হাওজা নিউজ এজেন্সি: মহান আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমলী এক বার্তায় কুদস দিবসের মিছিলে ব্যাপক অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “কুদস দিবসের মিছিল একটি ঐশী বিধান এবং ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর অমূল্য স্মারক। এটি কোনো জাতীয়, স্থানীয়, গোত্রীয় বা বর্ণভিত্তিক ইবাদত নয়; বরং এটি ইসলামের আন্তর্জাতিক তাওয়াল্লী ও তাবাররার অন্তর্ভুক্ত।”
তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের ঘটনায় মাজলুমদের প্রতি সমর্থন ও ইসরাইলি নরঘাতকদের প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য। এ ধরনের অধিকারসমূহ আল্লাহ প্রদত্ত, যা ঐশ্বরিক নেতৃত্বের সাথে সম্পর্কিত এবং নবীদের উত্তরাধিকার। একদিকে একদল মানুষের ভূমি সুপরিকল্পিতভাবে দখল করা হয়েছে, অন্যদিকে বহু মানুষকে তাদের মাতৃভূমি থেকে সত্তর বছরেরও বেশি সময় ধরে বিতাড়িত করা হয়েছে। একটি মহান জাতির ওপর স্পষ্ট ও চরম জুলুম চালানো হয়েছে। আর এই জুলুমের চূড়ান্ত রূপ হলো ইসরাইলের গণহত্যা—যেখানে দীর্ঘদিন ধরে শিশু, নারী ও নিরপরাধ মানুষ নৃশংসভাবে হত্যার শিকার হচ্ছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাই প্রত্যেকেরই কর্তব্য মজলুমদের পাশে দাঁড়ানো ও জালিমদের প্রত্যাখ্যান করা।
তিনি মিছিলে অংশগ্রহণের সময় নিম্নোক্ত নিয়ত করার পরামর্শ দেন:
"এই মিছিলে অংশ নিয়ে:
- দুনিয়া ও আখিরাতের সওয়াব অর্জন করুন,
- রাজনৈতিক-সামাজিক ও ধর্মীয় কল্যাণ লাভ করুন,
- সকল উদ্দেশ্যকে একত্র করে কুরবতের নিয়ত করুন:
- ঐশ্বরিক মতবাদসমূহের সম্মানে,
- ঐশ্বরিক নেতাদের সম্মানে,
- পবিত্র কুরআনের সম্মানে,
- আহলে বাইত (আ.)-এর বাণীর সম্মানে,
- রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইসরা ও মিরাজের সম্মানে।
কারণ, কোনো আমল যদি একাধিক সওয়াবের সমন্বয় হয় এবং মানুষ তা কুরবতের নিয়তে করে, তবে সে অগণিত পুরস্কার পাবে।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “অতএব, আমাদের কর্তব্য:
১. এই মিছিলে অংশ নেওয়া,
২. তাওয়াল্লী ও তাবাররার নিয়ত রাখা,
৩. এটিকে পূর্ণাঙ্গ করা—অর্থাৎ সকল উদ্দেশ্য সামনে রেখে কুদসের পথে শহীদদের স্মরণে অগ্রসর হওয়া। আল্লাহ যেন আমাদের পদযাত্রাকে দুনিয়া ও আখিরাতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই পথে যে পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা যেন অটল থাকে।"
তিনি শেষে আশাবাদ ব্যক্ত করেন:
“আমরা আশা করি, আল্লাহর শক্তি ও পরাক্রমের বরকতে এই ১৪০৪ হিজরি সৌর বছরেই (২০২৫) গাজাবাসীর মাজলুমিয়াত ও ইসরাইলি দখলদারদের জুলুমের অবসান ঘটবে।”
পুরো বিবৃতি নিম্নরূপ:
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সমস্ত নবী, রাসূল, হেদায়াতকারী ইমাম, মাহদীগণ ও ফাতিমা যাহরা (সা.আ.) এর উপর সালাত বর্ষিত হোক। আমরা তাদেরকে অবলম্বন করি এবং তাদের শত্রুদের থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাই।
কুদস দিবসের মিছিল, যা একটি ঐশ্বরিক ঐতিহ্য এবং ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর একটি অবদান, এটি কোনো জাতীয়, স্থানীয়, গোত্রগত বা বর্ণগত ইবাদত নয়। এটি ইসলামের আন্তর্জাতিক পর্যায়ের 'তাওয়াল্লা' (মুমিনদের প্রতি ভালোবাসা) ও 'তাবাররা' (শত্রুদের ঘৃণা ও থেকে দূরত্ব) এর অংশ। কারণ একদিকে ইব্রাহিমী নবীদের মাক্বাম (মর্যাদা) লঙ্ঘন করা হয়েছে, অন্যদিকে ইব্রাহিম খলীল, মূসা কালীম ও ঈসা মাসীহ (সকলের উপর শান্তি বর্ষিত হোক)-এর নির্দেশনা ও বাণীসমূহ অবমাননা করা হয়েছে। তাদের আসমানী কিতাবসমূহ, তাদের নূরানী বাণী এবং পবিত্র কুরআনের সম্মানও উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইসরা ও মিরাজের ঘটনাকেও অগ্রাহ্য করা হয়েছে।
