হাওজা নিউজ এজেন্সি’র সাথে এক সাক্ষাৎকারে আয়াতুল্লাহ মুহাম্মাদ মাহদী শাবজিন্দেহদার জোর দিয়ে বলেন যে, ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতৃত্বের প্রতি স্পর্ধা ও অবমাননা কেবল এ মর্যাদার কোনো ক্ষতি করে না, বরং তা উক্তকারীর অপূর্ণ বোধগম্যতা ও ভুল বিশ্লেষণেরই প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন, ইতিহাস জুড়ে ঐশী নবী ও ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধেও এ ধরনের আচরণ বিদ্যমান ছিল, যা সর্বদাই অবমাননাকারীদের জন্যই ক্ষতির কারণ হয়েছে।
তিনি বলেন, সত্য যখন স্পষ্ট, তখন তার প্রতিরক্ষার প্রয়োজন পড়ে না। তিনি সুস্পষ্ট করে বলেন, কেউ যদি সূর্যকে অন্ধকার বলেও অভিহিত করে, তাতে না সূর্য ম্লান হয়, না তার আলো কমে; বরং এমন কথা বলা ব্যক্তি নিজেই তার মর্যাদা হ্রাস করে। কারণ সবাই সূর্যের আলোকরশ্মি স্পষ্ট দেখতে পায়।
ইরানের হাওজা তথা ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পরিষদের মহাসচিব আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মহান নেতার ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে স্বীকৃতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের সব বিবেকবান মানুষই জানেন যে, বিপ্লবের মহান নেতা সর্বদা প্রজ্ঞা, যোগ্য নেতৃত্ব ও জনগণের জন্য খাঁটি মমতায় ভরপুর এবং ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর শিক্ষালয়সহ সকল বড় ঐতিহাসিক পরীক্ষায় তিনি সফল ও সসম্মান রয়েছেন।
আয়াতুল্লাহ শাবজিন্দেহদার নেতার জ্ঞান-বিজ্ঞান, রাজনৈতিক ও বিশ্লেষণী সক্ষমতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বৈশ্বিক সমীকরণ, শত্রুদের চক্রান্ত ও পরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও স্পষ্ট। যে কোনো বিষয়ে তাঁর বক্তব্য বিশেষজ্ঞ ও পণ্ডিতদের গভীর মনোযোগ আকর্ষণ করে, এবং তারা উপলব্ধি করেন যে এই বক্তব্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের ওপর তাঁর পূর্ণ আয়ত্তেরই প্রতিফলন।
তিনি আরও যোগ করেন, মহান নেতা প্রতিটি শ্রেণি ও গোষ্ঠীর সাথে সামঞ্জস্য রেখে, তাদের বৈশিষ্ট্য ও চাহিদার গভীর জ্ঞান নিয়ে কথা বলেন। এজন্যই তাঁর বক্তব্য সর্বদা গভীর, যথাযথ ও প্রভাবশালী হয়।
ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পরিষদের মহাসচিব জোর দিয়ে বলেন— অতএব, এই স্পর্ধার একমাত্র ফল হলো এরূপ অমার্জিত কথা বলার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই সম্মানহানি ঘটানো এবং তারা সব ন্যায়নিষ্ঠ শ্রোতার কাছেই উপহাসের পাত্রে পরিণত হন।
পবিত্র কোরআনে বর্ণিত মুশরিকদের পবিত্র নবী (সা.)-এর প্রতি দেওয়া অপপ্রচারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যেমন কোরআন বর্ণনা করে, তারা আল্লাহর নবীকে ‘পাগল’ আখ্যা দিত। কিন্তু এসব অপবাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র মর্যাদায় বিন্দুমাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি; বরং তা কেবল উক্তকারীদেরই লজ্জা ও অপমানে নিপতিত করেছে। আজও বিপ্লবের নেতার প্রতি অন্যায় অপবাদ একই ভূমিকা পালন করছে।
