সোমবার ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৮:৫৯
ইচ্ছাকৃতভাবে পরিবেশ ধ্বংস করা 'হারাম'

হযরত আয়াতুল্লাহ নূরে হামাদানী বলেছেন: জনসাধারণের পরিবেশের ইচ্ছাকৃত ধ্বংস মানুষের অধিকার লঙ্ঘন, অন্যদের ক্ষতি সাধন, জনগণের আমানতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, আল্লাহর নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও শারঈ বিধানের লঙ্ঘন এবং 'হারাম'।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত বিপদের ওপর জাতীয় সম্মেলনে হযরত আয়াতুল্লাহ নূরে হামাদানীর বার্তার বিবরণ নিম্নরূপ:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজাহানের পালনকর্তা আল্লাহর জন্য। রাসূল (সা.) ও তাঁর পবিত্র আহলে বাইত (আ.)-এর প্রতি সালাত ও সালাম, বিশেষত যমীনের ওপর আল্লাহর অবশিষ্ট প্রতিনিধি (আ.)-এর প্রতি। আর কিয়ামত পর্যন্ত তাদের সকল শত্রুর প্রতি লানত।

সর্বোচ্চ আল্লাহ মানুষের জন্য তার বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক বিকাশ, সাফল্য ও সুখের জন্য বিশুদ্ধ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি প্রাকৃতিক ও মানবিক পরিবেশকে মানবজাতির জন্য একটি আমানত হিসেবে রেখেছেন। আমাদের যা প্রয়োজন তার সবকিছুই তিনি তার অফুরন্ত নিয়ামত থেকে আমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। পরিবেশের সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও উন্নয়ন আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় ও আমানত সংরক্ষণের অংশ। এটি একটি শারঈ কর্তব্য এবং সমগ্র মানবসমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

হযরত আমীরুল মুমিনীন আলী ইবনে আবী তালিব (আ.) বলেছেন: আল্লাহর বান্দা ও তার জমিনের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তোমরা জমিন ও পশুপাখির ব্যাপারেও জিজ্ঞাসিত হবে। আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তার নাফরমানী করো না। (নাহজুল বালাগা, খুতবা নং ১৬৬)

সুতরাং পরিবেশ সংরক্ষণ আল্লাহর ওয়াজিব বিধান। এতে পরিবেশের সংরক্ষণ, পুনরুজ্জীবন ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত। সমুদ্র, হ্রদ, নদী, বাঁধের জলাধার, জলাভূমি, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর, বন, মাটি, তৃণভূমি ও বায়ু; জৈবিক বৈচিত্র্য এবং আইনের মাধ্যমে এসব সম্পদের টেকসই ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ, যা পুনরুজ্জীবনের ক্ষমতা ও সহনশীলতা অনুযায়ী; টেকসই মানদণ্ড ও নির্দেশক অনুযায়ী সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন পরিবেশগত ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ও পেশাদার সূচক পর্যায়ে জেনেটিক সম্পদের সংরক্ষণ ও উন্নয়ন।

অন্যদিকে, জনসাধারণের পরিবেশের ইচ্ছাকৃত ধ্বংস মানুষের অধিকার লঙ্ঘন, অন্যদের ক্ষতি সাধন, জনগণের আমানতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা, আল্লাহর নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও শারঈ বিধানের লঙ্ঘন এবং 'হারাম'। এবং কিছু ক্ষেত্রে, যেমন বিভিন্ন ধরনের দূষণ যা রোগ সৃষ্টি করে এবং মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে, তা শারঈ জিম্মাদারী বয়ে আনে। পবিত্র কুরআন, হাদীস, ধর্মীয় উৎস এবং আহলে বাইত (আ.)-এর ফিকাহ পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে এবং এর ধ্বংসের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা স্পষ্টভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

কুরআনের আয়াতসমূহ পৃথিবীর সংশোধনোত্তর তাতে ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করার প্রতি দৃষ্টিপাত;
মানুষের নেতিবাচক কর্মের কারণে স্থল ও জলে ফাসাদ প্রকাশ পাওয়ার কঠোর নিন্দা;
যুদ্ধের সময়েও বৃক্ষনিধন নিষিদ্ধকরণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণে নবী করীম (সা.)-এর আদর্শ;
প্রাণী ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার সম্পর্কে ইমাম আলী (আ.)-এর উপদেশ –
এগুলো কুরআন ও মা‘সুমীন (আ.)-এর পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত শিক্ষার মাত্র ক্ষুদ্র নমুনা।

এর সাথে সাথে, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সংবিধানের ৪০, ৪৫, ৫০ ও ১৭৬ নং ধারা এবং পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক সামগ্রিক নীতিমালা পরিবেশ, পরিবেশগত ঝুঁকি ও জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে।

পরিবেশগত অবহেলা: বায়ুদূষণ, ভূমিধস, বনাঞ্চল ধ্বংস – জাতীয় ঝুঁকি বয়ে আনে।
প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে জনসমাজ ও জিহাদী প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন মনে করছি:

১. জাতীয় নিরাপত্তার ওপর পরিবেশগত ঝুঁকির বিভিন্ন দিকের ব্যাপক ফিকহী বিধান ও শারঈ নিয়ম-নীতি চিত্রায়ন ও ব্যাখ্যায় ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপর পরিবেশগত ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে শিক্ষিত করতে অভিজাত বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের কারিগরি সক্ষমতা ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা;

২. বায়ু, পানি, মাটি ও জৈববৈচিত্র্যের মতো জীবননির্ভর সম্পদের সামগ্রিক, সুসংহত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা, যথাযথ আইনগত ও কাঠামোগত সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি জনগণের অংশগ্রহণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বন;

৩. প্রজন্মান্তরে ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন ও পরিবেশগত সম্পদের টেকসইতা নিশ্চিত করার প্রতি মনোযোগ;

৪. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ও জনসাধারণের সহযোগিতায় পরিবেশগত উন্নয়নের সাথে সঙ্গতি রেখে জনস্বাস্থ্য ও জীবনযাপনের মান উন্নয়ন;

৫. পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন ক্ষেত্রে সুশাসনের সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ, যাতে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি দূরীভূত ও প্রতিহত করা এবং পরিবেশগত সংকট মোকাবেলা করা যায়।

অবশেষে, ইমাম হোসাইন (আ.) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিষয়ক এই জাতীয় সম্মেলন আয়োজনের জন্য আমি আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি এবং সম্মেলনের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলের সাফল্য কামনা করছি। আরও কামনা করছি ইসলামী বিপ্লবের মহান নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উযমা খামেনেঈ (দীর্ঘজীবী হোন) এর সম্মানিত দীর্ঘায়ু ও সমুন্নতি, ইসলাম ও ইরানের দুশমনদের সকল চক্রান্ত ও কূটষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়া, আমাদের প্রিয় দেশবাসী ও সকল মুসলিম অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা ও সকল ঝুঁকি থেকে তাদের মুক্তি এবং বিশেষভাবে হযরত বাকিয়াতুল্লাহ আল-আ‘যম (আ.)-এর দৃষ্টি আকর্ষণ।

ওয়াসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

হোসাইন নূরে হামাদানী

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha