হাওজা নিউজ এজেন্সি: ২০২৬ সালের জানুয়ারি বিশেষ করে ৮ ও ৯ তারিখে এমন এক সহিংসতার সাক্ষী হয়েছে, যার নজির সমসাময়িক ইতিহাসে বিরল। এই সহিংসতায় মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে এবং সরকারি সম্পত্তি ও মসজিদে অগ্নিসংযোগের ফলে আকাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই মাত্রার সহিংসতা রেজা পাহলাভির বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে শুধু নিন্দিতই হয়নি, বরং একে তথাকথিত ‘সংগ্রামের অপরিহার্য উপাদান’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি কেউ কেউ ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবকেও এ ধরনের সহিংস আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করার চেষ্টা করেছেন।
জানুয়ারি মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনটির সূচনা হয়েছিল ন্যায্য অর্থনৈতিক দাবিদাওয়া নিয়ে—যে দাবিগুলোর বৈধতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও স্বীকার করেছিল। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই প্রতিবাদ পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গায় রূপ নেয়। প্রতিবাদ হলো সংস্কার ও সংশোধনের জন্য, আর দাঙ্গা হলো ধ্বংস ও বিশৃঙ্খলার জন্য। এই দুইয়ের পথ ও লক্ষ্য এক নয়, এবং ৮ ও ৯ জানুয়ারির ঘটনাবলি সেই পার্থক্যকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
সহিংসতার উচ্চমাত্রা, পরিকল্পিতভাবে মসজিদ ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস এবং দাঙ্গাকারীদের সশস্ত্র উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এটি একটি সংগঠিত প্রকল্পের ইঙ্গিত দেয়। এমন একটি প্রকল্প, যেখানে মানবিক ক্ষয়ক্ষতিকে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যে ক্ষতি যুদ্ধের মাধ্যমে চাপিয়ে দিলে বিপুল আর্থিক ব্যয় ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হতো, তা মাত্র দুই দিনের মধ্যেই অভ্যন্তরীণভাবে বিভ্রান্ত কিছু ব্যক্তির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
এই ঘটনার সঙ্গে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের তুলনা করা ইতিহাসের বিকৃতি ছাড়া কিছুই নয়। ইরানের জনগণের বিপ্লব সফল হয়েছিল জাতীয় ঐক্য, শান্তিপূর্ণ গণমিছিল এবং সর্বাত্মক ধর্মঘটের মাধ্যমে। ইমাম খোমেনি স্পষ্টভাবে জনগণের জান-মালের ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ নিষিদ্ধ করেছিলেন। এই মৌলিক পার্থক্যই ‘বিপ্লব’ ও ‘দাঙ্গা’র মধ্যকার সুস্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করে।
আপনার কমেন্ট