রবিবার ৪ জানুয়ারী ২০২৬ - ০৭:৩০
কেন শহীদ সোলাইমানি একটি ‘আদর্শ’ হয়ে উঠলেন?

শহীদ কাসেম সোলাইমানিকে তাঁর ব্যক্তিত্বের সর্বাঙ্গীনতার কারণে “মকতব বা আদর্শ” বলা হয়। সাহস, বিচক্ষণতা, নিষ্ঠা, যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা, আধ্যাত্মিকতা, বিপ্লবী মনোভাব এবং ইমামের মক্তবের প্রতি আনুগত্য—এই সব মিলিয়ে তাঁর জীবন একটি আদর্শ ও মক্তব রূপে দাঁড়িয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: অনেকে ভাবেন, কিভাবে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে হাজ্ব কাসেমের মতো আদর্শ হতে পারে, তাঁর জীবন ও কর্মকাণ্ড দেখে অনুপ্রাণিত হন। যেমন তাঁর বিষয়ে বলা হয়েছে: “عاشَ سعیداََ و ماتَ سعیداََ.”—সুখে জন্মগ্রহণ করলেন, সুখেই জীবন শেষ করলেন।

কিন্তু সেই পথ অনুসরণের উপায় অনেকের কাছে অস্পষ্ট। তাই প্রশ্ন ওঠে: শহীদ সোলেমানী হওয়ার মূল রহস্য কী?

রাহবার (হযরত খামেনেয়ী) তাঁর ভাষণে শহীদ কাসেমের জীবনকে যে বিশিষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, তা অন্য কম মানুষের ক্ষেত্রে ঘটেছে। যারা নিয়মিত অনুসরণ করেন, তারা স্বীকার করবেন, শহীদ কাসেমের বর্ণনা প্রায় মরহুম ইমাম রাহ-এর বর্ণনার সমতুল্য।

শহীদ সোলাইমানির মক্তব গঠনের মূল বৈশিষ্ট্য
রাহবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শহীদ কাসেমের জীবন সর্বাঙ্গীন বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়। সাহস, বিচক্ষণতা, নিষ্ঠা, যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা ও আধ্যাত্মিকতার মিল তাঁর জীবনকে একটি মক্তব ও আদর্শ উদাহরণ হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
সাহস ও বিচক্ষণতা: তিনি শুধু সাহসী ছিলেন না, সেই সাহসকে পরিকল্পনা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজে লাগাতেন।

নিষ্ঠা ও খাঁটি উদ্দেশ্য: তাঁর সব সাহস ও বিচক্ষণতা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ব্যবহৃত হতো। কোনো রকম বাহ্যিক প্রদর্শন বা রিয়ার স্থান ছিল না।

আইনি ও নৈতিক সচেতনতা: যুদ্ধের কমান্ডার হিসেবে তিনি দক্ষ, কিন্তু সর্বদা শরীয়ত ও নৈতিক সীমা বজায় রাখতেন। বিপদে এগিয়ে যেতেন, অন্যদের জীবন যতটা সম্ভব রক্ষা করতেন।

বিপ্লবী মনোভাব: কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর দিকে ঝোঁক রাখতেন না, তবে বিপ্লব ও ইসলামী নীতি তাঁর জন্য অচল রেখা ছিল।

আধ্যাত্মিকতা ও আত্মত্যাগ: তাঁর আধ্যাত্মিকতা ও আত্মত্যাগ শহীদত্বকে এমনভাবে উজ্জ্বল করেছে, যা তাঁকে আদর্শ ও মক্তব হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

শহীদ কাসেম অনুসরণের শিক্ষা
যদি আমরা তাঁর মতো নিজ নিজ ক্ষেত্রে আদর্শ হতে চাই, আমাদের প্রয়োজন:
• যুক্তিবাদী চিন্তাভাবনা: সঠিক নির্বাচন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ
• আধ্যাত্মিক মনোভাব: ধারাবাহিকভাবে পথকে শুদ্ধ করা
• ফিকহ ও ধর্মীয় জ্ঞান: ইসলামের মূলনীতি অনুসারে জীবন পরিচালনা
• ইসলামিক চিন্তাশক্তি: সঠিক ধারণা ও জ্ঞান অর্জন
• রাজনৈতিক বোধ: সত্য ও মিথ্যা চিহ্নিত করা
• সতর্কতা ও প্রচার: ইসলামের সঠিক বার্তা সমাজে পৌঁছে দেওয়া
• সর্বাঙ্গীনতা অর্জনের প্রচেষ্টা: যা পরম পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যায়

শহীদ কাসেম সোলাইমানির জীবন প্রমাণ করে, সর্বাঙ্গীনতা অর্জন কঠিন, কিন্তু এটি মানুষকে আল্লাহর নিকটতম পর্যায়ে নিয়ে যায়।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha