হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
ইতিহাসে কিছু দৃশ্য আছে, যেগুলো সময় বদলালেও প্রকৃতি বদলায় না। স্থান বদলায়, চরিত্র বদলায়, ভাষা বদলায়— কিন্তু ক্ষমতার চরিত্র একই থাকে। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলাই ঢুকে সে দেশের রাস্ট্র প্রধান তুলে এনেছে তুলনামূলক বিচারে শান্তির সাথে৷
কেন না কারোর ঘরে ঢুকে তাকে অপমান করা, তার গৃহে ঢুকে ঘরের মালিক'কে আঘাত করে হত্যা করা বা পুরুষকে দড়িতে বেঁধে তুলে নিয়ে যাওয়া, বা নিরাপত্তা কেড়ে নেওয়া, আর সেই অন্যায়কে “বৃহত্তর স্বার্থ”-এর নামে বৈধতা দেওয়া— এই প্রক্রিয়া মানবসভ্যতার এক পুরোনো ব্যাধি। ১৪০০ বছর আগে মদিন 'তেও এমন করা হয়েছিল৷
(১.) নবীকন্যার গৃহ : ধর্মের ভেতরে ক্ষমতার অনুপ্রবেশঃ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওফাতের পরেই মুসলিম সমাজ এক গভীর রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যায়। নেতৃত্বের প্রশ্নে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, তা কেবল মতভেদ ছিল না—তা ছিল ক্ষমতা দখলের লোভের চাপ৷
এই লোভের অধ্যায়ে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় হলো নবীকন্যা হযরত ফাতিমা (সা.)-এর গৃহে অনুপ্রবেশ ও হত্যাকান্ড সংঘটিত করার ঘটনা এক বিরল লজ্জাজনক বেদনাদায়ক ঘটনা৷
ফাতিমা (সা.) ছিলেন কেবল নবীর কন্যা নন— তিনি ছিলেন নৈতিকতার প্রতীক, আধ্যাত্মিক পবিত্রতার মূর্ত প্রতিচ্ছবি। এ প্রসঙ্গে নবী (সা.) নিজেই বলেছেন—
“ফাতিমা আমার দেহের অংশ।” তবু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ক্ষমতার দাবির মুখে সেই অহীর ঘরও রেহাই পায়নি।
ট্রাম্পের আব্বাজী গৃহে জোরপূর্বক প্রবেশ করে নবীকন্যার পাঁজরের হাড় ভেঙে দেয়৷ শারীরিক আঘাত, এবং সেই আঘাতের পরিণতিতে নবীকন্যার অকাল বিদায়— এই ঘটনাগুলো কেবল ধর্মীয় বর্ণনা নয়, এগুলো নৈতিক দর্শনের ভয়াবহ ব্যর্থতা।
সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি এখানে— যদি নবীকন্যার ঘর নিরাপদ না থাকে, তবে ভেনেজুয়েলার রাস্ট্র প্রধানের ঘর তো অতি সাধারণ মানুষের ঘর৷
(২.) ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধানের ঘর : আধুনিক রাষ্ট্রের মুখোশঃ আজকের বিশ্বে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপকে বলা হয়— “গণতন্ত্র রক্ষা”, “মানবাধিকার”, “জাতীয় নিরাপত্তা”।
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রপ্রধান নিকোলাস মাদুরোর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য ষড়যন্ত্র, রাষ্ট্রক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা— এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।
বরং ১৪০০ বছপ পূর্বে ট্রাম্পের শিক্ষাগুরু আব্বাজী এই ঘরে প্রবেশ করে ঘরের মালিককে হামলা করার কাজটি করেছেন৷
এখানেও মূল প্রশ্নটি একই— কার অধিকার আছে কার ঘরে ঢোকার? এখানে ঘর মানে কেবল একটি বাসভবন নয়— ঘর মানে একটি রাষ্ট্র, একটি সার্বভৌম সিদ্ধান্ত,
একটি জনগণের আত্মমর্যাদা। তেলের লোভ, ভূ-রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বক্ষমতার আধিপত্য—
এই আধুনিক কারণগুলো আসলে সেই ১৪০০ বছর পুর্বে মদিনার পুরোনো লোভেরই নতুন ভাষা।
(৩) দার্শনিক মিল : লোভের রং বদলায়, চরিত্র নয়ঃ ১৪০০ বছর পূর্বে ট্রাম্পের আব্বা দ্বারা মদিনার ঘটনা ছিল নেতৃত্বের লোভে, আর ভেনেজুয়েলার কারাকাসের ঘটনা ঘটছে তেল সম্পদের লোভে। ১৪০০ বছর আগে মদিনা থেকে বলা হয়েছিল বলা হয়েছিল— নবীকন্যার ঘর আক্রমণ “উম্মাহর স্বার্থে করা হলো”
আর আজ ট্রাম্প বলছে — “গণতন্ত্রের স্বার্থে করা হলো।”
— দুটো ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী নীরব, ক্ষমতাবান বিজয়ী,
আর ইতিহাস লেখা হয় শক্তিশালীর কলমে।
(৪.) ধর্মীয় শিক্ষা বনাম ক্ষমতার বাস্তবতাঃ ইসলাম শিক্ষা দেয়— অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে,
জালিমের সামনে সত্য বলতে, কারোর ঘরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ না করতে। কিন্তু ইতিহাস দেখায়—
যখন ধর্ম ক্ষমতার হাতিয়ার হয়, তখন ধর্মের নৈতিকতা
প্রথমেই বিসর্জন যায়। নবীকন্যার ফাতিমার (সাঃ আঃ)-এর গৃহ আক্রমণ এই সত্যের সবচেয়ে বেদনাদায়ক প্রমাণ। ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন ১৪০০ বছর পুর্বের আধুনিক পুনরাবৃত্তি করলো ট্রাম্প।
মদিনা থেকে কারাকাস— পথ দীর্ঘ, কিন্তু দর্শন এক। যে সভ্যতা নবীকন্যার কান্নাকে উপেক্ষা করতে পারে, সে সভ্যতা আজও একটি দেশের স্বাধীনতাকে তুচ্ছ করবে,
এটাই স্বাভাবিক। প্রশ্ন ট্রাম্পের নোবেল পাওয়া নয়,
প্রশ্ন হলো— আমরা কি এখনও বুঝতে পারিনি ঘর আক্রমণ কখনোই শান্তি নয়, তা যত ধর্মীয় বা রাষ্ট্রীয় ভাষাতেই ঢেকে রাখা হোক।
আপনার কমেন্ট