হাওজা নিউজ এজেন্সি: হরমোজগান থেকে পাঠানো এক বার্তায় পঞ্চম জাতীয় সম্মেলন ‘মাহদাভিয়াত ও ইসলামি বিপ্লব’ উপলক্ষে তিনি ইসলামে ও শিয়া মতাদর্শে মাহদাভিয়াতের মৌলিক অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ইতিহাসজুড়ে মাহদাভিয়াত মানবসমাজকে জাগ্রত করা, জুলুমবিরোধী আন্দোলন পরিচালনা এবং স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগ্রামের মূল প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। এর চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো—মানবজাতিকে বৈশ্বিক ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা।
তাঁর বার্তার নির্বাচিত অংশ:
শিয়া সংস্কৃতিতে গায়েবাতের যুগ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী অধ্যায়। মাহদাভিয়াত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানবসমাজের জাগরণ এবং শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত সব আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। এই বিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত সত্যের পক্ষের চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করবে।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন— “আমি জাবুরে স্মরণবাণীর পর লিখে দিয়েছি, পৃথিবীর উত্তরাধিকার হবে আমার সৎ বান্দাদের।”
এই আয়াত নির্দেশ করে যে, মুমিনদের উচিত তাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনকে এই বিশ্বাসের আলোকে গঠন করা। শিয়া রাজনৈতিক চিন্তায় মেহদাবাদ একটি মৌলিক স্তম্ভ এবং আমাদের সময়ে সংঘটিত ইসলামি বিপ্লব এই চিন্তারই বাস্তব রূপ।
বিশ্বের অধিকাংশ বিপ্লব সামাজিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক কারণনির্ভর হলেও ইরানের ইসলামি বিপ্লব ছিল ব্যতিক্রম। এটি ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি গণবিপ্লব, যার মূল চালিকাশক্তি ছিল মাহদাভিয়াত। এই বিপ্লবের দিকনির্দেশনা শেষ পর্যন্ত ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের সঙ্গেই সংযুক্ত।
তিনি বলেন, ইসলামি বিপ্লবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো—গায়েবাতের যুগে বেলায়েতে ফকিহ তত্ত্বের বাস্তবায়ন। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ ফকিহ ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর সাধারণ নায়েব হিসেবে সমাজ পরিচালনা ও আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করেন। এই দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য প্রযোজ্য। সে কারণে ওলিয়ে ফকিহ কেবল রাজনৈতিক নেতা নন, বরং তিনি ধর্মীয় প্রতিনিধিত্বের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
আয়াতুল্লাহ নূরি হামাদানি স্মরণ করিয়ে দেন, ইমাম খোমেনী (রহ.) বারবার ইসলামি বিপ্লব ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের প্রস্তুতিমূলক পর্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আত্মপ্রস্তুতির ওপর জোর দিয়ে বলেছেন—হাদিসে বর্ণিত ‘তরবারি প্রস্তুত রাখার’ নির্দেশ আসলে সর্বাত্মক প্রস্তুতির প্রতীক।
তিনি আরও বলেন, আবির্ভাব-পরবর্তী সমাজব্যবস্থার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবারকে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থা যদি মাহদাভী সমাজের মানদণ্ড অনুযায়ী গড়ে না ওঠে এবং পরিবারগুলো যদি ‘প্রতীক্ষার সংস্কৃতি’ চর্চা না করে, তবে সামাজিক বিচ্যুতি অনিবার্য হয়ে উঠবে।
বর্তমান যুগকে তিনি গায়েবাতের এক বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর অনুগ্রহে একটি ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পাওয়া হয়েছে। তাই বেলায়েতে ফকিহভিত্তিক এই রাষ্ট্রব্যবস্থার কদর করা এবং একে মানবজাতির ত্রাণকর্তার আবির্ভাবের প্রস্তুতিতে কাজে লাগানো আমাদের দায়িত্ব।
বার্তার শেষাংশে তিনি বলেন, বুদ্ধিজীবী সমাজ—বিশেষত হাওজায়ে ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর দায়িত্ব রয়েছে আধুনিক চ্যালেঞ্জ, বিশেষ করে ভার্চুয়াল জগৎ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে সৃষ্ট হুমকিগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির ইতিবাচক দিকগুলো কাজে লাগিয়ে সমাজকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাজারো শহীদের ত্যাগ ও জনগণের সংগ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই ইসলামি বিপ্লব—বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী (দামাত বারাকাতুহু)-এর প্রজ্ঞাবান নেতৃত্বে—ইনশাআল্লাহ ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর আবির্ভাবের সঙ্গে সংযুক্ত হবে।
শেষে তিনি ইমাম যামান (আ.ফা.)-এর সৈনিক হওয়ার তাওফিক কামনা করেন এবং ‘মাহদাভিয়াত ও ইসলামি বিপ্লব’ সম্মেলনের আয়োজকদের, বিশেষত হযরত মাহদী মওউদ (আ.ফা.) সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানান।
হুসেইন নূরি হামাদানি
আপনার কমেন্ট