শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ - ১৪:৩৬
ইরান ও ফিলিস্তিনের শিশুরা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিক

জাপানের একজন লেখক ‘শিশু ও শান্তির সাংস্কৃতিক সংলাপ; ইরান ও জাপানের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক বৈঠকে বলেন, ইরান ও ফিলিস্তিনের শিশুদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে ইরানি ও জাপানি অধ্যাপক, গবেষক এবং সাংস্কৃতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে অনলাইনে ‘শিশু ও শান্তির সাংস্কৃতিক সংলাপ; ইরান ও জাপানের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী সংস্কৃতি ও যোগাযোগ সংস্থার বিদেশস্থ নারী ও পরিবারবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং জাপানে ইরানের সাংস্কৃতিক কাউন্সেলরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শিশুদের অধিকার, যুদ্ধের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার এবং শান্তির সংস্কৃতি প্রসারের ক্ষেত্রে দুই দেশের মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাপানের বিশিষ্ট নাগরিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মী, গবেষক, লেখক এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণবিজ্ঞানে পিএইচডিধারী মিনাকো সাইগো। তিনি জাপানের স্বনামধন্য কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

সাইগো ‘যুদ্ধকালীন শিশুদের অধিকার নিয়ে পুনর্বিবেচনা: হিরোশিমা, নাগাসাকি ও ইরান’ শিরোনামে বক্তব্য দেন। তিনি যুদ্ধের ভয়াবহতার কারণে সৃষ্ট গভীর মানসিক আঘাত ও ট্রমা নিয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলার জীবিত প্রত্যক্ষদর্শীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে শুরু করতে অনেক সময় লেগেছিল। কারণ তাঁরা যে ভয়াবহতার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন, তা এতটাই নির্মম ছিল যে এর ফলে গভীর মানসিক আঘাত বা ট্রমা সৃষ্টি হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাঁদের অনেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এসব অভিজ্ঞতা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এ উদ্দেশ্যে অসংখ্য স্মৃতিকথা ও গ্রন্থ রেখে গেছেন।

এই জাপানি লেখক আরও বলেন, ‘আজ আমাদের দায়িত্ব হলো ইরান ও ফিলিস্তিনের শিশুদের সুরক্ষা দেওয়া এবং এমনভাবে তাদের গড়ে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবন্ত বর্ণনাকারী ও সাক্ষী হয়ে উঠতে পারে।‘

ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ এবং যুদ্ধের তিক্ত স্মৃতিগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জাপানে পারমাণবিক বোমা হামলার ভয়াবহতার পর ‘পারমাণবিক বোমা গম্বুজ’-হিরোশিমা প্রিফেকচারের শিল্প উন্নয়ন হল-ধ্বংস করার দাবি উঠেছিল। কারণ এই স্থাপনাটি ওই ঘটনার মানসিক ক্ষত ও যন্ত্রণার স্মৃতি মনে করিয়ে দিত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হিরোশিমার নাগরিকরা সেটি সংরক্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে, নাগাসাকি শহরে এই দুঃখজনক ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্থাপনা, এমনকি একটি ক্যাথলিক গির্জাও সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ ও ধ্বংস করা হয়।

সাইগো আরও বলেন, ‘ঐতিহাসিক স্মৃতিকে জীবন্ত রাখে-এমন ঐতিহ্য সংরক্ষণের গুরুত্ব বিবেচনায় আশা করা যায়, মিনাবের প্রাথমিক বিদ্যালয়টির ক্ষেত্রেও-যদিও এটি একটি বেদনাদায়ক সিদ্ধান্ত-এটিকে একটি স্থায়ী ঐতিহাসিক ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে।‘

বৈঠকের অন্য একটি অংশে মিনাব শহরের ‘শাজারায়ে তাইয়্যেবা’ বিদ্যালয় থেকে সরাসরি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় এবং রমজান যুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহ ঘটনার বিভিন্ন বাস্তব দিক তুলে ধরা হয়।

সাবেক মানবাধিকার সদর দপ্তরের সদস্য সাররাফান শান্তি ও শিশুর অধিকারসংক্রান্ত ধারণাগুলো ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি মিনাব বিদ্যালয়ের শহীদদের উচ্চ মর্যাদা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাঁদের স্মৃতি ও অবদান সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha