শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৫:১৯
ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঐতিহাসিক, গভীর ও কৌশলগত

লেবাননের আমাল মুভমেন্ট বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মুজতবা আমানিকে সম্মাননা জানিয়ে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। তাঁর কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ আয়োজন করা হয়।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আমাল মুভমেন্টের প্রধান নাবিহ বেরির নেতৃত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও কূটনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রতিরোধ সংগঠনের প্রতিনিধিরা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন হায়ার ইসলামিক শিয়া কাউন্সিলের উপপ্রধান শেখ আলী আল-খাতিব; গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী আল-সিস্তানির প্রতিনিধি সাইয়্যেদ হামেদ আল-খাফ্ফাফ; তেহরানে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ সুইদান; এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কর্মকর্তা সাইয়্যেদ আম্মার আল-মুসাওয়ির নেতৃত্বে হিজবুল্লাহর একটি প্রতিনিধিদল। এছাড়া লেবাননের কয়েকজন সংসদ সদস্য ও আমাল মুভমেন্টের শীর্ষ নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। এরপর লেবাননের জাতীয় সংগীত, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের জাতীয় সংগীত এবং আমাল মুভমেন্টের দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।

স্পিকার বেরির পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে খলিল হামদান লেবানন ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ককে “ঐতিহাসিক, গভীর ও শিকড়প্রোথিত” বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূতকে সম্মাননা জানাতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্পিকার নাবিহ বেরির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। ইমাম রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে সংঘটিত ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে আমরা ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং ইরানের নেতৃত্ব ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানাই।”

হামদান আরও বলেন, আমাল মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মুসা আল-সাদর ইসলামী বিপ্লবের আদর্শকে সমর্থন করেছিলেন এবং সাবেক পাহলভি শাসনব্যবস্থার নীতির সমালোচনা করেছিলেন। ইমাম মুসা আল-সাদর থেকে শহীদ মোস্তফা চামরান এবং পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিরোধ নেতাদের মাধ্যমে আমাল তার প্রতিষ্ঠালগ্নের আদর্শের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

“ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক সাময়িক বা পরিস্থিতিনির্ভর নয়; এটি দুই দেশের আলেম ও জনগণের মধ্যে এক ঐতিহাসিক ও স্থায়ী বন্ধন,” তিনি বলেন।

তিনি নিপীড়িত জাতির পক্ষে অবস্থান গ্রহণ এবং বহিরাগত চাপ সত্ত্বেও বৈজ্ঞানিক ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা বজায় রাখার জন্য ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি কঠিন সময়ে লেবাননের পাশে থাকার জন্য রাষ্ট্রদূত আমানিকেও ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, “লেবাননের আনন্দের আগে আপনি তার বেদনাতেই শরিক হয়েছেন”—একটি পূর্ববর্তী নিরাপত্তা ঘটনার সময় রাষ্ট্রদূতের আহত হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে। “জায়নবাদী শত্রু আপনাকে দায়িত্ব পালনে বিরত রাখতে পারেনি। আজ বিদায় নয়; বরং বলছি—ইরানে আপনার নতুন দায়িত্বে আবার দেখা হবে।”

হামদান দক্ষিণ লেবাননের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ও বেসামরিক হতাহতের নিন্দা জানান এবং বিষয়টিকে অঞ্চলের বৃহত্তর প্রতিরোধ ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

নিজ বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুজতবা আমানি স্পিকার বেরি ও আমাল মুভমেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লব-পরবর্তী সময় থেকে তেহরান ও বৈরুতের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, “গত ৪৭ বছর ধরে ইসলামী প্রজাতন্ত্র নানা ষড়যন্ত্র, হত্যাকাণ্ড, অভ্যুত্থানচেষ্টা এবং বৈরী প্রযুক্তিগত যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে; কিন্তু ইরানি জনগণের অদম্য দৃঢ়তার সামনে এসব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, দেশগুলো সাধারণত যুদ্ধ, আলোচনা বা অবিচল অবস্থানের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে থাকে; আর ইরান ও লেবাননের অভিজ্ঞতায় এই স্থিতিস্থাপকতাই মূল শক্তি হিসেবে প্রতিফলিত হয়েছে।

লেবাননে নিজের কূটনৈতিক দায়িত্বকাল স্মরণ করে আমানি বলেন, ব্যক্তিগত আঘাত এবং প্রতিরোধ আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের—যেমন হাসান নাসরাল্লাহ—হারানোর বেদনা সত্ত্বেও তাঁর সময়টি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, “ইসরায়েলি আগ্রাসনের মোকাবিলা করা একটি পবিত্র দায়িত্ব,” এবং ইরান ও লেবাননের জনগণের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্ক অটুট রাখতে ভবিষ্যতেও কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে খলিল হামদান রাষ্ট্রদূত আমানির হাতে “পার্টনার ইন উন্ডস অ্যান্ড রেজিস্ট্যান্স” শীর্ষক একটি স্মারক ফলক তুলে দেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি লেবানন ও ইরানের মধ্যে যৌথ ত্যাগ ও অভিন্ন প্রতিরোধের প্রতীক।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha