হাওজা নিউজ এজেন্সির: মঙ্গলবার তেহরানে অনুষ্ঠিত ১১ হাজার শহীদ ব্যবসায়ী, বাজার ও অর্থনৈতিক কর্মীদের আন্তর্জাতিক কবিতা কংগ্রেসের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেকারচি বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং যে কোনো হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ় ও চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে সক্ষম।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “ট্রাম্প ভালোভাবেই জানে—যদি আমাদের নেতার দিকে আক্রমণের হাত বাড়ানো হয়, আমরা শুধু সেই হাত কেটেই ফেলব না; দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে— এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং আগ্রাসীদের গোটা দুনিয়াকে আগুনে জ্বালিয়ে দেব, তাদের শান্তি কেড়ে নেব এবং তাদের জন্য কোনো নিরাপদ অঞ্চল অবশিষ্ট রাখব না।”
বাজার ও ব্যবসায়ীরা: প্রতিরোধের অগ্রভাগে
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেকারচি শত্রুর মোকাবিলায় বাজার ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, শত্রুপক্ষ ইরানের বিরুদ্ধে মনস্তাত্ত্বিক ও জ্ঞানভিত্তিক যুদ্ধ চালাচ্ছে। তবে তারা জানে, ইসলামি ইরানের কোনো অংশে আক্রমণ ঘটলে তা বিস্তার লাভের আগেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনী তা কঠোরভাবে প্রতিহত করবে।
তিনি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের সাহসী সশস্ত্র বাহিনী এই সক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে।
তিনি বাজার ও ব্যবসায়ীদের দৃঢ় অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, তারা শুধু শত্রুর সঙ্গে একাত্ম হয়নি, বরং শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলে শত্রুকে কঠোর জবাব দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধে শত্রুর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা ছিল—সামরিক হামলার পাশাপাশি বাজারে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা—কিন্তু সেই পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
শত্রুর ষড়যন্ত্র ও ব্যর্থতা
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেকারচি বলেন, শত্রুরা যখন সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে, তখন বাজার ও ব্যবসায়ীরা এক মুহূর্তও দেরি করেনি। ইরানি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ১৯ দেই-এর রাতে বিভিন্ন শত্রু গোষ্ঠী ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেও ব্যর্থ হয়েছে, কারণ বাজার ও ব্যবসায়ীরা সতর্ক ও সাহসী অবস্থান গ্রহণ করেছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ইরানি জাতির বিরুদ্ধে শত্রুতা শুরুর প্রথম দিন থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি এবং প্রতিবারই ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছে।
সন্ত্রাসীদের রক্তাক্ত কৌশল
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেকারচি বলেন, শত্রু ও সন্ত্রাসীদের কৌশল ছিল নিহতের সংখ্যা বাড়ানো। শিশু, কিশোর, যুবক—দোষী বা নির্দোষ—যাকে পেয়েছে তাকেই হত্যা করা হয়েছে। রাস্তাঘাট, গলি ও বাজারে নির্বিচারে মানুষকে শহীদ করা হয়েছে। তিনি জানান, সন্ত্রাসীদের হাতে শহীদ হওয়া ব্যক্তিদের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সম্পূর্ণ নির্দোষ ছিলেন।
নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগ
নিরাপত্তা বাহিনীর ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, পুলিশ, বসিজ, পাসদারান ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় অস্ত্রও হাতে নেননি, যাতে ভুলবশত কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তারা নিজেদের শরীর ঢাল বানিয়ে তরুণদের রক্ষা করেছেন। অথচ শত্রুরা আমাদের বাহিনীর সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করেছে—তাদের টুকরো করেছে, শিরশ্ছেদ করেছে এবং পেট্রোল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।
আপনার কমেন্ট