হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের মজলুমদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান: খুলনায় আল-কুদস দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত
খুলনা, ২৮ মার্চ ২০২৫: ইমাম খোমেনী (রহ.) প্রবর্তিত ‘আল-কুদস দিবস’ উপলক্ষে খুলনার টুটপাড়া কবরখানা মোড়ে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জাফরিয়া রিডার্স সোসাইটি, খুলনা-এর আয়োজনে এই মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা এবং সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ফিলিস্তিনের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে সংহতি প্রকাশ
মানববন্ধনে বক্তারা ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন এবং দখলদার ইসরায়েলের বর্বর হামলার নিন্দা জানান। বক্তারা বলেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য ফিলিস্তিন শুধু একটি ভূখণ্ড নয়; বরং এটি তাদের আকিদা ও ঈমানের একটি অংশ।
বক্তব্যসমূহ
মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খলীল রাজাভী
বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ ও গবেষক মাওলানা সৈয়দ ইব্রাহিম খলীল রাজাভী তার বক্তব্যে বলেন:
"ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মুসলমানদের রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। এটি শুধু আরবদের নয়, বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর দায়িত্ব। ইমাম খোমেনী (রহ.) বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কোনো জাতিগত বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি ইসলামের পবিত্র আমানত। আমরা সকল মুসলমানের উচিত, একতাবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনের জন্য আওয়াজ তোলা এবং জালিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।"
তিনি আরও বলেন, “যারা ফিলিস্তিনের পক্ষে অবস্থান নেবে, ইতিহাস তাদের সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করবে।”
মাওলানা সৈয়দ রেজা আলী জাইদি
প্রবীণ আলেম মাওলানা সৈয়দ রেজা আলী জাইদি বলেন:
"ইমাম আলী (আ.) বলেছেন, ‘তুমি জালিমের বিরোধিতা করো এবং মজলুমের সহায়তা করো।’ আজ বিশ্ববাসী ফিলিস্তিনের মজলুমদের ওপর চলমান নিপীড়ন দেখেও নিরব। আমাদের উচিত এই নিরবতা ভেঙে দেওয়া এবং সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।"
তিনি আরও বলেন, "ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে প্রতিটি অন্যায় আঘাত ইসলামের হৃদয়ে আঘাত হানার শামিল। তাই, মুসলিম উম্মাহকে আজ জেগে উঠতে হবে।"
মাওলানা ইব্রাহিম ফায়জুল্লাহ
মাওলানা ইব্রাহিম ফায়জুল্লাহ বলেন:
"আল-কুদস শুধু ফিলিস্তিনিদের জন্য নয়, এটি সমগ্র মুসলিম জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক। আমরা যদি আজ ফিলিস্তিনকে ভুলে যাই, তাহলে আগামী দিনে আমাদের ওপরও অন্যায় হবে এবং তখন কেউ পাশে দাঁড়াবে না।"
তিনি আরও বলেন, “মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে ফিলিস্তিনের ইস্যুকে দুর্বল করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমাদের উচিত ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা।”
মাওলানা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন
মাওলানা সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন বলেন:
"আজ যারা নিরব, ইতিহাস তাদের কাপুরুষ বলে মনে রাখবে। কুরআন আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেছে। তাই, আমরা ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকব, ইনশাআল্লাহ।"
তিনি আরও বলেন, “ইমাম মাহদী (আ.জ.)-এর রাষ্ট্রব্যবস্থা হবে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে, যেখানে কোনো জালিমের স্থান নেই। তাই আমরা যারা ইমাম মাহদীর (আ.জ.) অনুসারী, আমাদের উচিত জালিমদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।”
সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ও প্রতিক্রিয়া
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড, ব্যানার এবং ফিলিস্তিনের পতাকা বহন করেন। তারা স্লোগান দেন:
"ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই!"
"জালিম ইসরায়েল নিপাত যাক!"
"ইমাম খোমেনীর আহ্বান—ফিলিস্তিনের পাশে মুসলমান!"
অনুষ্ঠান শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়, যেখানে ফিলিস্তিনের নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য দোয়া করা হয়।
বক্তারা সবাই আহ্বান জানান, মুসলমানদের উচিত পারস্পরিক মতভেদ ভুলে গিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া। ইসলামের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে এবং মানবতার স্বার্থে দখলদারদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সময়ের দাবি।
প্রতিবেদন প্রণেতা:
আহসান মেহদী
(জাফরিয়া রিডার্স সোসাইটি, খুলনা)
আপনার কমেন্ট