হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে অবস্থিত হযরত ফাতিমা মাসুমা (সা.আ.)-এর মাজারে সাম্প্রতিক বিদেশ-সংযুক্ত দাঙ্গায় নিহত শহীদদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন আবদুল্লাহ হাজ্ব সাদেকি।
তিনি বলেন, “আজ শুধু একটি মার্কিন ঘাঁটি নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের সব স্বার্থ এবং তাদের আঞ্চলিক ভাড়াটে বাহিনীই আমাদের নাগালের মধ্যে রয়েছে।”
তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সশস্ত্র বাহিনীর আঙুল ট্রিগারে রয়েছে। শত্রুপক্ষের যেকোনো পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে স্থল ও সমুদ্রে ভয়াবহ ও ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে, যেখানে অঞ্চলের সব মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।”
প্রেস টিভির বরাতে বলা হয়েছে, এসব বক্তব্য আসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দেন এবং এ উদ্দেশ্যে একটি বিমানবাহী রণতরী-নেতৃত্বাধীন নৌবহর অঞ্চলটিতে পাঠান।
হাজ্ব সাদেকি সতর্ক করে বলেন, পরবর্তী যেকোনো আগ্রাসন আগেরটির তুলনায় “অনেক বেশি ভয়াবহ” হবে। তিনি গত বছরের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসনের মধ্যেই ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছিল।
ইরানে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবাদে হস্তক্ষেপমূলক নৈরাজ্য সৃষ্টির ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হওয়ার পরই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হুমকি দেওয়া শুরু করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওই অস্থিরতার সময় সশস্ত্র ভাড়াটে বাহিনীর সহায়তায় এগিয়ে আসার কথাও প্রকাশ্যে বলেন। এসব সহিংসতায় মোট ৩,১১৭ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে ২,৪২৭ জন ছিলেন বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
হাজ্ব সাদেকি বলেন, ট্রাম্প “চূড়ান্ত আঘাত” হানার অঙ্গীকার করেছিলেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ডাররা তাকে জানিয়ে দেন যে ইরান অন্য দেশগুলোর মতো নয়। এর ফলে তিনি সামরিক হামলা থেকে সরে এসে তা এড়িয়ে যাওয়ার জন্য মিথ্যা ও অজুহাতনির্ভর রাজনৈতিক ব্যাখ্যার আশ্রয় নেন।
তিনি আরও বলেন, গত কয়েক মাসে শত্রুপক্ষ একটি সমন্বিত অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা চালায়। এই ষড়যন্ত্রের প্রথম ধাপে ২০২৫ সালের ১৩ থেকে ২৭ জুনের মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ও উসকানিমূলক আগ্রাসন সংঘটিত হয়।
এই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুপক্ষ দ্বিতীয় ধাপে দাঙ্গা উসকে দেয় এবং কিছু এজেন্ট নিয়োগ করে, যাদের দায়িত্ব ছিল মানুষ হত্যা করা এবং মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ করা।
হাজ্ব সাদেকি বলেন, “আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতার প্রধান উৎস হলো জাতি ও সর্বোচ্চ নেতার মধ্যকার অটুট ও অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। আমাদের শক্তি কেবল আমাদের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সেই জনগণের দৃঢ় আত্মিক শক্তিতে নিহিত, যারা কখনোই বৈশ্বিক দম্ভ ও আধিপত্যের কাছে নতি স্বীকার করে না।”
আপনার কমেন্ট