হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের খোরাসান প্রদেশের ইসলামী হিকমত উচ্চ পরিষদের নির্বাহী পরিচালক তার নিবন্ধে লিখেছেন,
“আল-কুদস আমাদেরই হবে, বিজয় আমাদেরই হবে।
শান্তি বর্ষিত হোক পবিত্র আল-কুদসে,
শান্তি বর্ষিত হোক মজলুম ফিলিস্তিনে,
শান্তি বর্ষিত হোক আমাদের প্রথম কিবলায়,
শান্তি বর্ষিত হোক আমানতের মেরাজ স্থলে।”
তিনি গভীর বিশ্লেষণধর্মী ভাষায় ব্যাখ্যা করেন যে ফিলিস্তিন ভূমি ও পবিত্র বাইতুল মুকাদ্দাস সবযুগেই সমস্ত ঐশী ধর্মের অনুসারীদের কাছে বিশেষ মর্যাদার স্থান দখল করে আছে। মুসলিম উম্মাহ বিশেষ কিছু ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কারণে বাইতুল মুকাদ্দাসকে নিজেদের অস্তিত্বের অংশ মনে করেন,
১. এটি মুসলিম উম্মাহর প্রথম কিবলা
২. এটি নবী করিম (সা.)-এর ঐতিহাসিক মেরাজের স্থান, যেখানে ১৭ রমজানুল মুবারকের রাতে তিনি মক্কা মুকাররমা থেকে পবিত্র ভ্রমণ করে আসেন এবং সমস্ত নবীদের ইমামতি করে নামাজ আদায় করেন, এরপর সেখান থেকেই তাঁর ঐশী মেরাজ শুরু হয়েছিল।
খোরাসানি তার নিবন্ধে দৃঢ়তার সাথে লিখেন, ফিলিস্তিনের প্রতি আমাদের নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক সমর্থন অব্যাহত থাকবে। প্রথমত, ফিলিস্তিনের নিরীহ জনগণ যে বর্বরোচিত অত্যাচার ও গণহত্যার শিকার হচ্ছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। কেননা রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মুসলমানদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন না থাকে, সে মুসলমান নয়।"
দ্বিতীয়ত, ফিলিস্তিন আজ ইসরাইলি দখলদারিত্ব ও উগ্র সায়োনিস্ট মতবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামের প্রধান ঘাঁটি।
তিনি আরও লিখেন, ইসরায়েল একটি অবৈধ রাষ্ট্র এবং সায়োনিজম একটি হিংস্র মতবাদ, যারা “গ্রেটার ইসরায়েল” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা নীলনদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ১৯৪৮ সাল থেকে ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠার পর, তাদের কার্যক্রম এটাই প্রমাণ করে যে তারা শুধুমাত্র ফিলিস্তিনের ভূমিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না, বরং তারা একটি বৃহত্তর ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে।
আর এর জন্য তারা ইরানসহ প্রতিবেশী অন্যান্য দেশগুলির ভূমি বিচ্ছিন্ন করে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে চায়। এই ব্যাপারে তাদের কার্যকলাপের প্রমাণ স্পষ্ট, যেমন তারা দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানসহ, লেবানন, সিরিয়া, জর্দান, মিশর এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশে অগ্রসর হচ্ছে। যদি ইসরায়েল কোনো বিরোধিতার মুখোমুখি না হয়, যদি ইসরায়েল মুসলিম দেশগুলিকে নিষ্ক্রিয় দেখতে পায়, তবে এটি নিশ্চিত যে কোনো মুসলিম দেশ, বিশেষত ইসলামী ইরান- নিরাপদ থাকবে না। তারা কখনোই মুসলমানদের বা অন্যদের শান্তি এবং নিরাপত্তা দিতে চাইবে না, কারণ তারা কেবল ইহুদিদেরকেই শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মনে করে। তাই, আমাদেরকে ইসরায়েল এবং তার উগ্রবাদী চিন্তাধারাকে শুরুতেই প্রতিরোধ করতে হবে।
তিনি বলপন, আমাদের ইসরায়েলের হুমকি এবং আক্রমণের পরিকল্পনা থামাতে হবে। তাদের বুঝিয়ে দিতে হবে যে, ইসলামি জাতি, বিশেষত ইসলামি ইরানের সাহসী পুরুষ ও মহিলারা, সর্বদা ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় অটুট রয়েছেন।
তিনি বিশ্ববাসীকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ইসরাইল একটি অবৈধ রাষ্ট্র যারা 'নীল নদ থেকে ফোরাত নদ পর্যন্ত' বিস্তৃত 'বৃহত্তর ইসরাইল' প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে। ১৯৪৮ সাল থেকে তাদের সাম্রাজ্যবাদী কার্যক্রম প্রমাণ করে যে তারা শুধু ফিলিস্তিন ভূমিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং তারা ইরানসহ পার্শ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর ভূ-খণ্ড দখলের পরিকল্পনা করছে।”
ইসলামী হিকমত উচ্চ পরিষদের এই বিশিষ্ট নেতা জোর দিয়ে বলেন, “আন্তর্জাতিক কুদস দিবস ইসলামী বিপ্লবের একটি অনন্য অর্জন, যা ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর দূরদর্শী চিন্তা ও নেতৃত্বের ফসল। শহীদ কাসেম সোলাইমানি, সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহ, শহীদ হানিয়াসহ অসংখ্য বীর মুজাহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের সংগ্রামে নতুন প্রেরণা যুগিয়েছে।”
তিনি তার ঐতিহাসিক বক্তব্য শেষ করেন এভাবে, “আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের মূল চাবিকাঠি হলো মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ, রাসূল (সা.) ও আহলে বাইত (আ.)-এর শিক্ষার প্রতি অবিচল আনুগত্য এবং ইসলামী বিপ্লবের পথে অটল থাকা।”
মোহাম্মদ বাকের খোরাসানি,
২৬ রমজানুল মুবারক ১৪৪৬ হিজরি,
৭ ফারভার্দিন ১৪০৪ সৌরবর্ষ।
আপনার কমেন্ট