হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী,
রিপোর্ট: মুস্তাক আহমদ
চিনি মিশ্রিত খাবার, চিনি থেকে উৎপাদিত খাবার মানুষের শরীরের জন্য একটি বিষ, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত ধুঁকে ধুঁকে মেরে ফেলছে৷
ময়দা মিশ্রিত খাবার, ময়দা থেকে উৎপাদিত খাবার মানুষের শরীরের জন্য আর একটি বিষ, যা মানুষকে প্রতিনিয়ত ধীরে ধীরে ধুঁকে ধুঁকে রুগী করে মেরে ফেলছে৷
যদি একটি দেশের মানুষ ময়দা থেকে উৎপাদিত খাবার ও চিনি থেকে প্রস্তুত খাবার খাওয়া ছেড়ে দেয়, তাহলে সেই দেশে বহু ডাক্তারখানা বহু ডাক্তার ও বহু ঔষধ কোম্পানী বন্ধ হয়ে যাবে৷
আপনি যে এসব এলোপ্যাথি ঔষধ কোম্পানী দেখছেন এসব ভন্ডামীর ঔষধ৷
(১) সাদাবিষের নীরব আক্রমণ: আমরা প্রতিদিন যে খাবার খাচ্ছি, তার বড় অংশই সাদা—সাদা চিনি, সাদা ময়দা, সাদা পাউরুটি, সাদা বিস্কুট, সাদা কেক। বাহ্যিকভাবে নিরীহ, কিন্তু ভেতরে লুকিয়ে আছে এক নীরব বিষের বিপর্যয়। আধুনিক খাদ্যশিল্প স্বাদকে এমনভাবে প্রাধান্য দিয়েছে যে পুষ্টি ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে।
পরিশোধিত চিনি (refined sugar) রক্তে হঠাৎ গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ইনসুলিনের অতিরিক্ত নিঃসরণ, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ—এসবের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্বব্যাপী ডায়াবেটিস ও স্থূলতার বিস্তার কেবল জিনগত নয়; খাদ্যাভ্যাসই এর বড় কারণ।
অন্যদিকে ময়দা হলো অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত গম, যেখানে আঁশ (fiber) ও বহু প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে তা দ্রুত হজম হয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ওজন বৃদ্ধি এবং বিপাকীয় ব্যাধির পথ খুলে দেয়।
(২) খাদ্যশিল্প, রোগশিল্প ও নির্ভরতার চক্র: খাদ্যশিল্প মানুষের স্বাদকে আসক্তিতে পরিণত করেছে। শিশুরা ছোটবেলা থেকেই ক্যান্ডি, চকোলেট, কোল্ড ড্রিংকস, কেক—এসবের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয় রোগের চক্র।
ডায়াবেটিস হলে ওষুধ, রক্তচাপ হলে ওষুধ, কোলেস্টেরল হলে ওষুধ—একটি দীর্ঘ নির্ভরতা তৈরি হয়। প্রশ্ন উঠতে পারে—রোগ বাড়ছে কেন? জীবনযাপন, মানসিক চাপ, পরিবেশ দূষণ—এসব কারণ থাকলেও খাদ্যের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি: বেশির ভাগ এলোপ্যাথি ওষুধ ভণ্ডামি—এ দাবি বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বহু প্রাণও বাঁচিয়েছে—অস্ত্রোপচার, অ্যান্টিবায়োটিক, টিকা, জরুরি চিকিৎসায়— তাই বলে এলোপ্যাথি দেবতা নয়৷ বরং মানুষকে লুটে নেবার এচ হাতিয়ার৷ তবে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যচর্চা উপেক্ষা করে শুধু ওষুধনির্ভর জীবন অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ।
(৩) সমাধান কী?
(ক). মূল সমাধান হলো আল্লাহর কুদরতি খবার যাকে বলে প্রাকৃতিক বিকল্প বেছে নেওয়া,
সাদা চিনির বদলে সীমিত পরিমাণে খেজুর, মধু (পরিমিত), ফলের প্রাকৃতিক মিষ্টতা।
ময়দার বদলে লাল আটা, সম্পূর্ণ গম, মিলেট, ওটস।
(খ). আঁশসমৃদ্ধ খাবার বাড়ানো
শাকসবজি, ডাল, বাদাম, বীজ।
(গ). প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানো
প্যাকেটজাত বিস্কুট, কেক, সফট ড্রিংকস কমিয়ে ঘরে তৈরি খাবারে জোর দেওয়া। আপনি তাহলে নিরোগ দেশে দীর্ঘ জীবন৷
(ঘ). শিশুদের খাদ্যশিক্ষা
ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তোলা। প্যাকেট জাতীয় খাবার নিষেধ, বাহিরের খাবার মানা৷
চিনি ও ময়দা নিয়ে উদ্বেগ একেবারে ভিত্তিহীন নয়। অতিরিক্ত পরিশোধিত খাদ্য আমাদের জীবনধারার সঙ্গে মিশে গিয়ে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে সমাধান হলো সচেতনতা, ভারসাম্য ও কোরআনি, আহলে বাইতের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহন করা
— এসব পশ্চিমাদের বিজ্ঞান সম্পর্ণ অন্ধত্ব৷ একে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা দরকার ৷ এসব জায়োনীষ্ট দাজ্জালী থাবা৷
একটি জাতি যদি তার খাদ্যাভ্যাসে শুদ্ধতা আনে, আল্লাহর কুদরতি প্রাকৃতিক খাবারে ফিরে যায়, তবে নিঃসন্দেহে অসংখ্য প্রতিরোধযোগ্য রোগ কমবে। এসব সাধের ডাক্তারখানা, ঔষধ কোম্পানী নাসিংহোম হাসপাতাল কম লাগবে৷ অনেক ঔষধ কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে৷
সুস্থতা, কর্মক্ষম, সচেতন সমাজ গড়ে উঠবে—এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।
স্বাস্থ্য শুরু হয় রান্নাঘর থেকে—প্রেসক্রিপশন প্যাড থেকে নয়।
এসব সরকার জানে৷ এসলে এই সরকার হলো বড় বড় কোম্পানীর নির্ভেজাল দালাল৷ সরকার দালাল৷
আপনার কমেন্ট