হাওজা নিউজ এজেন্সি: এক বক্তব্যে তিনি শাবানের মধ্য রজনীকে আহলে বাইত (আ.)-এর জন্য ‘লাইলাতুল কদর’-এর মর্যাদাসম্পন্ন রাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর ওলি ইমাম মাহদী (আ.ফা.) জন্মের মাধ্যমে মানুষ সর্বোত্তম বরকত লাভ করে। কারণ তিনি খাইরু আহলিল আরদ—পৃথিবীর মানুষের জন্য সর্বোচ্চ কল্যাণস্বরূপ। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষের অস্তিত্বগত প্রভাব সমগ্র পৃথিবী ও তার অধিবাসীদের ওপর কল্যাণ বয়ে আনে।
তিনি বলেন, বর্তমান যুগের আল্লাহর শেষ হুজ্জাত ও মানবজাতির জন্য কল্যাণস্বরূপ হযরত ইমাম মাহদী (আ.ফা.) ২৫৫ হিজরি সনের শাবানের মধ্য রজনীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এই আনন্দঘন জন্মরাতটি এক অত্যন্ত বরকতময় রজনী, যা লাইলাতুল কদর হওয়ার সম্ভাবনাও বহন করে। এ কারণেই এ রাতে লাইলাতুল কদরের কিছু আমল পালনের প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি বলেন, শাবানের মধ্য রজনী এমন এক বরকতময় রাত, যার ফজিলত বহু দিক থেকে লাইলাতুল কদরের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। যেমন লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে—
فَإِنَّهَا لَيْلَةٌ آلَى اللَّهُ عَلَى نَفْسِهِ أَنْ لَا يَرُدَّ سَائِلًا فِيهَا مَا لَمْ يَسْأَلْ مَعْصِيَةً
“এটি এমন এক রাত, যাতে আল্লাহ নিজের ওপর অঙ্গীকার করেছেন—যদি কেউ গুনাহের কিছু না চায়, তবে তিনি কোনো প্রার্থনাকারীকেই প্রত্যাখ্যান করবেন না।”
তিনি আরও বলেন, ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর এক নূরানী বাণী থেকে প্রতীয়মান হয় যে, শাবানের মধ্য রজনীও তার নিজস্ব মর্যাদায় ‘শবে কদর’ এবং এতে তাকদির নির্ধারণের একটি স্তর বিদ্যমান। তিনি এ রাতকে লাইলাতুল কদরের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন—
إِنَّهَا اللَّيْلَةُ الَّتِي جَعَلَهَا اللَّهُ لَنَا أَهْلَ الْبَيْتِ إِزَاءَ مَا جَعَلَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ لِنَبِيِّنَا صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَآلِهِ وَسَلَّمَ
“এটি সেই রাত, যা আল্লাহ আমাদের আহলে বাইতের জন্য নির্ধারণ করেছেন, যেমন তিনি আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্য লাইলাতুল কদর নির্ধারণ করেছিলেন।”
ইমাম মুহাম্মাদ আল-বাকির (আ.)-কে যখন শাবানের মধ্য রজনীর ফজিলত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি বলেন—
هِيَ أَفْضَلُ لَيْلَةٍ بَعْدَ لَيْلَةِ الْقَدْرِ، فِيهَا يَمْنَحُ اللَّهُ تَعَالَى الْعِبَادَ فَضْلَهُ وَيَغْفِرُ لَهُمْ بِمَنِّهِ
অর্থাৎ, লাইলাতুল কদরের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রাত হলো শবে নিমে শাবান। এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের তাঁর অনুগ্রহ দান করেন এবং নিজ দয়া ও করুণায় তাদের ক্ষমা করেন।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা এই রাতে শপথ করেছেন—
فَاجْتَهِدُوا فِي الْقُرْبَةِ إِلَى اللَّهِ تَعَالَى فِيهَا، فَإِنَّهَا لَيْلَةٌ آلَى اللَّهُ تَعَالَى عَلَى نَفْسِهِ أَلَّا يَرُدَّ سَائِلًا فِيهَا مَا لَمْ يَسْأَلْ مَعْصِيَةً
অতএব, এই রাতে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সচেষ্ট হওয়া, দোয়া, ইবাদত ও আল্লাহর জিকির-প্রশংসা ও স্তুতিতে আত্মনিয়োগ করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আপনার কমেন্ট