বৃহস্পতিবার ৭ আগস্ট ২০২৫ - ১৯:৩১
৪টি অনন্যসাধারণ শিক্ষণীয় উপাখ্যান

জীবনের পথে আমরা নানা চ্যালেঞ্জ ও দ্বিধার মুখোমুখি হই। কখনো অর্থের অভাব, কখনো চরিত্রের মূল্যায়ন, আবার কখনো আল্লাহর রহমত ও করুণার প্রত্যাশায় আমরা দ্বন্দ্বে থাকি। এই চারটি হৃদয়স্পর্শী উপাখ্যান আমাদেরকে শিক্ষা দেয় কীভাবে আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে সঠিক নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করতে হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: চারটি উপখ্যান নিম্নে তুলে ধরা হলো:
১. রিজিকের বিশ্বাস
❝একজন দোকানদারের কাছে জিজ্ঞেস করা হলো— “এই নির্জন গলিতে, যেখানে মানুষের চলাচলই কম, তুমি কীভাবে রিজিক উপার্জন করো?”
সে উত্তর দিলো— “যে আল্লাহ্‌র মালাকুল মাওত (মৃত্যুদূত) আমাকে পৃথিবীর যেকোনো গহীনে খুঁজে পেতে পারেন, সেই আল্লাহ্‌র যদি ফেরেশতাদের রিজিক বণ্টনের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তিনি কি আমাকে হারিয়ে ফেলবেন?”❞

নৈতিক শিক্ষা: রিজিক মানুষের হাতে নয়, বরং আল্লাহর হাতে। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের কখনো ভুলে যান না। তাওয়াক্কুল, অর্থাৎ আল্লাহর উপর ভরসা, একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য শক্তি।

২. হেদায়েত বনাম রিজিক– দ্বিমুখী মানসিকতার প্রতিবাদ
❝এক চরিত্রবান ও সদ্ব্যবহারে পূর্ণ কিন্তু দরিদ্র যুবক একটি মেয়ের বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেল।
মেয়ের বাবা বললেন— “তুমি গরিব, আমার মেয়ে কষ্ট ও দুঃখ সহ্য করতে পারবে না। তাই তোমাকে মেয়ে দিতে পারছি না।”

কিছুদিন পরে, এক ধনী কিন্তু দুরাচারী যুবক বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এলো।
বাবা এবার বললেন— “ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ তাকে চরিত্রবান ও হেদায়েত দান করবেন।”

মেয়েটি বাবার কথা শুনে বলল—
“হে পিতাজান! যে আল্লাহ চরিত্র ও হেদায়েত দিতে পারেন, তিনি কি রিজিক দিতেও অক্ষম?”❞

নৈতিক শিক্ষা: আমরা আল্লাহর গুণাবলিকে খণ্ডিতভাবে বিশ্বাস করি—এটি ঈমানের দুর্বলতার পরিচায়ক।চরিত্র ও ঈমানের মূল্য ধন-সম্পদের চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে। বিচার শিখুন হক ও ইনসাফের মানদণ্ডে।

৩. সত্যিকারের উদারতা
❝হাতেম তাই'রের কাছে জিজ্ঞেস করা হলো— “তুমি কি তোমার চেয়ে বেশি দানশীল কাউকে দেখেছ?”
তিনি বললেন— “হ্যাঁ, এমন একজনকে দেখেছি যার সব সম্পদ মাত্র দুটি ছাগল ছিল। সে এক রাতে আমার জন্য একটি ছাগল জবাই করল; আমি তার কলিজা খেয়ে প্রশংসা করলাম। পরদিন সকালে সে দ্বিতীয় ছাগলটিও জবাই করে রান কাবাব তৈরি করল।”

লোকে জিজ্ঞেস করল— “তাহলে তুমি তার জন্য কী করেছিলে?”
তিনি বললেন— “আমি তাকে ৫০০টি ছাগল উপহার দিয়েছিলাম।”

লোকে বলল— “তাহলে তুমি তো বড় দানশীল।”
তিনি বললেন— “না, সে বড় দানশীল; কারণ সে তার সবকিছু দিয়েছিল, আর আমি কেবল আমার সম্পদের সামান্য অংশ।”❞

নৈতিক শিক্ষা: দানের মূল্য মাপে নয়, নিয়তে। যিনি নিজের সবকিছু আল্লাহর জন্য বিলিয়ে দেন, তিনিই প্রকৃত উদার। ত্যাগের মহিমা ধন-সম্পদের অঙ্কে মাপা যায় না।

৪. আল্লাহর করুণা বনাম শাস্তি
❝এক আরেফ (আধ্যাত্মিক জ্ঞানী) কে জিজ্ঞেস করা হলো— “তুমি আল্লাহকে কেমন দেখো?”
তিনি বললেন— “আমি তাঁকে এমনভাবে দেখি, যে প্রতিনিয়ত আমার পাপ ধরার সামর্থ্য রাখেন,
তবুও তিনি আমার পাপ ধরেন না, বরং হাত ধরে আমাকে লালন করেন।”❞

নৈতিক শিক্ষা: আল্লাহ আমাদের দোষ দেখেন, কিন্তু করুণা দিয়ে ঢাকেন। তাঁর রহমত তাঁর গজবের চেয়ে প্রবল। আমাদের উচিত গুনাহ থেকে ফিরে তাঁর করুণা লাভের চেষ্টা করা।

এই চারটি উপাখ্যান আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—

১. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা রাখো।

২. চরিত্র ও ঈমানকে ধন-সম্পদের চেয়ে বড় করো।

৩. অন্তরের উদারতা অর্জন করো।

৪. আল্লাহর করুণার দ্বারে নিজেকে সোপর্দ করো।

তাওয়াক্কুল শেখো, চরিত্র গড়ো, দান করো, আর আল্লাহকে ভালোবাসো।

লেখা: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন জনাব আলী নওয়াজ খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha