দোখতারানে ইনকিলাব (ইনকিলাবের কন্যা) নামের জনকল্যাণমূলক সংগঠনের প্রধান মিসেস বাহারেহ জাংরাভি হাওজা নিউজ এজেন্সি’কে জানান, ১২ দিনের প্রতিরক্ষা যুদ্ধে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক নাগরিক এতে অংশ নেন। তার মতে, সাধারণ মানুষ, তরুণী ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি প্রমাণ করে— অধিকাংশ মানুষই ইসলামী মূল্যবোধ, হিজাব ও সামাজিক নৈতিকতার বিষয়ে গভীরভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
ওয়ালিয়ে আসর ময়দান থেকে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শোকযাত্রা
৭ আযার ১৪০৪ তারিখে (২৮ নভেম্বর) ওয়ালিয়ে আসর (আ.ফা.) থেকে শুরু হওয়া শোকযাত্রাটি তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
শোকযাত্রার লক্ষ্য ছিল—
• হিজাব ও লজ্জাশীলতার সংস্কৃতি সংরক্ষণ,
• পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করা,
• এবং ইসলামী মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে সামাজিক ঐক্য প্রদর্শন।
জাংরাভি বলেন, অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে— ইরানের কর্মকর্তা ও জনগণকে শত্রুদের সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রতি সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে।
ফাতেমি আদর্শে নতুন অঙ্গীকার
সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের উল্লেখ করে জংরাভি বলেন, “বাসিজি চেতনা ও ফাতেমি আদর্শকে সামনে রেখে আমরা আজকের মহাসমাবেশ আয়োজন করেছি। এটি সম্পূর্ণভাবে জনগণনির্ভর ও নিঃস্বার্থ মনোভাব থেকে পরিচালিত, কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।”
হযরত ফাতিমা (সা.আ.)–এর জীবনধারার প্রচার কার্যকর ভূমিকা রাখছে
তিনি জানান, তাদের সংগঠন শুধুমাত্র সামাজিক মাধ্যমে সীমাবদ্ধ নয়। কফি শপ, পার্ক এবং উন্মুক্ত স্থানে তরুণীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
তিনি বলেন, “হযরত ফাতিমা (সা.আ.)–এর জীবনধারা ও চরিত্র সম্পর্কে সত্যিকারের বর্ণনা শুনে অনেক তরুণী স্বেচ্ছায় হিজাবে ফিরে আসছেন।”
তিনি উদাহরণ দেন, “অনেক মেয়ে ওয়ালিয়ে আসর ময়দানে ‘ইফাফে ফাতেমি’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে সেখানেই হিজাব গ্রহণ করেছে। তারা আগে জানতেনও না, হযরত ফাতিমা (সা.আ.) হিজাব বিষয়ে কতটা সংবেদনশীল ছিলেন।”
হিজাব—শহীদদের স্থায়ী অসিয়ত
জাংরাভি বলেন, “ইসলামী বিপ্লব থেকে শুরু করে পবিত্র প্রতিরক্ষা, মুদাফেয় হারাম ও নিরাপত্তার শহীদ—সবাই হিজাবকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমানত হিসেবে অসিয়ত করেছেন।”
গাজায় গণহত্যা ও ১২ দিনের প্রতিরক্ষা যুদ্ধ তরুণ প্রজন্মের ধর্মীয় উপলব্ধিকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন তরুণী যখন গাজার শিশুদের উপর অত্যাচার দেখে কাঁদে, পরে জানতে পারে একই শত্রুই ইরানেও রক্ত ঝরিয়েছে—তখন সে প্রশ্ন তোলে কেন তাকে আগে এসব ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এবং কেন সে শত্রুর প্রপাগান্ডায় বিভ্রান্ত হবে?”
রাজধানীর ২০০–৩০০ স্থানে মহল্লাভিত্তিক কার্যক্রম
জাংরাভি জানান, এই শোকযাত্রার পর তাদের নেটওয়ার্ক কার্যক্রম তেহরানের ২০০–৩০০টি স্থানে মহল্লাভিত্তিকভাবে পরিচালিত হবে। এর মূল লক্ষ্য:
• হিজাবে ফাতেমির প্রচার,
• মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ,
• এবং বাসিজি চেতনায় সাংস্কৃতিক জাগরণ।
হিজাবে ফিরে আসা তরুণীদের অভিজ্ঞতা শেয়ার
অনুষ্ঠানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা শোকযাত্রার নেতৃত্ব দেন এবং যেসব তরুণী একসময় হিজাবহীন ছিলেন কিন্তু পরে হিজাবে ফিরে এসেছেন, তারাও শোকযাত্রায় অংশ নেন এবং পথজুড়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
জাংরাভি বলেন, “ইসলামী বিপ্লবের অগ্রগতি নির্ভর করে জিহাদে তাবইন ও সাংস্কৃতিক সচেতনতার ওপর। সঠিক ব্যাখ্যা প্রদান করলে তরুণ প্রজন্ম শত্রুর মিথ্যা প্রচারণা থেকে সুরক্ষিত থাকবে।”
শেষে তিনি বলেন, “জাতির সচেতনতা ও দূরদৃষ্টিই শত্রুর সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে পরাস্ত করবে।”
আপনার কমেন্ট