হাওজা নিউজ এজেন্সি: মরহুম আল্লামা তাবাতাবায়ী (রহ.) সামারাতুল হায়াহ গ্রন্থে বলেন, “যিনি বিপদে থাকেন, কিন্তু বিপদপ্রদানের প্রতি উদাসীন নন এবং সচেতন যে যা কিছু তার ওপর আসে তা আল্লাহ্র ইচ্ছা অনুযায়ী ঘটে, তাঁর জন্য সেই বিপদ আসলেই বিপদ নয়। বিপদ বা কষ্ট তখনই কষ্টদায়ক হয়, যখন কেউ বিপদপ্রদানের প্রতি উদাসীন থাকে।”
এটি আমাদের শিক্ষা দেয় যে, বিপদ ও পরীক্ষা শুধু বাহ্যিক ঘটনা নয়। এর প্রভাব নির্ভর করে মানুষের মনোভাব, সচেতনতা ও বিশ্বাসের উপর।
• যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখে, এবং বিপদকে তাঁর ইচ্ছার অংশ হিসেবে গ্রহণ করে, তার জন্য বিপদ আত্মিক উন্নতির সুযোগ, ধৈর্য, ধ্যান ও নৈতিক শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়।
• অন্যদিকে যে ব্যক্তি আল্লাহ্র উপস্থিতি ভুলে যায় এবং কেবল বাইরের বিপদ বা সমস্যার দিকে মনোযোগ দেয়, তার জন্য সেই বিপদ কেবল ক্ষতি, হতাশা ও কষ্ট হিসেবে প্রকাশ পায়।
সুতরাং, বিপদ বা পরীক্ষা একদিকে যেমন মানুষকে পরীক্ষা করে, অন্যদিকে সঠিক মনোভাব ও সচেতনতা থাকলে এটি মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে দৃঢ়, নৈতিকভাবে উন্নত এবং আল্লাহর প্রতি আরও নিবেদিত করে।
এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, বিপদ বা পরীক্ষার প্রকৃত ক্ষতি নির্ভর করে মানুষের সচেতনতা, বিশ্বাস ও আত্মিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর। সত্যিকারের বিপদভোগী কেবল বাহ্যিক কষ্টে নয়, বরং সেই কষ্টের মাধ্যমে আল্লাহর উদ্দেশ্য ও শিক্ষা উপলব্ধি না করতে পারার মধ্যেই নিহিত।
এটি আমাদেরকে শেখায়, প্রতিটি বিপদ ও পরীক্ষা একটি শিক্ষা ও আত্মিক বিকাশের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। বিপদে থাকা মানেই ক্ষতি নয়; আল্লাহ্র প্রতি সচেতন থাকা ও তাঁর ইচ্ছাকে মান্য করা মানেই সেই বিপদ হয়ে ওঠে সাফল্য, শিক্ষা ও নৈতিক উৎকর্ষের মাধ্যম।
সূত্র: আল্লামা তাবাতাবায়ী (রহ.), সামারাতুল হায়াহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫১।
আপনার কমেন্ট