শনিবার ৮ মার্চ ২০২৫ - ১২:০০
রমজান এবং রোযাদারের মর্যাদা

রমজান এবং রোযাদারের মর্যাদা: কুরান ও হাদীসের দৃষ্টিতে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,

ভূমিকা:
রমজান হলো আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাস। এটি শুধুমাত্র উপবাসের মাস নয়; বরং এটি আত্মসংযম, ধৈর্য ও ইবাদতের মাধ্যমে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাস। কুরআন ও আহলুল বায়েত (আ.)-এর শিক্ষায় রমজান ও রোজাদারের বিশেষ মর্যাদা তুলে ধরা হয়েছে। এই প্রবন্ধে আমরা রোজাদারের মর্যাদা কুরআনের আয়াত ও আহলুল বায়েত (আ.)-এর হাদীসের আলোকে আলোচনা করবো।

রোজার গুরুত্ব ও মর্যাদা: কুরআনের আলোকে

১. তাকওয়া অর্জনের মাধ্যম:

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেন:
 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।"
(সুরা বাকারা: ১৮৩)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, রোজার প্রধান লক্ষ্য হলো তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন। রোজা মানুষকে ইচ্ছাশক্তি ও আত্মসংযমের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভে সহায়তা করে।আমাদের জন্য পবিত্র রমজান মাস একটি উত্তম সময় ও সুযোগ আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের।

২. রোজা সরাসরি আল্লাহর জন্য:

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
قالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ

"আল্লাহ তাআলা বলেন: আদম সন্তানের প্রতিটি আমল তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা শুধুমাত্র আমার জন্য, এবং আমিই এর প্রতিদান দেব।"
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯০৪)

এই হাদীসের মাধ্যমে বোঝা যায়, রোজার মর্যাদা এত বেশি যে, এর প্রতিদান স্বয়ং আল্লাহ নির্ধারণ করবেন।

রোজাদারের মর্যাদা: আহলুল বায়েত (আ.)-এর হাদীসের আলোকে

১. রোজাদারের মুখের গন্ধ জান্নাতের সুগন্ধের চেয়ে উত্তম:
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন:
 "যে ব্যক্তি রমজান মাসে রোজা রাখে, তার মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশকের সুগন্ধের চেয়েও প্রিয়।"
(বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৯৬, পৃষ্ঠা ৩৭৪)

আল্লাহ রোজাদারের প্রতিটি কষ্ট ও ত্যাগকে ভালোবাসেন এবং এর প্রতিদান অনন্ত কল্যাণের মাধ্যমে দেন।

২. ইমাম আলী (আ.)-এর বাণী:

আমিরুল মুমিনিন ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:
"রোজা হলো অন্তরের জাকাত, আর দেহের জন্য রোজা হলো শুদ্ধির কারণ।"
(গুরারুল হিকাম, হাদিস: ৩১৪১)

রোজা দেহ ও আত্মার পরিশুদ্ধি নিশ্চিত করে এবং মানুষের মধ্যে আত্মসংযমের গুণ সৃষ্টি করে।

৩. ইমাম সাদিক (আ.)-এর বাণী:

ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেন:
 "রোজাদার ব্যক্তি যখন ঘুমিয়ে থাকে, তখনও সে ইবাদতের সওয়াব লাভ করে।"
(আল-কাফি, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৪)

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, রোজাদারের প্রতিটি মুহূর্ত, এমনকি তার বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়।

রমজানের শেষ দশকের বিশেষ মর্যাদা:

রমজানের শেষ দশক হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়, বিশেষ করে লাইলাতুল কদর বা কদরের রাত, যা এক হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।

 لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ
"কদরের রাত এক হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।"
(সুরা কদর: ৩)

এই রাতের ইবাদত, দোয়া ও আত্মবিশ্লেষণ মানুষকে জান্নাতের পথে এগিয়ে দেয়।আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা আমাদেরকে স্পষ্ট ভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, এই মাসে তোমরা আমার মেহমান আমি তোমাদের আমন্ত্রণ করেছি এবং আল্লাহর মেহমানদারী সব থেকে উত্তম তার উজ্জ্বল প্রমাণ কুরআনের বিভিন্ন আয়াত ও মাসুমীন(আঃ) গণের হাদীসে  প্রমাণিত ও স্পষ্ট।

উপসংহার

রমজান মাসে রোজাদার ব্যক্তির মর্যাদা সীমাহীন। কুরআন ও আহলুল বায়েত (আ.)-এর বাণী থেকে বোঝা যায় যে, রোজা শুধু শারীরিক উপবাস নয়, বরং এটি আত্মার পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক মহা সুযোগ। আমাদের উচিত এই বরকতময় মাসের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো, বেশি বেশি ইবাদত করা এবং রোজার মাধ্যমে আত্মগঠনের চেষ্টা করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে রোজার পূর্ণ ফায়দা লাভের তৌফিক দান করুন।

লেখক: কবির আলী তরফদার কুম্মী।
তারিখ:০৭/০৩/২০২৫

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha