শুক্রবার ২২ আগস্ট ২০২৫ - ১২:১৮

হাওজা নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাত্কার


আসসালামু আলাইকুম, জনাব।

আপনাকে ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে সময় দেওয়ার জন্য।

আজ আমরা আলোচনা করব হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর জীবনী থেকে বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব ও নীতিমালা সম্পর্কে। আপনি কি আমাদের এই বিষয়ে কিছু আলোকপাত করতে পারেন?

জয়নুল আবেদিন সাহেব: ওয়ালাইকুমুসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। নিশ্চয়ই, এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হযরত মুহাম্মাদ (সা.) এবং ইমাম হাসান (আ.)-এর জীবন আমাদের জন্য এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। তারা যে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তা ছিল আদর্শের উপর ভিত্তি করে, ন্যায়বিচার, ধৈর্য, সততা এবং সহিষ্ণুতার প্রতীক।

খুব সুন্দর। তাহলে, এই নেতৃত্বের কোন কোন গুণাবলী আমাদের সমকালীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি প্রযোজ্য হতে পারে?

জয়নুল আবেদিন সাহেব: প্রথমত, ‘সততা ও ন্যায়পরায়ণতা’—নেতা হতে হলে অবশ্যই জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। নবী করিম (সা.)-এর জীবন থেকে আমরা শিখি যে, ক্ষমতা মানেই অন্যায় চালানো নয়, বরং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং দুর্বলদের পাশে দাঁড়ানো।

দ্বিতীয়ত, ‘ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা’। ইমাম হাসান (আ.) যখন তাঁর সময়ের রাজনৈতিক চাপ ও শত্রুতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনীতি অবলম্বন করেছিলেন। এটা আমাদের শেখায় যে, অপ্রয়োজনীয় সংঘর্ষে না জড়িয়ে শান্তির পথ খোঁজা উচিত।

তৃতীয়ত, ‘জাতীয় ঐক্য’। ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যবদ্ধ থাকার মধ্য দিয়েই একটি জাতি অগ্রসর হতে পারে।

সত্যিই, এটি বর্তমান সময়ের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাহলে, আপনি কি মনে করেন আমাদের রাজনীতিবিদরা এই শিক্ষাগুলো থেকে কতটা শেখার সুযোগ নিচ্ছেন?

জয়নুল আবেদিন সাহেব: এ প্রশ্নে আমার আশা অনেক বড়। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অনেক সময় রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে এসব মহৎ নীতিমালা অবহেলা করা হয়। তবে আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে, মানুষ হিসেবে ও নাগরিক হিসেবে, এই শিক্ষাগুলোকে সামনে এনে, সঠিক নেতৃত্ব চাওয়ার এবং গ্রহণ করার।

নিঃসন্দেহে, সাধারণ জনগণের সচেতনতা ও শিক্ষাই পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। আপনার মতে, এই নীতিমালা বাস্তবায়নে সমাজের কী ভূমিকা থাকা উচিত?

জয়নুল আবেদিন সাহেব: সমাজকে অবশ্যই মূলনীতির প্রতি অনুগত হতে হবে। সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াতে হবে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ইসলামের ঐতিহাসিক শিক্ষার মাধ্যমে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। শিক্ষার মাধ্যমে যদি নেতাদের মধ্যে সততা ও ন্যায়পরায়ণতা প্রবাহিত হয়, তাহলে দেশ ও জাতি উন্নতির পথে যাবে।

একদম সঠিক। শেষ প্রশ্ন, সামনের দিনগুলোতে আপনি কীভাবে এই ঐতিহাসিক নেতৃত্বের মর্ম বুঝিয়ে দিতে চান যাতে তা সমাজে প্রকৃত অর্থে প্রভাব ফেলে?

জয়নুল আবেদিন সাহেব: আমরা প্রথমত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ইসলামের ইতিহাস ও নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিতে পারি। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে মিডিয়া ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যক্তিগত জীবনে হযরত মুহাম্মাদ (সা.) ও ইমাম হাসান (আ.) এর আদর্শগুলো বাস্তবায়ন করা। শুধু কথা নয়, কাজের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দিতে পারি।

আল্লাহ আপনাকে সুস্থ ও দীর্ঘজীবী করুন, মুফতি সাহেব। আপনার এই মূল্যবান দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সকলের জন্য দিকনির্দেশনা হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

জয়নুল আবেদিন সাহেব: আমীন। আল্লাহ আপনাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুন।

সাক্ষাত্কার গ্রহণ: মাজিদুল ইসলাম শাহ

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha