমাদের কাহিনি হলো এই আয়াতের মতো: যাদেরকে লোকেরা বলেছিল, লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে সমবেত হয়েছে, অতএব তোমরা তাদের ভয় কর; কিন্তু তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করল এবং তারা বলল, আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কত উত্তম কর্মবিধায়ক। (সূরা আলে ইমরান, ১৭৩)
তিনি বলেন, এই আয়াতে বলা হয়েছে, যারা মুমিনদের বলেছিল যে মক্কার লোকেরা যুদ্ধের জন্য বিশাল বাহিনী সাজিয়েছে, তাদের ভয় কর; কিন্তু এই হুমকি তাদের ঈমান বাড়িয়ে দিল এবং তারা বলল, আল্লাহ আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম অভিভাবক।
আমাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন
বাকাই তার বক্তৃতার অন্য অংশে দেশের কূটনৈতিক যন্ত্রের চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেন, আমাদের কাজ অত্যন্ত কঠিন; আমাদের টেবিলে বসে তাদের সাথে কথা বলতে হয় যাদের হাত এই সমাজের শ্রেষ্ঠ মানুষের রক্তে রঞ্জিত এবং আমরা জানি তারা বিশ্বাসঘাতক, তবুও আল্লাহর উপর ভরসা করে তাদের সাথে কথা বলতে হয়।
তিনি দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও প্রতিরোধের অর্জন এবং মাঠপর্যায়ের প্রচেষ্টা থেকে উপকৃত হওয়ার প্রয়োজনীয়তার উল্লেখ করে বলেন, আব্বাস আরাকচি (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) কে সৈয়দ মাজিদ মুসাভির (প্রতিরোধ ফ্রন্টের কমান্ডার) প্রচেষ্টার ফল বিচক্ষণতা ও কূটনীতির মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে।
সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি কূটনীতিকদের জন্যও দোয়া করুন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দেশের স্বার্থ রক্ষার অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনীতির ভূমিকার গুরুত্বের উপর জোর দিয়ে বলেন, কাজটি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে যে দুই নামাজের মাঝে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি কূটনীতিকদের জন্যও দোয়া করেন।
বাকাই জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রতিরক্ষার অন্যান্য ক্ষেত্রের পাশাপাশি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষার পথের একটি অংশ, এবং এই পথে তাওয়াক্কুল, বিচক্ষণতা ও সমর্থন প্রয়োজন।
কূটনীতি অমঙ্গল দূর করার জন্য, অমঙ্গল গ্রহণের জন্য নয়
বাকাই বলেন, আমাদের কূটনীতির মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে হবে। কূটনীতি অমঙ্গল দূর করার জন্য; আমাদের কূটনীতিকে অমঙ্গল গ্রহণের সাথে এক করা উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, কূটনীতির কাজ এই কথাগুলোর চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত। এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো আপনি নিজের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারেন এবং বিশ্বকে দেখাতে পারেন যে আপনি সঠিক পথে আছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, কূটনীতির জন্য আমার অন্যতম ভিত্তি হলো ‘২৫০ বছরের মানুষ’ বইটি (আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ির লেখা); আমাদের দেখতে হবে আহলে বায়ত (আ.) বিভিন্ন পরিস্থিতিতে শত্রুর সাথে কিভাবে মুখোমুখি হয়েছেন এবং কখন তারা সংলাপ ও আলোচনাকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
উল্লেখ্য, ‘মিসলে খোমেইনী (রা.)’ শীর্ষক চতুর্থ জ্ঞানতাত্ত্বিক-ব্যাখ্যামূলক ক্যাম্প, ‘বাইয়াত ও প্রতিশোধের মৌসুম’ স্লোগানে শিক্ষার্থীদের জন্য, ‘ইনকিলাব যুগের শিক্ষার্থীর পরিচয় ও জীবনধারা’, ‘ইমাম খোমেইনি (রা.) ও শহীদ নেতা; শিক্ষার্থীর আদর্শ’ এবং ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সংগ্রামী যুক্তি’ বিষয় তুলে ধরার লক্ষ্যে, যুব শিক্ষার্থী ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ১৪০৫ হিজরি সনের ২৬ থেকে ৩০ আগস্ট (সৌর মাস) পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আপনার কমেন্ট