হাওজা নিউজ এজেন্সি: মঙ্গলবার রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি (RT)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাকচি বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথে না হাঁটার নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত। তবে এর পাশাপাশি অন্য পক্ষকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন, চিকিৎসা, কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইরানের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, উভয় পক্ষের সদিচ্ছা থাকলে এ ধরনের নিশ্চয়তা দেওয়া ও বাস্তবায়ন করা “সম্ভব এবং অর্জনযোগ্য”।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের আশঙ্কার জন্যও দেশ প্রস্তুত রয়েছে।
আরাকচির ভাষ্য, পারমাণবিক ইস্যুর একমাত্র কার্যকর সমাধান কূটনৈতিক পথেই সম্ভব। তিনি বলেন, বোমাবর্ষণ বা সামরিক হুমকির মাধ্যমে প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ধ্বংস করা যায় না।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের এখন আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পূর্ণ আস্থা নেই। গত জুনে আমরা যখন আলোচনার মাঝামাঝি ছিলাম, তখনই তারা আমাদের ওপর হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত তিক্ত অভিজ্ঞতা ছিল।”
তিনি গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ১২ দিনের সামরিক আগ্রাসনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তার দাবি, ওই সংঘাতে ইরান ইসরাইলকে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে বাধ্য করেছিল।
আরাকচি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং এটি দেশের সার্বভৌম অধিকারের অংশ।
তার ব্যাখ্যায়, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নির্ভর করে বেসামরিক প্রয়োজনের ওপর। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫ শতাংশের কম মাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়। আর তেহরান গবেষণা রিঅ্যাক্টরে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত চিকিৎসা আইসোটোপ উৎপাদনের জন্য ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ জ্বালানি ব্যবহার করা হয়।
তিনি বলেন, “সংখ্যাটি আসল বিষয় নয়; গুরুত্বপূর্ণ হলো সমৃদ্ধকরণের শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি।”
আপনার কমেন্ট