বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল ২০২৫ - ১৬:০০
আমেরিকা তার মিত্রদেরও বলি দেয়, ইউক্রেন তার সর্বশেষ উদাহরণ

ইরানের নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী সাম্রাজ্যবাদী ঔদ্ধত্যপূর্ণ শক্তির অপরাধগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের ঘটনাগুলো প্রমাণ করেছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কেবল তার শত্রু নয়, এমনকি তার মিত্রদেরও নিজ স্বার্থে বলি দিতে পারে।

ইরানের মাজলিসে তাশখীসে মাসলাহাত ও নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাাম্মদী ইরাকী হাওজা নিউজ এজেন্সি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, একজন মুমিন ও বিপ্লবী মানুষের বিচক্ষণতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো শত্রু চিনতে পারা। সর্বোচ্চ নেতা বারবার “জিহাদে তাবইন”-এর কথা বলেছেন, যা আমাদের সকলের উপর একটি বিশেষ দায়িত্ব বর্তায়। শত্রুর আসল চেহারা, তার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতন থাকা আমাদের জন্য অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগানো প্রয়োজন। 

বিশ্বজুড়ে সচেতনতামূলক ঘটনা: তিনি যোগ করেন, সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাপী ঘটনাগুলো সাম্রাজ্যবাদী ঔদ্ধত্যপূর্ণ শক্তির আসল চেহারা উদ্ঘাটনে সহায়ক। মনে হচ্ছে আল্লাহর ইচ্ছায় এমনকি সবচেয়ে সন্দেহপ্রবণ ও আশাবাদী দেশ ও মানুষের কাছেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঔদ্ধত্যপূর্ণ স্বরূপ প্রকাশিত হচ্ছে। আমাদের মতো দেশ ও পশ্চিম এশিয়ার নির্যাতিত জনগণের জন্য মার্কিনির এই চেহারা নতুন নয়। দশকের পর দশক ধরে আমরা সাম্রাজ্যবাদীদের ঔদ্ধত্যের চাবুকের আঘাত ও জুলুম প্রত্যক্ষ করছি। 

ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিরোধ: মাজলিসে তাশখীসে মাসলাহাতের সদস্য বলেন, জনগণের বীরত্ব ও দেশপ্রেমের কারণে- আলহামদুলিল্লাহ, বৈশ্বিক সাম্রাজ্যবাদী ঔদ্ধত্যশক্তি ইরানকে অন্যান্য দেশের মতো পুরোপুরি দখল করতে পারেনি। তবে তারা সর্বোচ্চ চাপ দিয়ে আমাদের সম্পদ লুটেছে। আমাদের ইতিহাসে বহু যুদ্ধে দেশের বিভিন্ন অংশ (উত্তর, পূর্ব, পশ্চিম, দক্ষিণ) বিচ্ছিন্ন হয়েছে। ইমাম খোমেনি (রহ.) বলেছিলেন, “আমাদের যোদ্ধাদের হাত চুম্বন করুন, যারা আট বছরের যুদ্ধে সমগ্র সাম্রাজ্যবাদী ঔদ্ধত্যশক্তির সমর্থনপুষ্ট বাথ শত্রুর মুখোমুখি হয়ে এক ইঞ্চি মাটিও হারায়নি।” 

শহীদদের পরিচয় করানো: ধর্মীয় নগরী কোমে অবস্থিত সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের প্রধান বলেন, আমাদের দায়িত্ব—পবিত্র প্রতিরোধ, আহলে বাইতের (আ.) সদস্যদের মাজার রক্ষা ও প্রতিরোধের শহীদদের অবদান জনগণের সামনে তুলে ধরা। চমাদের জন্য তাদের জীবনী জানা জরুরি। মার্কিনিদের ঔদ্ধত্য আমাদের কাছে স্পষ্ট। তাই আলোচনা করলেও (যেমন ১+৫ আলোচনার মাধ্যমে জেসিপিওএ চুক্তি) তা “বীরত্বপূর্ণ নমনীয়তা”—শক্তি থেকেই করা হয়েছে। কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার মতে, এই অভিজ্ঞতাগুলো প্রমাণ করে ঔদ্ধত্যশক্তির চরিত্র অপরিবর্তিত। 

বিশ্বের নিন্দিত প্রতিক্রিয়া: নেতৃত্ব পরিষদের সদস্য বলেন, গাজায় গণহত্যা, ইসরাইলের লেবাননের বিরুদ্ধে যুদ্ধ—এসবের মাধ্যমে মার্কিনি ও তার মিত্রদের মুখোশ খুলে গেছে। পশ্চিমা দেশগুলোতেও বিক্ষোভ হয়েছে, কিন্তু এই ঔদ্ধত্যশক্তি বরাবরই জনমতকে উপেক্ষা করে। মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিক্ষোভ দমন করা হলেও আন্তর্জাতিক আদালত নেতানিয়াহুর গ্রেফতারি আদেশ দিয়েছে—এটি বড় বিজয়। 

মার্কিনির লজ্জা: তিনি বলেন, ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধ আল্লাহর নিদর্শন। ঔদ্ধত্যশক্তির মুখোশ খুলে দেওয়া ঐশী রীতি। ইউরোপীয় দেশগুলো (যেমন ইউক্রেন) বুঝেছে মার্কিনি মিত্রদেরও বলি দেয়। এটি বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচারের পথে বড় অগ্রগতি। 

মার্কিনির বিশ্বাসঘাতকতার দৃশ্য: হুজ্জাতুল ইসলাম মোহাম্মদী ইরাকী বলেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে মার্কিনি ও ন্যাটো যুদ্ধের ফাঁদে ফেলে পরিত্যাগ করেছে। মিডিয়া এই বিশ্বাসঘাতকতা বিশ্বে প্রচার করেছে। “গণতন্ত্রের” দাবিদার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে মিত্রকে বলি দেয়, তা সবাই দেখেছে। মার্কিন নীতি হলো: প্রয়োজনে বন্ধুকেও বলি দাও। 

অভ্যন্তরীণ আশাবাদীদের সতর্কতা: তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশে কিছু লোক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নমনীয় ভাবে। তারা মনে করে ছাড় দিলে শত্রুতা কমবে। কিন্তু ইমাম খোমেনি (রহ.) ও সর্বেচ্চ নেতা বলেছেন, “আমরা এক পা পিছু হটলে শত্রু দশ পা এগোবে।” আমাদের নিজেদের শক্তিতে ভরসা রাখতে হবে, চুক্তি ভঙ্গকারী শত্রুর সাথে আলোচনায় নয়। 

মিডিয়ার দায়িত্ব: তিনি তার সাক্ষাৎকারের শেষে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের দেশের বেশিরভাগ জনগণ সচেতন। যারা এখনও অজ্ঞ, তাদের সচেতন করতে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha