হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামি ফিকহে হক্কুল নাস বা মানুষের অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। মানুষের অধিকার রক্ষা করা সামাজিক নৈতিকতা বজায় রাখা এবং অন্যের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার অন্যতম শর্ত। পরনিন্দা, উপহাস কিংবা এ ধরনের মৌখিক আচরণের মাধ্যমে কারও অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তার প্রতিকার কীভাবে করা উচিত, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজির প্রতিনিধি হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন আলিয়াননেজাদের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন: কারও অনুপস্থিতিতে তাঁর পরনিন্দা করলে, সেই ব্যক্তির নিয়তে দরুদ পাঠের মাধ্যমে কি পরনিন্দার গুনাহ মাফ হয়ে যায়?
উত্তর: কোনো মুমিনের পরনিন্দা করা, তাঁকে উপহাস করা কিংবা এ ধরনের আর্থিক নয়, এমন অধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার অনুযায়ী নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে।
১. প্রথম ধাপ—সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া: যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ থাকে এবং এতে নতুন কোনো সমস্যা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির আশঙ্কা না থাকে, তাহলে অন্যায়কারী ব্যক্তির উচিত সরাসরি তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং তাঁকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করা।
২. দ্বিতীয় ধাপ—বিকল্প উপায়ে প্রতিকারের চেষ্টা: যদি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ক্ষমা চাওয়া সম্ভব না হয়—যেমন, তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন অথবা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না—কিংবা ক্ষমা চাইতে গেলে আরও বেশি বিদ্বেষ, মনোমালিন্য বা বিরোধ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে দায়িত্ব সেখানেই শেষ হয়ে যায় না। এ ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তির নিয়তে সৎকাজ ও কল্যাণমূলক আমল করতে হবে, যাতে মহান আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে হকদার ব্যক্তিকে সন্তুষ্ট করেন।
আপনার কমেন্ট