হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার তিনি ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক বক্তৃতায় এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় ইসলামী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সংস্থা—আল-মাহদী স্কুলসমূহের ৩৩তম বার্ষিক উদযাপন উপলক্ষে, যা ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে সমাপতিত।
আল-মানার টিভির ইংরেজি ওয়েবসাইটের বরাতে বক্তৃতার শুরুতে শেখ নাঈম কাসেম বলেন, “মুসলমানরা সর্বসম্মতভাবে বিশ্বাস করে যে ইমাম মাহদী (আ.ফা.) শেষ যুগে আবির্ভূত হবেন, যদিও এ বিষয়ে কিছু মতপার্থক্য রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত মুমিনদের ধৈর্য ধারণ করা উচিত।”
তিনি যোগ করেন, “ইমাম মাহদী (আ.ফা.)-এর প্রত্যাশিত আবির্ভাব আমাদের অন্তরে আশা জাগ্রত করে, আর এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত।”
ইরান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ইরানি জনগণ ও নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানাই। ইনশাআল্লাহ, এই যুগে সংঘটিত মোকাবিলায় ইরান আমেরিকা ও ‘ইসরায়েল’-কে পরাজিত করবে।”
পরবর্তীতে হিজবুল্লাহর এই নেতা বলেন, “আল-মাহদী স্কুল অ্যাসোসিয়েশন জাতীয় শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের অর্জিত উৎকর্ষতা একে লেবাননের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে স্থান দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “ইমাম মাহদী স্কুলসমূহ ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা অনুসরণ করে, যা নবীগণের শিক্ষারই ধারাবাহিকতা। এই শিক্ষা দেশপ্রেম, ভূমি রক্ষা এবং নিপীড়িতদের পক্ষে দাঁড়ানোর চেতনা সৃষ্টি করেছে।”
নাঈম কাসেম আরও বলেন, “আমরা শহীদ সাইয়্যেদ আবদুল করিম নাসরাল্লাহ এবং জিহাদি কমান্ডার হাজ্ব আবু আহমাদ সালহাবের শাহাদাতে শোকাহত।”
তিনি বলেন, “আমরা এমন এক মার্কিন আধিপত্যের মুখোমুখি, যা সারা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত। প্রশ্ন হলো—আমরা কি আমাদের অধিকার ও স্বার্থ ত্যাগ করে এই আধিপত্য ঠেকাব, নাকি আত্মসমর্পণ করে আমাদের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব ছেড়ে দেব?”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন আমাদের ভূমি, অস্তিত্ব ও মুক্তি রক্ষার পর্যায়ে অবস্থান করছি। আমরা এমন এক অস্তিত্বনাশী আগ্রাসনের সম্মুখীন, যা আমাদের সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন করতে চায়।”
নাঈম কাসেম বলেন, “কফার তিবনিত ও আইন কানা এলাকায় বসতবাড়িতে হামলার মাধ্যমে— যেখানে কোনো সামরিক সক্ষমতা নেই—শত্রু মূলত জনগণের মনোবল ভেঙে দিতে এবং তাদেরকে প্রতিরোধ ত্যাগে বাধ্য করতে চায়।”
তিনি আরও বলেন, “যারা যেকোনো অজুহাতে শত্রুর পক্ষে দাঁড়ায় এবং আমাদের আত্মসমর্পণে চাপ দেয়, তারা জাতীয় অবস্থান থেকে কথা বলছে না। ভূমি মুক্ত করা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা একটি জাতীয় দায়িত্ব।”
হিজবুল্লাহ নেতা বলেন, “যারা এই পথে বিশ্বাস করে, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, আমরা তাদের সঙ্গে আগ্রাসনের মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত; কারণ এটি একটি জাতীয় ইস্যু এবং আগ্রাসন পুরো দেশকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।”
লেবাননের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাদের বোঝান যে আপনারা নিজেদের জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারেন না। তাদের বলুন—‘আমরা পারি না।’”
সবশেষে তিনি বলেন, “যখন আগ্রাসন চলছে, তখন আমাদের ভাবতে হবে কীভাবে এর মোকাবিলা করা যায় এবং সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা যায়। আমাদের দায়িত্ব হলো প্রতিরোধ করা—আত্মসমর্পণ নয়।”
আপনার কমেন্ট