মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৮:১৩
ঈমাম মাহদী (আ.) এর ইমামত

ইমাম আসকারী (আ.) এর মৃত্যূর সময় ইমাম মাহদী (আ.) এর বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। অর্থাৎ ৫ বছর বয়স থেকেই তিনি ইমামত প্রাপ্ত হন। 

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইমাম আসকারী (আ.) এর মৃত্যূর সময় ইমাম মাহদী (আ.) এর বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। অর্থাৎ ৫ বছর বয়স থেকেই তিনি ইমামত প্রাপ্ত হন। 
দেশের মারাত্মক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তাকে জনসাধারণের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়। তখন তিনি আল্লাহর হুকুমে অদৃশ্য অবস্থানে (গায়েব) চলে যান। তার ফলে আব্বাসীয়রা তাকে খুজে বের করে হত্যা করতে পারেনি। 
গায়েব অবস্থায় ইমাম মাহদী তার কতিপয় বিশিষ্ট প্রতিনিধির মাধ্যমে জনগণের জন্য নিজের বাণী প্রকাশ করেন। জনসাধারণকে ধর্মবাণী ও উপদেশ প্রদানের জন্য ইমাম তার পিতা ও পিতামহের এককালীন ঘনিষ্ঠ সহচর উসমান ইবনে সাঈদ আল আমরীকে নিজের বিশেষ প্রতিনিধি নিয়োগ করেন। তার মাধ্যমেই ধর্মপ্রাণ অনুসারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব ও সমস্যার সমাধান দেয়া হতো। তার মৃত্যুর পর তার পুত্র মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল আমরী ডেপুটির দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। এভাবে পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন আবুল কাসিম আল হোসাইন ইবনে রুহ আল নওবখতি, আলী ইবনে মুহাম্মদ আস সামুরী। ৩২৯ হিজরীতে আস সামুরীর মৃত্যুর কয়েকদিন আগে গায়েব অবস্থান থেকে ইমাম মাহদী এক ঘোষণা প্রদান করেন যে, ছয় দিনের মধ্যে আস সামুরী মারা যাবেন এবং সেই সাথে ইমামের প্রতিনিধিত্ব স্থগিত হয়ে যাবে। এখন হতে ইমাম আবার অদৃশ্য অবস্থানে চলে যাবেন।
ইমাম মাহদীর (আ.) গায়িব (অন্তথর্ধান) দু’ভাগে বিভক্ত
প্রথমত : গায়িবাতে সুগরা (স্বল্পকালীন অন্তর্ধান) : প্রথম গায়িব অবস্থার শুরু হয় ২৬০ হিজরীর (৮৭২ খ্রি.) রবিউল আউয়াল মাসে এবং তা শেষ হয় ৩২৯ হিজরীতে (৯৩৯ খ্রি.)শাওয়াল মাসে। প্রথম গায়িব সময়কাল ছিল ৭০ বছর।
দ্বিতীয়ত : গায়িবাতে কুবরা (দীর্ঘকালীন অন্তর্ধান) : দ্বিতীয় প্রধান গায়িব শুরু হয় ৩২৯ হিজরীতে এবং আল্লাহর যতদিন ইচ্ছা ততদিন এ অবস্থানকে বলবৎ রাখবেন। নির্ভর যোগ্য বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, মহা নবী (সা.) বলেছেন- “এ বিশ্বজগত ধ্বংস হওয়ার জন্য যদি একটি দিনও অবশিষ্ট থাকে, তাহলে মহান আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই সে দিনটিকে এতবেশী দীর্ঘায়ীত করবেন, যাতে আমার সন্তান মাহদী (আ.) আত্মপ্রকাশ করতে পারে এবং অন্যায় অত্যাচারে পরিপূর্ণ এ পৃথিবীতে সম্পূর্ণরূপে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারে।” (বিহারুল আনওয়ার, ৫১তম খণ্ড, পৃ. ৩৬০ থেকে৩৬১। শেখ তুসি, কিতাবুল গেইবাত, পৃ. ২৪২।)

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha