হাওজা নিউজ এজেন্সি: বর্তমানে আমরা একটি আন্তঃপ্রজন্মীয় সমস্যার মুখোমুখি। বয়স্ক প্রজন্মের অনেকেই—বিশেষ করে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা—নিজেদের পরিবার কিংবা জীবনসঙ্গীর পরিবারের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপের কারণে যে কষ্ট পেয়েছেন, তা নিয়ে অভিযোগ করেন।
কিন্তু পরবর্তীতে যখন তারাই শ্বশুর, শাশুড়ি কিংবা সন্তানদের জীবনে অভিভাবকের নতুন ভূমিকায় আসেন, তখন অনেক সময় নিজেদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একই আচরণ তারা সন্তান, পুত্রবধূ ও জামাতার ওপরও প্রয়োগ করতে শুরু করেন। অথচ একসময় যে আচরণে তারা নিজেরাই বিরক্ত ও কষ্ট পেয়েছিলেন।
সচেতনতা আচরণ পরিবর্তনের প্রথম ধাপ
সাইয়্যেদ মাহদী মোহাজেরি বলেন, “অনেক সময় আমি এসব মানুষকে সচেতন করে বলি—আপনি যে আচরণে একসময় কষ্ট পেয়েছিলেন এবং যা আপনার জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করেছিল, এখন দেখুন, আপনিই সেই একই আচরণের মাধ্যমে আপনার সন্তান, পুত্রবধূ ও জামাতার জন্য তিক্ত অভিজ্ঞতা তৈরি করছেন।”
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই এই সচেতনতা একজন মানুষকে নিজের আচরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। তখন সে উপলব্ধি করে—“আপনি ঠিকই বলেছেন؛ আমি তো একই কাজ করছিলাম।” এই উপলব্ধিই তাকে কিছুটা পিছিয়ে আসতে এবং নিজের আচরণ সংশোধন করতে সাহায্য করে।
তিনি আরও বলেন, “একটু ভেবে দেখুন, আপনার জীবনে সেই হস্তক্ষেপগুলো কতটা কষ্টকর ছিল এবং সেগুলো আপনার মনে কত তিক্ত স্মৃতি তৈরি করেছে। তাই অন্যদের জন্যও একই ধরনের তিক্ত স্মৃতি তৈরি করবেন না।”
দাম্পত্য জীবনের সীমারেখা স্পষ্ট করা জরুরি
তিনি বলেন, পারিবারিক হস্তক্ষেপের আরেকটি কারণ হলো—আমাদের সমাজে পারস্পরিক সম্মান ও ঘনিষ্ঠতার কারণে অনেক সময় পরিবারের পারস্পরিক সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।
অর্থাৎ, কোনো মেয়ে বিয়ের পর নতুন পরিবার গঠন করে স্বতন্ত্র জীবন শুরু করলেও তার বাবা-মা অনেক সময় বিয়ের আগের মতোই তার জীবনে একই মাত্রায় ভূমিকা রাখতে চান। ফলে নবগঠিত পরিবার এবং মেয়েটির পূর্বের পরিবারের মধ্যে প্রয়োজনীয় সীমারেখা স্পষ্ট থাকে না।
সীমারেখা রক্ষার দায়িত্ব উভয় পক্ষের
সাইয়্যেদ মাহদী মোহাজেরির মতে, এই সীমারেখা উভয় পক্ষকেই সম্মান করতে হবে। একদিকে বাবা-মাকে তাদের বিবাহিত সন্তানদের নতুন পারিবারিক জীবনের স্বাতন্ত্র্য ও সীমারেখার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। অন্যদিকে বিবাহিত সন্তানদেরও নিজেদের নতুন জীবনের কাঠামোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে হবে এবং আগের মতো বাবা-মায়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, “তারা একটি নতুন জীবন ও নতুন পরিবার গড়ে তুলেছে। তাই নতুন পরিবারের নিজস্ব সীমারেখার মধ্যে থেকেই বাবা-মায়ের সঙ্গে যাতায়াত, সম্পর্ক ও পারস্পরিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে।”
আপনার কমেন্ট