মাওলানা মোহাম্মদ আমিন রাস্তি হাওজা নিউজ এজেন্সি'র সাথে সাক্ষাৎকারে ইরানের কুর্দিস্তান প্রদেশের পক্ষ থেকে কুদস দিবসের বৈশ্বিক মিছিলের প্রসঙ্গে বলেন, “কুদস দিবস সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে মুসলিম ভাইদের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।”
সানন্দজ শহরের আধ্যাত্মিক ও ফতোয়া পরিষদের সদস্য বলেন, “ইমাম খোমেনি (রহ.) তাঁর দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাময় দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে প্রথম কিবলা আল-আকসাকে বিস্মৃতির হাত থেকে রক্ষা করতে রমজান মাসের শেষ শুক্রবারকে বিশ্ব কুদস দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। ইমাম খোমেনির এই মহান উদ্যোগের ফলে আল-কুদস ইস্যু পুনরায় বিশ্ব মুসলিমের প্রধান ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।”
এই আহলে সুন্নাত আলেম জোর দিয়ে বলেন, “সকল মুসলিম জাতি এমনকি অমুসলিম জাতি ও মুক্তচেতা মানুষরা কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নিয়ে কার্যত অত্যাচারী ও অত্যাচার থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্নতা ঘোষণা করেন।”
তিনি আরও বলেন, “কুদস দিবসের মিছিলে অংশগ্রহণ প্রতিটি মুসলিমের জন্য ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আজ আমরা দেখছি ফিলিস্তিনি ও গাজাবাসী ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের ভয়াবহ বোমাবর্ষণের শিকার। এই প্রসঙ্গে নিশ্চুপ থাকা হারাম। আমাদের মুসলিমদের এ বিষয়ে নিশ্চুপ থাকা উচিত নয়।”
সানন্দজ শহরের আধ্যাত্মিক ও ফতোয়া পরিষদের সদস্য যোগ করেন, “কোনো প্রভাবিত ব্যক্তির মতো ফিলিস্তিন ইস্যুকে শুধুমাত্র আরব বিশ্ব বা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিষয় বলে মনে করা উচিত নয়। বরং আল-কুদস, ফিলিস্তিন ও গাজার ইস্যু একটি বৈশ্বিক ও ইসলামী ইস্যু। আমাদের আরও বেশি কাজ করে ও জিহাদী চেতনা নিয়ে এই ইস্যুকে বিশ্বব্যাপী প্রচার করতে হবে, ইনশাআল্লাহ আমরা আল-কুদস শরীফকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্রের কবল থেকে মুক্ত হতে দেখব।”
মাওলানা রাস্তি আরও বলেন, “আজ আমরা আবারও গাজা ও ফিলিস্তিনের মানুষের উপর ইহুদিবাদীদের অপরাধ বৃদ্ধি দেখছি। পাশ্চাত্য বিশেষ করে আমেরিকা ও ব্রিটেনের দেওয়া বোমা দিয়ে ইহুদিবাদীরা প্রতিমুহূর্তে নিরস্ত্র গাজা ও ফিলিস্তিনের মানুষকে হত্যা করছে। এতবড় মানবতাবিরোধী অপরাধের মুখে নিশ্চুপ থাকা ইসলাম ও কুরআনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।”
সানন্দজ শহরের ভারপ্রাপ্ত ইমাম জুমা বলেন, “নিঃসন্দেহে অত্যাচারী বিশেষ করে ইহুদিবাদী ও তাদের মালিকদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে শেষ বিজয় প্রতিরোধ ফ্রন্ট, ফিলিস্তিনি জাতি ও গাজাবাসীর হবে। তাই মুসলিমরা অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে বিজয় ও আল-কুদস শরীফকে বিশ্ব ইহুদিবাদ থেকে মুক্ত করা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।”
মাওলানা রাস্তি শেষে বলেন, “কুর্দিস্তান প্রদেশ ও এর অধীনস্থ শহরগুলোর জনগণ আগামীকাল দেশের অন্যান্য নাগরিকদের সাথে ঐতিহাসিক ও বীরত্বপূর্ণভাবে বিশ্ব কুদস দিবসের মিছিলে অংশ নেবে। তারা প্রমাণ করবে যে ইরানি জাতি সবসময় নির্যাতিতদের পাশে আছে এবং থাকবে।”
আপনার কমেন্ট