আয়াতুল্লাহ শাবজিন্দেহদার বলেন, (ডোনাল্ড ট্রাম্পের) এসব কথা অজ্ঞতা, অহংকার ও নফসের কামনার দাসত্বেরই ফল। তিনি বলেন, এরূপ ব্যক্তিরা তাদের বক্তব্য দিয়ে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে না; বরং তারা ইরানের জনগণ ও বিশ্ববাসীর জন্য ইরানবাসীর প্রকৃত শত্রুদের চিত্রই উন্মোচিত করে। যেসব শত্রু বুদ্ধিবৃত্তিক, বিশ্লেষণী এবং এমনকি রুচি ও শব্দচয়নের দিক থেকেও দৈন্য ও অধঃপতনের শিকার।
অরাজকতার সংঘটক, সম্পাদক ও উসকানিদাতারা 'মুহারিব' ও 'বাগি'
ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিলের ফিকহ বিশেষজ্ঞ সদস্য তার বক্তব্যের আরেক অংশে অরাজকতা সম্পর্কিত ইসলামী ফিকহের বিধান ব্যাখ্যা করে সুস্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইসলামী আইনশাস্ত্রে সমাজের নিরাপত্তা বিপন্নকারী ব্যক্তিদের জন্য সুনির্দিষ্ট ধর্মীয় শাস্তিমূলক শিরোনাম রয়েছে। যারা অস্ত্রধারণ, হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে অপকর্মে লিপ্ত হয়, তারা 'মুহারিব' (ইসলামী রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারী) হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং ফিকহে তাদের বিধান সুবিদিত।
তিনি— প্রতারিত ব্যক্তি ও অরাজকতার মূল হোতাদের মধ্যে পার্থক্য টেনে বলেন, যারা কেবল অজ্ঞতা বা প্রতারণার শিকার হয়ে কোনো কোনো সমাবেশে উপস্থিত ছিল, অথচ যাদের হাতে জনগণের রক্ত বা ধ্বংসের দাগ নেই, তারা ইসলামের দয়া ও করুণার আওতায় আসতে পারে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, যাদের হাতে জনগণের রক্ত লেগেছে, যারা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছে বা সমাজের নিরাপত্তাকে সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে, তারা পরিস্থিতি ও শর্ত অনুযায়ী ইসলামী আইনের 'মুহারিব', 'বাগি' (অন্যায় বিদ্রোহী) ও 'জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী' শিরোনামের আওতায় পড়বে এবং ইসলামী শরীয়তে তাদের বিধান সম্পূর্ণ স্পষ্ট।
আয়াতুল্লাহ শাবজিন্দেহদার আরও যোগ করেন, এমন ব্যক্তিরাও যারা সরাসরি ময়দানে না এসে কৌশলে উসকানি, উত্তেজনা, অস্ত্র সরবরাহ বা অন্যান্যদের সংগঠিত করে ইসলামী শাসনব্যবস্থা উৎখাত এবং ঔপনিবেশিক শক্তির ইচ্ছা ও দাসত্ব দ্বারা তা প্রতিস্থাপনের চেষ্টা চালায়, তারাও 'বুগাত' (সশস্ত্র বিদ্রোহী)-এর অন্তর্গত এবং ঐশী বিধানের আওতায় আসবে।
তিনি শেষে জোর দিয়ে বলেন, বিচার বিভাগের দায়িত্ব ইসলামী ও ফিকহী মানদণ্ডের ভিত্তিতে এইসব ব্যক্তির মোকাবিলা করা এবং তাদের অপকর্ম ও ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তি নিশ্চিত করা। কারণ ইসলামী সমাজের নিরাপত্তা রক্ষা ও জনগণের জীবন-সম্পদের হেফাজত ইসলামী শাসনব্যবস্থার অন্যতম প্রধান কর্তব্য।
আপনার কমেন্ট