হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
প্রাথমিক পরিচয়:
কাসিম সোলায়মানি (১৯৫৭-২০২০) ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কুদস ফোর্সের প্রভাবশালী কমান্ডার ছিলেন। মধ্যপ্রাচ্যের জটিল ভূ-রাজনীতিতে তিনি ছিলেন এক কেন্দ্রীয় চরিত্র, যার প্রভাব ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত ছিল।
সামরিক ভূমিকা ও প্রভাব:
কুদস ফোর্স: সোলায়মানি ১৯৯৮ সালে কুদস ফোর্সের কমান্ডার নিযুক্ত হন। এই বাহিনী আইআরজিসির একটি বিশেষ ইউনিট, যা ইরানের বৈদেশিক সামরিক ও গোয়েন্দা অপারেশনের দায়িত্বে রয়েছে।
আঞ্চলিক প্রসার: তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় ইরানের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিশেষ করে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী যুদ্ধে তিনি ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া এবং সিরিয়ার সরকারি বাহিনীকে সমন্বয় ও সমর্থন দেন।
নেটওয়ার্ক নির্মাণ:
সোলায়মানি ইরানের পক্ষে আঞ্চলিক শক্তি কাঠামো গড়ে তুলতে সাহায্য করেন, যার মধ্যে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ইরাকের শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের হুথিদের সাথে সম্পর্ক জড়িত।
মৃত্যু ও তার প্রতিক্রিয়া:
২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি, ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি মার্কিন ড্রোন হামলায় সোলায়মানি নিহত হন। এই হামলা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত হয়। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করে এবং ইরান পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) থেকে সরে আসার হুমকি দেয়।
বিতর্ক ও মূল্যায়ন:
সমর্থকদের দৃষ্টিতে: ইরান ও তার মিত্রদের কাছে তিনি একজন জাতীয় বীর ও আঞ্চলিক সুরক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত, যিনি আইএস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
সমালোচকদের দৃষ্টিতে:
পশ্চিমা দেশ ও আরব বিশ্বের কিছু রাষ্ট্র তাকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করে, বিশেষ করে ইরাক ও সিরিয়ায় শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠীর মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের জন্য।
উত্তরাধিকার:
সোলায়মানির মৃত্যু ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে নতুন কৌশলগত দিক নির্ধারণ করেছে। তার উত্তরসূরি হিসেবে এসমাইল কা'নি দায়িত্ব নিলেও, সোলায়মানির নির্মিত নেটওয়ার্ক ও কৌশলগত ভিত্তি ইরানের আঞ্চলিক নীতি আজও প্রভাবিত করে চলেছে।
সাম্প্রতিক প্রাসঙ্গিকতা:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যেকার পরোক্ষ সংঘাত এবং ইয়েমেন সংকটে সোলায়মানির সময় প্রতিষ্ঠিত নীতির প্রতিফলন এখনও লক্ষণীয়।
আপনার কমেন্ট