শুক্রবার ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ২১:০১
ফুড প্রসেসিং ও ফুড টেকনোলজি: আধুনিক সুবিধা না কি মানবদেহ নিয়ন্ত্রণের নীরব বিজ্ঞান?

সহজ ভাষায়, ফুড প্রসেসিং হলো— খাবারকে তার প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে সরিয়ে এনে রাসায়নিক, যান্ত্রিক, তাপ সংরক্ষণকারী রাসায়নিক ক্যামিকেল উপাদানব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রাখার উপযোগী করা।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, 

রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ 

আধুনিক পৃথিবীতে “ফুড টেকনোলজি” ও “ফুড প্রসেসিং” শব্দ দুটি খুবই আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপিত হয়। বলা হয়—এগুলো খাদ্য সংরক্ষণ করে, অপচয় কমায়, বিশ্বকে খাওয়ায়। 
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কোন খাদ্য, কাকে খাওয়ায়, এবং তার মূল্য কী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই দেখা যায়—ফুড টেকনোলজি কেবল রান্নার আধুনিক রূপ নয়; এটি ধীরে ধীরে মানব শরীরকে রোগী বানিয়ে নিয়ন্ত্রণের এক সূক্ষ্ম ব্যবস্থাতে পরিণত হয়েছে।

ফুড প্রসেসিং কী?
— সহজ ভাষায়, ফুড প্রসেসিং হলো— খাবারকে তার প্রাকৃতিক অবস্থা থেকে সরিয়ে এনে রাসায়নিক, যান্ত্রিক, তাপ সংরক্ষণকারী রাসায়নিক ক্যামিকেল উপাদানব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে রাখার উপযোগী করা। চাল, আটা, তেল, দুধ, শিশু খাদ্য, প্যাকেটজাত খাবার—সবই কোনো না কোনো স্তরে প্রসেসড। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন খাদ্যের পুষ্টিগুণ কমে যায়, কিন্তু
স্বাদ, রং, ঘ্রাণ, আসক্তি কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়।

ফুড টেকনোলজি: বিজ্ঞান না কি ব্যবসায়িক কৌশল?
— ফুড টেকনোলজি বলা হয় সেই বিজ্ঞানকে, যেখান
কোন রাসায়নিক কতটা দিলে মানুষ আরও খাবে
কোন উপাদানে আসক্তি তৈরি হবে, কোন খাবার শরীরকে ধীরে ধীরে দুর্বল করবে কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলবে না এবং নানান রোগ তৈরী হবে —এসব হিসাব করা হয়।
এখানে লক্ষ্য স্বাস্থ্য নয়, বাজার। মার্কেট ও মুনাফা৷
মানুষ যত বেশি অসুস্থ হবে, তত বেশি— ঔষধ বিক্রি হবে, টেস্ট হবে, টিকা লাগানো হবে, নাসিং হোম বা বেসরকারী সরকারী হাসপাতাল ভরবে৷ এটা কোনো হঠাৎ দুর্ঘটনা নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মডেল।

কেন একে “মানবদেহে রোগ তৈরির বিজ্ঞান” বলা হয়?
— আজকের বিশ্বে সাধারণ মানুষের দিকে তাকালেই দেখা যায়— ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, হরমোনজনিত রোগ, শিশুদের অকাল স্থূলতা ৷ এগুলো কি হঠাৎ প্রকৃতির অভিশাপ? নাকি প্রতিদিনের খাদ্যে ঢুকে পড়া— অতিরিক্ত চিনি, কৃত্রিম তেল, প্রিজারভেটিভ, ফ্লেভার এনহ্যান্সার, হরমোন— এই সবই ধীরে ধীরে মানুষকে রোগীতে রূপান্তর করছে।

মানুষ রোগী হলে সে আর স্বাধীন থাকে না— সে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, ডাক্তার, কোম্পানি, ওষুধ, টিকা
এর ওপর৷ এভাবেই একটি সুস্থ মানুষ পরিণত হয় নিয়ন্ত্রিত ভোক্তা ও গোলামে।

এটি কি ষড়যন্ত্র?
— “ষড়যন্ত্র” শব্দটি অনেকে হালকা করে নেয়। কিন্তু ইতিহাস বলে— যেখানে কোটি কোটি টাকার ব্যবসা,
সেখানে নৈতিকতা টিকে থাকে না। ফুড টেকনোলজি + ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি একসাথে কাজ করলে যে মডেল দাঁড়ায়, তা হলো— আগে খাবারের মাধ্যমে শরীর দুর্বল করো, তারপর ঔষধ দিয়ে সাময়িক আরাম দাও,   রোগ সারাবে না, চালু রাখো৷ এটাই আধুনিক ফেরাউনী দাসত্বের নীরব পদ্ধতি। 

ফুড প্রসেসিং ও ফুড টেকনোলজি দ্বারা কোটি কোটি টাকার মুনাফা লুটনেওয়ালারা  শয়তানী করছে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত বিলাশ বহুল ল্যাবটরি'তে বসে৷ ডালার খোকো  লোভে পরিচালিত হলে তা শয়তানী ব্যবস্থায় পরিণত হয়।
আল্লাহ মানুষকে প্রকৃতির মাধ্যমে খাবার দিয়েছিলেন সুস্থ থাকার জন্য। কিন্তু মানুষ সেই খাবারকে বদলে ফেলেছে নিয়ন্ত্রণের অস্ত্রে।
আজ সবচেয়ে বড় জিহাদ যুদ্ধক্ষেত্রে নয়—
আজকের জিহাদ
——খাবারের প্লেটে কী আছে, সেটা জানার জিহাদ
——খাবার হিসাবে আল্লাহর কুদরতি (প্রাকৃতিক) খাদ্যে ফেরার জিহাদ
——  সচেতন হওয়ার জিহাদ।

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha