শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:৩৯
গাজায় ইসরায়েল ছয়টি পারমাণবিক বোমার সমপরিমাণ বোমা নিক্ষেপ করেছে

জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক জানিয়েছেন, গাজার জনগণের ওপর ইসরায়েল যে বোমা নিক্ষেপ করেছে, তার ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা ছয়টি পারমাণবিক বোমার সমতুল্য।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রানচেস্কা আলবানিজি গাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বক্তব্যে উপত্যকাটিতে মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহ অবনতির বিষয়ে সতর্ক করেছেন।

তিনি বহুবার গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি দখলদার শাসনের গণহত্যামূলক অপরাধের তথ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করেছেন। ইসরায়েলি অপরাধ প্রকাশ করার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়েছেন এবং নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।

আলবানিজি সতর্ক করে বলেন, অব্যাহত বোমাবর্ষণ, ব্যাপক রোগব্যাধি, অপুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার মধ্যে অবরুদ্ধ গাজার ফিলিস্তিনিরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।

গাজা যুদ্ধের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তিউনিসিয়ার রাজধানী থেকে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফ্রানচেস্কা আলবানিজি বলেন, গাজা উপত্যকায় সংঘটিত ধ্বংসযজ্ঞ এতটাই ব্যাপক যে তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ইসরায়েলের অব্যাহত বোমাবর্ষণ এই ভূখণ্ডকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে এবং সেখানকার বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয় থেকেও বঞ্চিত।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে গাজা উপত্যকায় যে পরিমাণ বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছে, তার ধ্বংসাত্মক শক্তি ছয়টি পারমাণবিক বোমার সমতুল্য। আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামোর ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের বছরগুলোতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজা উপত্যকায় প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার টন বোমা নিক্ষেপ করেছে। এর ফলে ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত, প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ আহত এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন।

জাতিসংঘের এই বিশেষ প্রতিবেদক জোর দিয়ে বলেন, গাজার পরিস্থিতির পরিণতি সম্পর্কে কয়েক মাস ও কয়েক বছর আগে যে সতর্কবার্তাগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো এখন ফিলিস্তিনিদের দৈনন্দিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। অবরোধ অব্যাহত থাকা এবং জরুরি ত্রাণসামগ্রীর প্রবেশ কমে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।

আলবানিজি উল্লেখ করেন, রোগব্যাধির বিস্তার ও অপুষ্টি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সময়ে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। বিপর্যয় অবসানের কোনো রাজনৈতিক সম্ভাবনা না থাকায় এবং মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা প্রবেশ না করায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।

ফিলিস্তিনের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক তাঁর বক্তব্যের পরবর্তী অংশে গাজায় বাস্তুচ্যুতির বিপর্যয় তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, গাজার বাসিন্দাদের উপত্যকার উত্তর ও দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। রাফাহ শহর প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৮ লাখ ফিলিস্তিনি গাজা উপত্যকার মোট আয়তনের ৩০ শতাংশেরও কম এলাকায় গাদাগাদি করে বসবাস করছেন।

আলবানিজি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কারণে ইসরায়েলি অপরাধীদের শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, প্রতিশোধ ও শক্তি প্রয়োগের নীতিতে পরিচালিত যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে ইসরায়েলের অপরাধ ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। অথচ বিশ্বজুড়ে অব্যাহত জনবিক্ষোভ ও গণআন্দোলনে গাজার বিরুদ্ধে আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হচ্ছে।

গাজার জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গণহত্যামূলক অপরাধের তথ্য-প্রমাণ নথিবদ্ধ করার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি দখলদার শাসনের নানা শত্রুতামূলক পদক্ষেপের মুখোমুখি হওয়া জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা আরও জানান, ফিলিস্তিনিদের সমর্থন এবং ইসরায়েলি অপরাধের নিন্দা জানিয়ে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাঁকে জাতিসংঘের পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য করতে তীব্র আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha