হাওজা নিউজ এজেন্সি: ঈদুল ফিতরের নামাজ আজ সকালে গোটা ইরানজুড়ে ঈমানদার ও সম্মানিত জনগণের ব্যাপক উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। রাজধানী তেহরানের মুসালা ও সংলগ্ন সড়কগুলোতে বিপুল সংখ্যক মানুষ সর্বোচ্চ নেতা হজরত আয়াতুল্লাহ খামেনেই-এর ইমামতিতে নামাজ আদায় করেন।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রথম খুতবায় সর্বোচ্চ নেতা ইরানি জাতি ও মুসলিম উম্মাহকে ঈদুল ফিতর, নওরোজ ও নতুন বছরের পাশাপাশি ১২ ফারভারদিন (ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস)-এর শুভেচ্ছা জানান। তিনি এ বছরের রমজানকে হৃদয় ও আত্মার উন্নয়ন, রাজনৈতিক সচেতনতা ও ঈমানী জাগরণের মাস হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
তিনি রমজানকে আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত, তাওহিদের প্রতীক এবং বান্দার তাকওয়া অর্জন, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের সুযোগ হিসেবে বর্ণনা করেন। রোজা, কুরআন চর্চা, লাইলাতুল কদর, দোয়া ও মোনাজাতকে রমজানের মূল্যবান ও মানবগঠনমূলক অনুশীলন হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের জনগণের কুরআন চর্চা, মসজিদ ও জনসমাগমে ইফতার বিতরণ, সকল বয়সী বিশেষত যুবসমাজের ব্যাপক অংশগ্রহণকে রমজানের আধ্যাত্মিক দিক হিসেবে প্রশংসা করে তিনি বলেন, সবাইকে চেষ্টা করতে হবে যেন আগামী রমজান পর্যন্ত এই মাসের আধ্যাত্মিক অর্জন ধরে রাখা যায়।
কুদস দিবসের ঐতিহাসিক মিছিলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, এই মিছিল বিশ্ববাসীকে ইরানের শক্তি ও সংকল্পের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।
দ্বিতীয় খুতবায় গাজা ও লেবাননে সায়োনিস্ট শাসনের শিশুহত্যা ও গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, "মার্কিন সাহায্য ও সমর্থনেই এই বর্বরতা চলছে।" সায়োনিস্ট শাসনকে উপনিবেশবাদীদের প্রতিনিধি আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, "পশ্চিমা শক্তি অঞ্চলের সাহসী জাতি ও যুবাদের অভিযুক্ত করলেও প্রকৃত প্রতিনিধি হলো এই ভয়ঙ্কর শক্তি, যারা অঞ্চলে যুদ্ধ, গণহত্যা ও আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।"
উপনিবেশবাদীদের 'সন্ত্রাসবিরোধী' বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, "যারা জাতির আত্মরক্ষাকে সন্ত্রাস বলে, তারাই সায়োনিস্টদের সন্ত্রাসে চোখ বুঁজে থাকে বা তাতে সহায়তা করে।" ইসরাইল কর্তৃক আবু জিহাদ, ফাতহি শাকাকি, আহমেদ ইয়াসিন ও ইমাদ মুগনিয়ার মতো ব্যক্তিদের হত্যা এবং ইরাকি বিজ্ঞানীদের টার্গেট করার ঘটনায় মার্কিন-পশ্চিমা সমর্থনের তীব্র নিন্দা জানান।
প্রায় ২০ হাজার ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যুতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নীরবতা কঠোর ভাষায় নিন্দা করে তিনি বলেন, "বিশ্ববাসী, বিশেষত ইউরোপ-আমেরিকার জনগণ, সচেতন হলে এই বর্বরতার বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হবেন।"
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ফিলিস্তিন ও অঞ্চল থেকে উৎখাত করতে হবে। এটি আমাদের ধর্মীয়, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।
ইরানের স্থির অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মার্কিন ও জায়োনিস্ট শত্রুরা আগের মতোই রয়ে গেছে। সর্বোচ্চ নেতা সাম্প্রতিক মার্কিন হুমকির প্রেক্ষিতে দুটি বিষয় উল্লেখ করেন: প্রথমত, যদি তারা বাইরে থেকে কোনো দুষ্কর্ম করে (যদিও এর সম্ভাবনা কম), তাহলে জবাবে প্রচণ্ড আঘাত পাবে। দ্বিতীয়ত, যদি শত্রুপক্ষ অতীতের মতো দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে, জনগণ আগের মতোই তাদের জবাব দেবে।
নামাজের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ড. পেজেশকিয়ান ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে জনগণের ঐক্য ও সংহতির প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।
আপনার কমেন্ট