হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, গনাভেহ জেলার ঘরোয়া কুরআন সেশন পরিচালনাকারী প্রশিক্ষকদের সাথে এক বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। দেশব্যাপী কুরআনিক সেশনগুলোর সমন্বয়কারী সচিবের উপস্থিতিতে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্রে কুরআনের মর্যাদা সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেই ক্রমাগত কুরআনিক সংস্কৃতি সম্প্রসারণের উপর জোর দেন। তরুণ-কিশোরদের কুরআন মুখস্থ ও তিলাওয়াত করতে উৎসাহিত করা তাঁর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। তাঁর ব্যক্তিগতভাবে কুরআনিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও এ সংক্রান্ত কার্যক্রমে সমর্থনই এ বিষয়টির গুরুত্ব প্রমাণ করে।
গনাভেহ বন্দরের জুমার ইমাম প্রদেশে ঘরোয়া কুরআন চক্রের ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে বলেন, বিপ্লব-পূর্ব সময় থেকেই আমাদের এলাকায় পারিবারিক পর্যায়ে কুরআন শিক্ষা ও তিলাওয়াতের প্রচলন ছিল। এই মহৎ প্রথাকে পুনরুজ্জীবিত করা কুরআনিক জ্ঞানের প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি এ ধরনের সেশনগুলোর জন্য আর্থিক ও নৈতিক সমর্থনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, কিছু দানশীল ব্যক্তি নিজেদের বাড়ি কুরআন শিক্ষার জন্য ওয়াকফ করেছেন, যা অন্যদের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
রমজান মাসে কুরআনিক সেশনের ভূমিকা প্রসঙ্গে হুজ্জাতুল ইসলাম রুকনি হোসেইনি বলেন, যদিও রমজানে এই সেশনগুলো সর্বোচ্চ সক্রিয় থাকে, তবে সারা বছরই এগুলোর ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। তবে রমজানে অত্যধিক সেশনের কারণে যেন মসজিদ ও হোসাইনিয়াগুলোতে জনসমাগম কমে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি ধর্মীয় সমাবেশে কুরআনের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পাবলিক কালচার কাউন্সিলকে বিশেষ করে জানাজা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে কুরআনের স্থান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এই সামাজিক আয়োজনে কুরআনিক আখেরাতের বদলে অন্য কোনো বিষয় যেন প্রাধান্য না পায়।
গনাভেহের কুরআনিক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত প্রশিক্ষক ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সেশনগুলো কুরআনিক শিক্ষা প্রসারের সুবর্ণ সুযোগ। প্রতিটি মহল্লা ও মসজিদে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত ও সংক্ষিপ্ত তাফসিরের আয়োজন করা গেলে সমাজে এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।
তিনি শেষে বলেন, কুরআনকে অবহেলার অন্ধকার থেকে বের করে এনে মানুষের জীবনাচারের কেন্দ্রবিন্দুতে প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
আপনার কমেন্ট