শনিবার ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ - ১৭:০১
ইরানি সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায়, ট্রিগারে আঙুল: সেনাপ্রধান

আঞ্চলিক উত্তেজনা, সাম্প্রতিক সংঘাত এবং চলমান কূটনৈতিক ও তথ্যযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরান সামরিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। তেহরান বলছে, যেকোনো হুমকির জবাবে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা প্রস্তুত।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: শনিবার সকালে তেহরানে অনুষ্ঠিত ১৮তম জাতীয় তরুণ সৈনিক উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এ মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি হযরত আলী-আকবর (আ.)–এর জন্মবার্ষিকী ও যুব দিবস উপলক্ষে উপস্থিতদের অভিনন্দন জানান।

জেনারেল হাতামি বলেন, অনুষ্ঠানটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরান সম্প্রতি ১২ দিনের একটি সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে এবং এরপরও দেশটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের শত্রুতামূলক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব নতুন করে তুলে ধরেছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, প্রতিপক্ষ প্রকাশ্যে ইরানের পারমাণবিক বিজ্ঞানী, পারমাণবিক অবকাঠামো এবং সামগ্রিক পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংসের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল। একই সঙ্গে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা—বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি—নষ্ট করা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা চালানো হয়।

তিনি বলেন, শত্রুপক্ষ দাবি করেছিল যে এসব পরিকল্পনা ১৮ বছর ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে, তবে বাস্তবে এই চাপের সূচনা হয়েছিল প্রায় পাঁচ দশক আগে, ইসলামী বিপ্লবের পরপরই সামরিক ও প্রতিরক্ষা নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে। তাঁর মতে, এসব সিদ্ধান্ত ও হিসাব-নিকাশ ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

জেনারেল হাতামি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয় এবং তা ধ্বংস করা সম্ভব নয়। যতদিন ইরানের যুবসমাজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং জ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কেন্দ্রগুলো সক্রিয় থাকবে, ততদিন এই সক্ষমতা বজায় থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে দেশীয় এবং অপরিবর্তনীয়। তাঁর মতে, ১২ দিনের সংঘাত থেকে অর্জিত বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতার ফলে ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।

সেনাপ্রধান দাবি করেন, সংঘাত চলাকালে কিছু সামরিক কমান্ডার নিহত হলেও দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গঠন করা হয়েছে, যা বাহিনীর সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে।

অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জেনারেল হাতামি বলেন, ইরানের শত্রুরা অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। তবে তাঁর মতে, জনগণ দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা, স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়।

তিনি বলেন, বর্তমানে সংঘাতের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে এবং তা তথ্য, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে অব্যাহত রয়েছে, যার লক্ষ্য বিভ্রান্তি ও বিভাজন সৃষ্টি করা।

জেনারেল হাতামির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিরোধী কিছু গোষ্ঠী দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্য অনুসরণ করছে। তবে তিনি দাবি করেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইরান তার ভূখণ্ড অক্ষুণ্ণ রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং দীর্ঘ আট বছরের যুদ্ধের মধ্যেও দেশের কোনো অংশ হারায়নি।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha