রবিবার ৩০ নভেম্বর ২০২৫ - ১২:১৪
খারাপ নিয়ত কি গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়?

ইসলাম শুধু বাহ্যিক আচরণ নয়, অন্তরের অবস্থাকেও গুরুত্ব দেয়। মানুষের মনের ভাবনা, ইচ্ছা, প্রবণতা—এসব আল্লাহর অজানা নয়। তাই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে: মনের খারাপ চিন্তা কি গুনাহ হিসেবে ধরা হয়?

হাওজা নিউজ এজেন্সি: এই প্রসঙ্গে কুরআনের আয়াত এবং আলেমদের বক্তব্য আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়।

ইরানের প্রখ্যাত আখলাক তথা নৈতিকতার মহান শিক্ষক মরহুম আয়াতুল্লাহ আজিজুল্লাহ খোশওয়াকত (রহ.) এই বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

কুরআনের দৃষ্টিতে অন্তরের হিসাব
সূরা বাকারা, আয়াত ২৮৪-এ এসেছে:

وَإِنْ تُبْدُوا ما فِی أَنْفُسِکُمْ أَوْ تُخْفُوهُ یُحاسِبْکُمْ بِهِ الله
অর্থাৎ—তোমরা অন্তরে যা লুকাও বা প্রকাশ করো, আল্লাহ তার হিসাব নেবেন।

এ আয়াত থেকেই প্রশ্ন উত্থাপিত হয়— মনের ভেতরের খারাপ চিন্তা ও নীতিহীন ইচ্ছাগুলিও কি গুনাহ?

আয়াতুল্লাহ খোশওয়াকতের ব্যাখ্যা: কোন নিয়ত গুনাহ, কোনটি নয়
মানুষের কাজ দুই ধরনের

১. বাহ্যিক আমল— হাত, পা, চোখ, কান, জিহ্বা ইত্যাদির মাধ্যমে সংঘটিত আচরণ।

২. অন্তর্নিহিত আমল—নিয়ত, চিন্তা, ধারণা, পরিকল্পনা, সন্দেহ ইত্যাদি।

কিন্তু সব অন্তরের কাজ গুনাহ নয়।

আয়াতুল্লাহ খোশওয়াকত ব্যাখ্যা করেন, “অন্তর্নিহিত কাজের মধ্যে মাত্র দুইটি প্রকৃত গুনাহ রয়েছে: তাকাব্বুর (অহংকার) ও সু’ই-যান (মন্দ ধারণা)।”

১️. তাকাব্বুর — অহংকারের গুনাহ
যখন কেউ মনে মনে বিশ্বাস করে— “আমি অন্যদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।” যদিও তা প্রকাশ না করুক— তবুও এটি প্রকৃত অন্তর্দোষ এবং গুনাহ।

২️. سوءظن — অকারণ খারাপ ধারণা
কোনো প্রমাণ, সাক্ষ্য বা দৃঢ় তথ্য ছাড়াই কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা করা— এটি সরাসরি গুনাহ।

উদাহরণ: কেউ দোকানে হারাম ব্যবসা করছে— এমন অনুমান করা, অথচ তার কোনো প্রমাণ নেই।

অন্যান্য নেতিবাচক অনুভূতি গুনাহ নয়
হিংসা, ঈর্ষা, কারো ক্ষতি কামনা— যদি তা কর্মে পরিণত না হয়, তবে তা গুনাহ নয়— শুধু গুনাহের ভূমিকা সৃষ্টি করে।

কেন প্রতিটি চিন্তা গুনাহ নয়?
যদি প্রতি ক্ষণস্থায়ী চিন্তা বা খারাপ কল্পনাই গুনাহ হতো— তাহলে মানুষ সারাজীবন গুনাহে জর্জরিত হয়ে পড়ত। মানুষের মন স্বভাবগতভাবেই নানা ধরনের ভাবনা তৈরি করে— এগুলো সবই ইচ্ছাকৃত হয় না বা তা বাস্তবায়িতও হয় না।

অতএব আল্লাহ তাঁর রহমতে শুধু গভীর, সচেতন ও স্থায়ী অন্তর্দোষকে গুনাহ হিসেবে গণ্য করেন।

এ শিক্ষা আমাদের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে এবং আচরণে সংযম আনে।
বিশ্বাসীদের কর্তব্য— হৃদয়কে অহংকার ও সু’ই-যান থেকে মুক্ত রাখা এবং প্রতিটি চিন্তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে পরিচালিত করা।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha