হাওজা নিউজ এজেন্সি: বুধবার প্রেস টিভি জানিয়েছে, লিবারম্যান বলেন, “আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে এবং এমন নিরাপদ স্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সেই লক্ষ লক্ষ মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে, যাদের কাছে বর্তমানে কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।”
এই মন্তব্য এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন লিবারম্যান স্বীকার করেছেন যে গত বছরের জুনে সংঘটিত ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তথাকথিত ‘কৌশলগত লক্ষ্যবস্তু’গুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে উসকানিহীন ও আগ্রাসী যুদ্ধ শুরু করে, যেখানে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত হয়। এর জবাবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অধিকৃত ভূখণ্ডজুড়ে একাধিক কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় এবং একই সঙ্গে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে আঘাত হানে—যা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সর্ববৃহৎ সামরিক ঘাঁটি।
নিরবচ্ছিন্ন পাল্টা হামলার চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে বাধ্য হয়।
লিবারম্যান আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতেই রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে ইসরায়েলের উচিত শান্ত থাকা এবং অপেক্ষা করা।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা ইসরায়েলের খুবই সীমিত, কারণ ভাগ্যনির্ধারণী সিদ্ধান্ত তিনিই নিয়ে থাকেন।”
এদিকে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান জেনারেল এয়াল জামির এবং গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান ডেভিড বারনেয়াসহ একাধিক শীর্ষ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ওয়াশিংটন সফর করেছেন। এই সফরগুলো এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ইরানের আশপাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে ইসরায়েল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার অনুমোদন দিতে চাপ দিচ্ছে; তবে এখন পর্যন্ত তিনি এতে অনাগ্রহী রয়েছেন।
অ্যাক্সিওসের উদ্ধৃতিতে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েলিরাই আসলে হামলা চায়। প্রেসিডেন্ট এখনো সেই অবস্থানে পৌঁছাননি।”
এই প্রতিবেদন এমন সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে পারে।
গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে হামলার হুমকি দেন এবং একই সঙ্গে সহিংস দাঙ্গাকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা পথে রয়েছে।”
এর জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো হামলার জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী। সেই জবাবে পুরো অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও সেনাদের পাশাপাশি ইসরায়েল-অধিকৃত শহরগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প তার অবস্থান পরিবর্তন করে সামরিক হামলার হুমকি থেকে সরে এসে ইরানের সঙ্গে একটি পারমাণবিক চুক্তির আহ্বান জানান।
অ্যাক্সিওস তিনজন শীর্ষ ট্রাম্প উপদেষ্টার বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্প এবং তার ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকেই এখন সন্দিহান যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা আদৌ সঠিক সিদ্ধান্ত হবে কি না।
এদিকে, ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ শুরু করে, তবে তা অনিবার্যভাবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেবে।
আপনার কমেন্ট