হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের বিভিন্নমুখী অভিযান তীব্রভাবে অব্যাহত থাকার মধ্যে সুপ্রিম পলিটিক্যাল কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ আলী আল-হুথি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর সাফল্যের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ অব্যাহত রাখার পরিণতি সম্পর্কে সৌদি শাসকদের সতর্ক করেন।
মোহাম্মদ আলী আল-হুথি বলেন, সৌদি শাসকগোষ্ঠীর অপরাধের জবাবে ইয়েমেনের পক্ষ থেকে কঠোর ও যন্ত্রণাদায়ক প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সশস্ত্র বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনীর বীর সদস্যদের অর্জিত বড় বড় সাফল্যের জন্য আমরা তাঁদের অভিনন্দন জানাই। তাঁদের এই বিজয় দৃঢ় ঈমান, আল্লাহর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক এবং তাঁর ওপর নির্ভরতার প্রমাণ বহন করে।
তিনি আরও বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে অংশগ্রহণকারী সব দেশকে আমরা সতর্ক করে দিচ্ছি-তাদের অপরাধ কখনোই তাদের বিজয়ের পথ তৈরি করবে না। বরং আল্লাহর ইচ্ছায় এসব কর্মকাণ্ড তাদের বড় ধরনের পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করবে।
ইয়েমেনের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, আগ্রাসনকারীরা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধ করে আসছে, সেগুলো যদি তাদের বিজয় এনে দিতে পারত, তাহলে গত ১২ বছরে সংঘটিত অপরাধগুলোর মাধ্যমেই তারা বিজয় অর্জন করতে পারত।
আল-হুথি আগ্রাসনকারীদের উদ্দেশে আরও বলেন, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে অব্যাহত যুদ্ধ ও আগ্রাসন, দেশটির ওপর অবরোধ এবং ইয়েমেনের জনগণ ও সন্তানদের রক্তের প্রতি অবজ্ঞা-এসবই তোমাদের অপরাধপ্রবণতা ও অন্যায় আগ্রাসনের প্রমাণ।
তিনি আগ্রাসনকারী বাহিনীর উদ্দেশে বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং নিজেদের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে আমরা বিশ্বাস করি, বিজয় আমাদেরই হবে। তোমাদের আগ্রাসন যত দীর্ঘই হোক না কেন, ধৈর্য ও আল্লাহর ওপর ভরসার মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করব, ইনশাআল্লাহ।
এদিকে শনিবার রাতে ইয়েমেনের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর প্রকাশের পাশাপাশি নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হামলায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি অনুযায়ী, শনিবার সৌদি আরবের রাজধানীর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী ও আনসারুল্লাহর হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে এটিকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, হামলার বিষয়ে অবগত তিনজন পশ্চিমা ও আরব কর্মকর্তা হতাহতের এই সংখ্যা জানিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না থাকায় তাঁরা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি।
পত্রিকাটি আরও লিখেছে, চলতি সপ্তাহে রিয়াদের বিমানবন্দরে আনসারুল্লাহ বাহিনীর ধারাবাহিক প্রাণঘাতী হামলা সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরিকল্পনার সামনে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাঁর পরিকল্পনা হলো রিয়াদকে বৈশ্বিক বিমান পরিবহন ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব হামলার কারণে আগামী কয়েক সপ্তাহে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনগুলোও ব্যাহত হতে পারে।
আপনার কমেন্ট