শুক্রবার ৩০ অক্টোবর ২০২৬ - ১৮:১০
ফাতিমা জাহরা (সা.আ.)-এর খুতবায়ে ফাদাকিয়া ও হজরত আলীর (আ.) বেলায়েত

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ তাহির আব্বাস নাজাফী তিনি তার খুতবায় হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.আ.)-এর ঐতিহাসিক খুতবায়ে ফাদাকিয়ার প্রকৃত তাৎপর্য এবং হজরত আলী (আ.)-এর বেলায়েতের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিশেষ আলোচনা করেন। 

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ঢালীপাড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত: ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়-হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.আ.)-এর ঐতিহাসিক খুতবায়ে ফাদাকিয়া এবং হজরত আলী (আ.)-এর বেলায়েতের প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে খুতবা প্রদান করেন হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা তাহির আব্বাস নাজাফি। 

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন মাওলানা সৈয়দ তাহির আব্বাস নাজাফী। তিনি তাঁর সুদীর্ঘ ও তথ্যবহুল আলোচনায় খুতবায়ে ফাদাকিয়ার পটভূমি, হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.আ.)-এর দরবারে উপস্থিত হওয়ার আসল উদ্দেশ্য এবং এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হওয়া বেলায়েতের মর্মবাণী নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

তিনি তাঁর আলোচনায় স্পষ্ট করেন যে, হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.আ.)-এর খুতবায়ে ফাদাকিয়া কেবলমাত্র সম্পত্তি বা ফাদাক নামক ভূখণ্ডের দাবি নিয়ে ছিল না। বরং এটি ছিল ইসলামের মৌলিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও নেতৃত্বের বৈধতা প্রতিষ্ঠার একটি দৃঢ় ও ঐতিহাসিক বার্তা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, খুতবায়ে ফাদাকিয়ার মাধ্যমে হজরত ফাতিমা জাহরা (সা.আ.) ইসলামের সত্যিকার মূল্যবোধ, খিলাফতের প্রকৃত অধিকার এবং আহলে বাইত (আ.)-এর মর্যাদা সম্পর্কে উম্মাহকে সচেতন করার প্রয়াস চালিয়েছিলেন।

মাওলানা আরও ব্যাখ্যা করেন যে, হজরত আলী (আ.)-এর বেলায়েত বা নেতৃত্বের প্রকৃত উদ্দেশ্য কখনোই ব্যক্তিগত ক্ষমতা বা পদমর্যাদা অর্জন ছিল না। বরং এর মূল লক্ষ্য ছিল ইসলামের সত্যিকারের মূল্যবোধ, ইনসাফ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা এবং রাসূল (সা.)-এর দেখানো পথে উম্মাহকে পরিচালিত করা। 

তিনি বলেন, খুতবায়ে ফাদাকিয়া ও বেলায়েতের বিষয়টি পরস্পর সম্পর্কিত-উভয়ই ইসলামের প্রকৃত নেতৃত্ব ও ন্যায়ের প্রশ্নে আহলে বাইত (আ.)-এর অবস্থানকে তুলে ধরে।

নামাজে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, যুবক ও শুভানুধ্যায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। মাওলানার গভীর ও তথ্যবহুল আলোচনা শেষে উপস্থিতদের মধ্যে ইসলামের ইতিহাস, খুতবায়ে ফাদাকিয়ার তাৎপর্য এবং আহলে বাইত (আ.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে জানার আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।

এই ধরনের খুতবা প্রমাণ করে যে, ইসলামের ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এ ধরনের বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। খুতবায়ে ফাদাকিয়া ও বেলায়েতের মূল বার্তা-ন্যায়, সত্য ও আহলে বাইত (আ.)-এর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা-আজও মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রাসঙ্গিক ও প্রেরণাদায়ক বলে আলেমরা মনে করেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha