হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বহুল প্রচারিত খবরে প্রকাশ—
বর্তমান উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারত আপাতত ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। এই অবস্থানের জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানানো যায়—কূটনৈতিক বিচারে।
কিন্তু প্রশ্ন এখানেই শেষ নয়।
বরং প্রশ্নটা এখান থেকেই শুরু।
কারণ, ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে আজ পর্যন্ত ইরান এক নয়—ইরান দুই ভাগে বিভক্ত।
এবং আশ্চর্যের বিষয়—দুটি দলই নিজেদের ‘শিয়া’ বলে দাবি করে।
ইরানের সেই দুই স্পষ্ট ধারা—
(এক) আমেরিকার পোষ্য, শাহ পাহলভীর রাজতান্ত্রিক পারস্য— যেখানে আগুন পূজারী সংস্কৃতি, পাশ্চাত্যের গোলামী লোক দেখানো শিয়া, লোক দেখানোর জন্য পতকাতে সূর্য ও সিংহ প্রতিক লাগিয় আলী আলী জোর জাওয়া তুলেছে৷ যারা জায়োনবাদী ছায়াতলে রাজ ক্ষমতা বাঁচার মানসিকতা ছিল রাষ্ট্রীয় আদর্শ।
(দুই)
১৯৭৯-পরবর্তী ইরান—
গাদীরে খুমের আলোকে মওলা আলী বাস্তবিক বেলায়াতের শিক্ষার বাস্তবায়ন৷ কারবালার আদর্শে জুলুমের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ, ইমাম হুসাইন (আঃ)-এর রক্তধারায় গড়ে ওঠা এক ইনকিলাবি প্রতিরোধী রাষ্ট্র দর্শণ৷ মুজলুমকে আগলে রাখা ও জুলুমের চোখে চোখ রেখে সত্যের বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালানো৷
দুটি দলই শিয়া—
কিন্তু একটি শিয়া বর্তমান ইয়াজিদের দরবারে, আরেকটি শিয়া যুগের বা কালের কারবালার ময়দানে।
এখন প্রশ্ন—
ভারতসহ যেসব রাষ্ট্র, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান আজ বলছে—
“আমরা ইরানের পাশে”— তারা কোন ইরানের পাশে?
শাহ পাহলভীর সেই পুরনো পারস্যের? না কি ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনী (রহঃ) থেকে শুরু হয়ে
ইমাম আলী খামেনাঈ (হা.)-এর নেতৃত্বে গড়ে ওঠা
প্রতিরোধের ইরানের?
এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।
কারণ ইতিহাস একটাই শিক্ষা দেয়— যে শক্তি আমেরিকার ছায়ায় দাঁড়ায়, জালেম জায়োনবাদের সঙ্গে আপস করে, আল্লাহর পথে প্রতিরোধকে ‘চরমপন্থা’ বলে— সে শক্তি টেকে না। সে রাষ্ট্র ধ্বংস হয়—শুধু সময়ের অপেক্ষা।
আজ যারা শাহ পাহলভীর ভূতকে পুনর্জীবিত করার স্বপ্নে ইরানের পাশে দাঁড়ায়— তারা আসলে ইরানের পাশে নয়, তারা দাঁড়িয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে।
স্পষ্ট করে বলতেই হবে— ইরান মানে শুধু একটি ভূখণ্ড নয় ইরান মানে একটি অবস্থান।
যে ইরান গাজায় দাঁড়ায়, ইয়েমেনে দাঁড়ায়, লেবাননে দাঁড়ায়, আর কারবালার উত্তরাধিকার বহন করে—
সেই ইরানই টিকে থাকবে। আর যারা শাহ পাহলভীর আগুনে হাত সেঁকতে চায়— তারা আগুনেই পুড়বে।
ইতিহাস সাক্ষী। কারবালা সাক্ষী। সময়ই চূড়ান্ত ফয়সালা দেবে।
আপনার কমেন্ট