এ ধরনের অধিকার হল আল্লাহর অধিকার, যা নবীদের সাথে সম্পর্কিত, ওহীর সাথে সম্পর্কিত এবং নবীদের শিক্ষার সাথে জড়িত। অন্যদিকে, একটি সম্প্রদায়ের ভূমি জ্ঞাতসারে ও ইচ্ছাকৃতভাবে দখল করা হয়েছে, এবং সত্তর বছরেরও বেশি সময় ধরে বহু মানুষ তাদের মাতৃভূমি থেকে বঞ্চিত হয়েছে। একটি মহান জাতির উপর স্পষ্ট ও ভয়াবহ জুলুম চালানো হয়েছে। আর এই জুলুমের উপর যুক্ত হয়েছে ইসরাইলের গণহত্যা, যা দীর্ঘদিন ধরে শিশু, নারী ও নিরপরাধ মানুষদের রক্তে রঞ্জিত করছে। এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা একটি বৈশ্বিক বিষয়, এবং প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব হল মজলুমদের প্রতি ভালোবাসা ও জালিমদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা।
এখন ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্য পালন করা হচ্ছে। যারা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করছেন, তারা যেন দুনিয়া ও আখেরাতের সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে, অর্থাৎ রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয় ও ইবাদতের সকল কল্যাণ লাভের জন্য এই মিছিলে শরিক হন। আসমানী মাক্বামাত, নবীদের শিক্ষা, পবিত্র কুরআন, আহলে বাইত (আ.)-এর বাণী, রাসূল (সা.)-এর ইসরা ও মিরাজের সম্মানার্থে এই মিছিলে অংশ নিন।
তাওয়াল্লা ও তাবাররা ইসলামের একটি মৌলিক নির্দেশনা, যা কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাময়িক, কোনোটি স্থানীয়, কোনোটি জাতীয় এবং কোনোটি আন্তর্জাতিক। এই মিছিলে অংশগ্রহণ করে আমরা যেন সকল প্রকার কল্যাণ লাভ করতে পারি, সকল উদ্দেশ্যকে 'কুরবতান ইলাল্লাহ' (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) হিসাবে গ্রহণ করি। কারণ যদি কোনো আমলে একাধিক উদ্দেশ্য থাকে এবং মানুষ সবগুলোকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করে, তবে সে বহুগুণ সওয়াব পাবে।
যারা কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নিচ্ছেন, তারা শুধু গাজায় নিহত শিশু, নারী ও নিরপরাধ মানুষদের কথা ভাববেন না, বরং অতীত নবীদের মাক্বাম, আসমানী কিতাবসমূহ, পবিত্র কুরআনের সম্মান, রাসূল (সা.)-এর মর্যাদা এবং ইসরা ও মিরাজের ঘটনাকেও স্মরণ করবেন। যেন এই মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সাথে সকল প্রকার ফজিলত ও কল্যাণ সংযুক্ত হয়।
إِنَّ رَبَّکَ لَبِالْمِرْصَادِ
নিশ্চয়ই তোমার রব সদা পর্যবেক্ষণ করছেন।” (সূরা আল-ফজর, আয়াত ১৪)
আল্লাহর শাস্তি খুব কাছেই রয়েছে। কেউ যেন না মনে করে যে ইসরাইল, যার পশ্চিমা বিশ্বের সমর্থন রয়েছে এবং আমেরিকা যাকে সাহায্য করছে, সে এই জুলুম চালিয়ে যেতে পারবে—কখনই নয়! আল্লাহর শাস্তি, তাঁর ক্রোধ ও প্রতিশোধ খুব নিকটে।
অতএব, আমাদের সকলের প্রথম দায়িত্ব হল এই মিছিলে অংশগ্রহণ করা। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ জ্ঞান ও উপলব্ধি অনুযায়ী তাওয়াল্লা ও তাবাররা করে। তৃতীয়ত, আমরা যেন সকল উদ্দেশ্যকে একত্রিত করি, অর্থাৎ সকল দিক বিবেচনা করে কুরবতান ইলাল্লাহর নিয়তে এই মিছিলে অংশ নিই এবং এই পথের শহীদদের সম্মান করি। যেন আল্লাহ তাআলা আমাদের এই পদক্ষেপগুলোকে দুনিয়া ও আখেরাতে প্রতিষ্ঠিত করেন। এই পথে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তা যেন কোনো দিন বিফল না হয়।
যেসব ভাই, বোন, মা, বাবা, ছেলে, মেয়েরা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করছেন, তারা যেন সকল দিক বিবেচনা করে এবং শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এগিয়ে যান। যেন পবিত্র সত্তা আমাদের এই পবিত্র নিয়ত ও সম্মানিত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে দুনিয়া ও আখেরাতের সওয়াব দান করেন এবং সেই জালিমকে দ্রুত উৎখাত করেন। কারণ, “নিশ্চয়ই তোমার রব সদা পর্যবেক্ষণ করছেন।"
আমরা আশা করি, এই ১৪০৪ হিজরি সন (২০২৫ সাল) আল্লাহর শক্তি ও প্রতাপের বরকতে গাজাবাসীর মাজলুমিয়াতের এবং ইসরাইলের জুলুমের সমাপ্তির বছর হবে!
“আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন, তোমাদের উপর শান্তি, রহমত ও আল্লাহর বারাকাত বর্ষিত হোক।”
«غفر الله لکم و السلام علیکم و رحمة الله و برکاته»
আপনার কমেন্ট