হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের ইসলামী বিপ্লবের শহীদ নেতা এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে তাকওয়ার প্রকৃত অর্থকে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সচেতনতা ও সতর্কতা অবলম্বন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা মেনে চলাই আল্লাহর পক্ষ থেকে মানুষের সার্বিক হেফাজত ও সাহায্য লাভের ভিত্তি।
তাকওয়ার প্রকৃত তাৎপর্য এবং মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি হাদিসের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ নিচে তুলে ধরা হলো:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
নবী করিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন,
احفظ الله یحفظک
“তুমি আল্লাহর বিধান হেফাজত করো, আল্লাহও তোমাকে হেফাজত করবেন।”
আল্লাহ তাআলার বিধান ‘হেফাজত বা ‘লসংরক্ষণ’ করার অর্থ হলো—মানুষ তার জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহকে বিবেচনায় রাখবে এবং তাঁর নির্দেশনা মেনে চলবে। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান ও সীমারেখার প্রতি লক্ষ্য রাখবে। বিনিময়ে আল্লাহ তাআলাও তাকে তাঁর হেফাজত ও পৃষ্ঠপোষকতায় রাখবেন।
এই ধারণার পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। কুরআনের কোনো কোনো আয়াতে যেমন বলা হয়েছে—
إِن تَنصُرُوا اللَّهَ یَنصُرْکُمْ
“তোমরা যদি আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন।”
এ আয়াতে আল্লাহর সাহায্যের একটি নির্দিষ্ট দিকের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ‘احفظ الله’—‘আল্লাহর বিধান হেফাজত বা সংরক্ষণ করো’—এই নির্দেশের পরিধি আরও ব্যাপক; এটি মানুষের জীবনের সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ তাআলার অধিকার ও বিধান যথাযথভাবে রক্ষা করাই তাকওয়ার প্রকৃত অর্থ। অর্থাৎ মানুষ জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সতর্ক থাকবে এবং ভেবে দেখবে—আমি কোথায় পা রাখছি? আল্লাহর বান্দা হিসেবে যে পথে এগিয়ে চলেছি, সেই পথে কি সঠিকভাবে চলছি?
মানুষ যখন প্রতিটি পদক্ষেপে নিজের কাজ ও আচরণ সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং আল্লাহর বিধান ও সীমারেখা লঙ্ঘন করা থেকে নিজেকে বিরত রাখে, তখন সেটিই তাকওয়ার প্রকৃত প্রকাশ। অর্থাৎ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান ও সীমারেখার প্রতি সজাগ থেকে চলাই তাকওয়া।
আপনার কমেন্ট