বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৮:৩০
প্রতীক্ষিত ত্রাণকের প্রতীক্ষা একত্ববাদী ধর্মগুলোর মধ্যে ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু: খ্রিস্টান ধর্মগুরু

হাওজা / গ্রেগর চিফটচিয়ান বলেছেন, প্রতীক্ষিত ত্রাণকের আবির্ভাবের প্রতীক্ষা সকল একত্ববাদী ধর্মের মধ্যে ঐক্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং এই বিশ্বাস থেকে দূরে সরে যাওয়া সমাজে গুরুতর ভুল, সংঘাত ও অস্থিরতার কারণ হয়, যার উদাহরণ আজকের বিশ্বে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

হাওজা নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজারবাইজানের আর্মেনিয়ান খ্রিস্টানদের আর্চবিশপ ও খলিফা-ই কুল, গ্রেগর চিফটচিয়ান বলেছেন, প্রতীক্ষিত ত্রাণকের আবির্ভাবের প্রতীক্ষা সকল একত্ববাদী ধর্মের মধ্যে ঐক্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু এবং এই বিশ্বাস থেকে দূরে সরে যাওয়া সমাজে গুরুতর ভুল, সংঘাত ও অস্থিরতার কারণ হয়, যার উদাহরণ আজকের বিশ্বে স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

তিনি হাওজা নিউজের সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে একত্ববাদী ধর্মে ত্রাণকের সাধারণ ধারণার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, সমাজকে পতন থেকে রক্ষা করতে প্রতীক্ষার বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

আর্চবিশপ গ্রেগর চিফটচিয়ান বলেন, ত্রাণকের প্রতীক্ষার ধারণা ইসলাম, ইহুদি ও খ্রিস্টানসহ সকল একত্ববাদী ধর্মে সাধারণ। যদিও অন্য ধর্মেও এ ধরনের ধারণা পাওয়া যায়, তবে সেগুলো অধিকাংশ নৈতিক নীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যে সমাজে ত্রাণকের প্রতীক্ষার ধারণা নেই, সেখানে বিবাদ, যুদ্ধ, সংঘাত ও বিভিন্ন আধ্যাত্মিক ও মানসিক ব্যাধির জন্ম হয়।

তিনি শাসকদের কাছ থেকে আশা এবং আল্লাহর কাছ থেকে আশার মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা করে বলেন, বিশ্বের শাসকদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা, এক সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে আমাদের আশা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। শাসকরা ভুল করতে পারেন, কিন্তু আল্লাহর প্রতি যে আশা রাখা হয় তা অতুলনীয় এবং ত্রুটিমুক্ত।

তিনি রাজনীতির ওপর এই বিশ্বাসের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে বলেন, যদি একত্ববাদী ধর্মের অনুসারী রাজনীতিবিদগণ এই প্রতীক্ষার ধারণা থেকে দূরে সরে যান, তবে তাদের দ্বারা আরও গুরুতর ভুল সংঘটিত হয়। অভিজ্ঞতা এবং ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, যখন শাসকগণ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রেখে ত্রাণকের আবির্ভাবের বিশ্বাসকে তাদের জীবনের অংশ বানিয়েছিলেন, তখন মানব সমাজ আরও ঐক্যবদ্ধ ও সুশৃঙ্খল ছিল।

শেষে আর্চবিশপ সকল ধর্মের অনুসারীদের মৌলিক দায়িত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে ত্রাণকের আবির্ভাবের প্রতি বিশ্বাস ও আশাকে কখনই দুর্বল হতে না দেওয়া। যখন বিশ্বাস ও আশা শেষ হয়ে যায়, তখন সমাজ নৈতিক পতনের শিকার হয়। সকল ধর্মের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এটাই যে, তারা তাদের অনুসারীদের মধ্যে বিশ্বাস ও আশা জীবিত রাখবে এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত এর সংরক্ষণ করবে।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha