মঙ্গলবার ১ এপ্রিল ২০২৫ - ২০:১১

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমীন গোনাবাদী নেজাদ ঐতিহাসিক ১২ ফারভারদিন ১৩৫৮ সালের গণভোটের বিভিন্ন দিক এবং এই ভাগ্যনির্ধারণী ঘটনাটি আয়োজনে ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর কৌশল ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি ইমামের প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র দিবসকে ইসলামি বিপ্লবের সর্ববৃহৎ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমীন গোনাবাদী নেজাদ, ইমাম আলী ইবনে মুসা আর-রেজা (আ.) স্কুলের পরিচালক, মাশহাদে হাওজা নিউজ এজেন্সির সাথে সাক্ষাৎকারে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থিতিশীলতার দিন হিসেবে ১২ ফারভারদিনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন: ১২ ফারভারদিন ইরানি জাতির জন্য একটি ঐতিহাসিক ও ভাগ্যনির্ধারণী দিন। এই দিনে 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র- হ্যাঁ/না' গণভোটের মাধ্যমে ইরানের জনগণ এক মহান সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে ৯৮.২% মানুষ ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ব্যবস্থাকে 'হ্যাঁ' ভোট দেয়। এই ফলাফল ইসলাম ও গণতন্ত্রভিত্তিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় জনগণের ঐক্যমতকে প্রতিফলিত করে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের তাৎপর্য হলো, ইসলামি বিপ্লবের মাত্র ৫০ দিন পর এমন একটি অগ্রাধিকারমূলক বিষয়কে প্রাতিষ্ঠানিক অ্যাজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

তিনি যোগ করেন: বড় বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ইমাম খোমেনি (রহ.)-এর দূরদর্শিতা এই মহান ঘটনাকে সম্ভব করেছিল। 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র' শব্দগুচ্ছ শুরু থেকেই ইমাম (রহ.)-এর জোরালো তাগিদে সামনে আসে। তিনি 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, একটি শব্দও বেশি নয়, একটি শব্দও কম নয়' এই নীতিতে অটল থাকেন, যা ব্যবস্থার জনসমর্থনের ভিত্তি স্থাপন করে।

গোনাবাদী নেজাদ গণভোট শুরুর সময়কার কিছু স্মৃতিচারণ করে বলেন: গণভোট বাস্তবায়নের মূল সংগঠক মরহুম সাদেক তাবাতাবাই বর্ণনা করেন, বিপ্লবের মাত্র ১২ দিন পর হাজ আহমাদ আগা খোমেনি ইমামের পক্ষ থেকে বার্তা দেন—শীঘ্রই গণভোট আয়োজন করতে হবে। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম হাজ সৈয়দ জাওয়াদি দেশের অস্থির পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে এর বিরোধিতা করেন এবং বলেন, 'প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কাঠামো এমন উদ্যোগের জন্য প্রস্তুত নয়।' কিন্তু ইমাম খোমেনি (রহ.) দৃঢ়ভাবে বলেন: 'আপনারা এখন বুঝতে পারছেন না; পঞ্চাশ বছর পরে তারা বলবে, জনগণের আবেগের অপব্যবহার করে ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। অবশ্যই ভোট নিতে হবে। 

তিনি গণভোটের নামকরণ নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন: গণভোট আয়োজনের পথে অন্যতম বাধা ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক 'গণতান্ত্রিক' শব্দটি যোগ করার চেষ্টা। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী প্রকৌশলী মেহেদী বাজারগান স্পষ্টতই 'ইসলামিক গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র' নাম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন, এমনকি তার ঘনিষ্ঠ সংবাদপত্রগুলোও এই ধারণা ছড়ায়। তবে ইমাম খোমেনি (রহ.) এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে বলেন: 'ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, একটি শব্দও বেশি নয়, একটি শব্দও কম নয়।' ইমামের এই দৃঢ়তা পশ্চিমাপন্থী মানদণ্ডের অনুপ্রবেশ রোধ করে। মরহুম আয়াতুল্লাহ মোতাহহারীও 'গণতান্ত্রিক' শব্দটি অপ্রয়োজনীয় বলে মন্তব্য করেন।

গোনাবাদী নেজাদ গণভোটের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলেন: ১০ ফারভারদিন ১৩৫৮ সালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। জনগণের উৎসাহ এতটাই ছিল যে কিছু এলাকায় ব্যালট শেষ হয়ে যায়, এবং ইমাম ২৪ ঘণ্টার জন্য ভোট সময় বাড়ান। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাও এতে অংশ নেয়। প্রাক্তন পাহলভি প্রধানমন্ত্রী আমির আব্বাস হোভেইদাও কারাগার থেকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে 'হ্যাঁ' ভোট দেন।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha