বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৫:৪৮
শহীদ ইমাম বলেছিলেন, “বেহিজাবি শরিয়ত ও রাজনীতির দৃষ্টিতে হারাম” / জনগণ, আলেম ও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে

হাওজায়ে ইলমিয়ার উচ্চ পরিষদের সদস্য জোর দিয়ে বলেছেন, হিজাব ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং সব ইসলামী মাজহাবের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তিনি বলেন, হিজাবহীনতা ধর্মীয়ভাবে হারাম হওয়ার পাশাপাশি বর্তমানে রাজনৈতিকভাবেও একটি হারাম বিষয়। শত্রুরা এর মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বাস্তবায়ন করতে চায়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান আয়াতুল্লাহ মাহমুদ রাজাবি হিজাবের ইসলামী অবস্থান সম্পর্কে হাওযা নিউজ-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে বলেন:

হিজাবের বিষয়টি ইসলামের অকাট্য বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং সব ইসলামী মাজহাবের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোতেও এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে। হাদিসসমূহও নিজ নিজ স্থানে এ বিষয়টি উল্লেখ করেছে। আমাদের সকল আলেম ও ফকিহ হিজাবের আবশ্যকতার ওপর ফতোয়া দিয়েছেন।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজাবের শরিয়তসম্মত আবশ্যকতার পাশাপাশি জনগণ ও সরকারি কর্মকর্তাদের উভয়েরই এ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কখনো কখনো বলা হয়, হিজাবহীনতার বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। অথচ এই দৃষ্টিভঙ্গি ধর্মীয় ভিত্তি ও নীতিমালার পরিপন্থী।

ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান স্পষ্ট করে বলেন, সরকারকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং সহযোগিতা করতে হবে। কারণ ইসলামী সরকারের দায়িত্ব হলো ইসলামী বিধান বাস্তবায়ন করা। অতএব, এ ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা থাকা উচিত।

জনগণ, আলেম ও সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে

আয়াতুল্লাহ রাজাবি হিজাবের বিষয়ে সমাজের সকল শ্রেণির ভূমিকা পালনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন:

জনগণ, আলেম ও সরকার-সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে হিজাবসংক্রান্ত অনিয়ম মোকাবিলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। হিজাবের সংস্কৃতি প্রচারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এবং সমাজে হিজাবকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

হিজাবহীনতা ধর্মীয়ভাবে হারাম হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও হারাম

হাওজায়ে ইলমিয়ার উচ্চ পরিষদের সদস্য বিপ্লবের শহীদ নেতার বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:

আজ, আমাদের শহীদ নেতা যেমন বলেছিলেন, হিজাবহীনতা ধর্মীয়ভাবে হারাম হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও একটি হারাম বিষয়। অর্থাৎ, শত্রুরা হিজাবহীনতার মাধ্যমে তাদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বাস্তবায়ন করতে চায়।

আয়াতুল্লাহ রাজাবি আরও বলেন, চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো জ্ঞানগত ও সাংস্কৃতিক যুদ্ধ। আমরা যদি সাংস্কৃতিক যুদ্ধে পরাজিত হই, তাহলে সামরিক ক্ষেত্রেও সফল হতে পারব না।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বলেন, শত্রুরা হিজাবহীনতা ও সাংস্কৃতিক অধঃপতনের মাধ্যমে আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে এবং সমাজকে দুর্নীতিগ্রস্ত করতে চায়। অতএব, সামরিক যুদ্ধে আমরা যে পরিমাণ বিনিয়োগ করি, এই ক্ষেত্রেও ততটাই বিনিয়োগ করা উচিত।

সমাজের অধিকাংশ মানুষ হিজাবের পক্ষে

সমাজে অনিয়ম ও হিজাবহীনতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে-এমন কিছু উদ্বেগ সম্পর্কে তিনি বলেন:

আমাদের প্রিয় নেতা যেমন বলেছেন, এই ধারণা সঠিক নয় যে আমরা যদি হিজাবের প্রচার করি অথবা অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করি, তাহলে সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান স্পষ্ট করে বলেন:

আমাদের সমাজের অধিকাংশ মানুষ হিজাবের পক্ষে। কারও কারও হিজাব পালনের মাত্রা দুর্বল হতে পারে। কিন্তু তাদের কাছে যদি বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয় এবং এর নেপথ্যের বিষয় ও শত্রুর ষড়যন্ত্র তাদের বোঝানো হয়, তাহলে আমাদের শহীদ নেতা যেমন বলেছিলেন, এই ব্যক্তিরাও হিজাবহীনতার অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবেন।

সাংস্কৃতিক কাজ যেন বাস্তব পদক্ষেপের পথে বাধা না হয়

আয়াতুল্লাহ রাজাবি হিজাব ও পবিত্রতার বিষয়ে কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দিয়ে বলেন:

আমি আবারও জোর দিয়ে বলছি, আমাদের সরকারি কর্মকর্তাদের এ বিষয়টিতে এগিয়ে আসতে হবে যে হিজাবহীনতা ধর্মীয়ভাবে হারাম। কখনো বলা হয়েছে, বাস্তব পদক্ষেপের পরিবর্তে সাংস্কৃতিক কাজ করা উচিত। সাংস্কৃতিক কাজ অবশ্যই করতে হবে, তবে বাস্তব পদক্ষেপও প্রয়োজনীয়।

ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান আরও বলেন:

এখানে যারা বলতেন সাংস্কৃতিক কাজ করা উচিত, তাদের জিজ্ঞেস করা দরকার-এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো হিজাবের ক্ষেত্রে কী ধরনের সাংস্কৃতিক কাজ করেছে? আমার মতে, সাংস্কৃতিক কাজ যেন বাস্তব পদক্ষেপের পথে বাধা না হয় এবং এসব পদক্ষেপের পূর্বশর্তও না হয়। বরং উভয় কাজ পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে।

সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের প্রতিবেদন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা

আয়াতুল্লাহ রাজাবি সংস্কৃতির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:

সরকারের মধ্যে যদি সাংস্কৃতিক কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান থাকে, তাহলে তাদের অবশ্যই গুরুতর পদক্ষেপ নিতে হবে, যথাযথ বিনিয়োগ করতে হবে, কার্যকর সহযোগিতা করতে হবে এবং হিজাব ও পবিত্রতার ক্ষেত্রে তারা কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার প্রতিবেদন দিতে হবে।

হাওজায়ে ইলমিয়ার উচ্চ পরিষদের সদস্য জোর দিয়ে বলেন:

হিজাবের বিষয়টি যেন কেবল সাংস্কৃতিক পরামর্শের পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে। সাংস্কৃতিক ও বাস্তব পদক্ষেপ পাশাপাশি অনুসরণ করতে হবে।

হিজাবের সংস্কৃতি প্রচার শুধু হাওযার দায়িত্ব নয়; এটি ইসলামী ব্যবস্থার দায়িত্ব

ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর নামে প্রতিষ্ঠিত শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান শেষ বক্তব্যে বলেন:

সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রেও কেউ যেন না বলেন যে, এটি শুধু হাওজায়ে ইলমিয়ার কাজ। বরং এটি ইসলামী ব্যবস্থারও দায়িত্ব। আমাদের সরকারকে এখানে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha