শনিবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ১৩:৪৭
ডলারের সম্ভাব্য পতন ও স্বর্ণ–রৌপ্যের দামের আকস্মিক উল্লম্ফন: কারণ, প্রভাব ও সম্ভাবনা

পিটার শিফ এক্সে লিখেছেন: মার্কিন ডলারের পৃষ্ঠপোষণার লেভেল বা স্তর ভেঙে পড়ছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, পিটার শিফের (Peter Schiff) হুঁশিয়ারি: ডলারের (মূল্যমানের) আসন্ন পতন এবং স্বর্ণ-রৌপ্যের মূল্যের উল্লম্ফন ও আকস্মিক স্ফীতি প্রসিদ্ধ অর্থনীতি বিদ এবং স্বর্ণ ভিত্তিক অর্থনীতি ও মুদ্রার চরম সমর্থক ও প্রবক্তা পিটার শিফ সতর্ক করে বলেছেন যে তীব্র গতিতে মার্কিন ডলারের মূল্যমানের পতন হচ্ছে। 

তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন যে ডলারের এই অবমূল্যায়ন বা মূল্যমানের পতন স্বর্ণ,রৌপ্য ও কাঁচা মাল বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দামের অভূতপূর্ব উল্লম্ফন ঘটাবে।

ডলারের সম্ভাব্য পতন

শিফ বিনিয়োগ কারীদেরকে পরামর্শ দিয়েছেন যে এই সংকট ঘটে যাওয়ার আগে ভাগেই যেন তাঁরা তাঁদের পুঁজিকে মার্কিন ডলার ও সম্পদ থেকে খারিজ করে বিদেশি বাজার এবং আরও অন্যান্য কঠিন সম্পদের দিকে স্থানান্তরিত করেন।

এই বিশ্লেষকের বিশ্বাস: নিরবচ্ছিন্ন, সার্বক্ষণিক ও স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতি,ফেডারেল ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে ডিডলারাইজ়েশন (বিডলারায়ন) হচ্ছে মার্কিন ডলারের মূল্যমানের পতনের আসল কারণ।

তার মতে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি (মূল্যস্ফীতি) মার্কিন ভোক্তাদের ওপর খরচের চাপ ও মাত্রা তীব্র করে দিয়েছে এবং একই সময় তা শক্তির উৎস্য সমূহ উৎপাদনকারীদের বাজার বিশেষ করে এনার্জি ও শিল্প পণ্য উৎপাদনের খাতে অর্থনৈতিক শ্রীবৃদ্ধি ও রমরমার কারণও হবে।

পিটার শিফ এক্সে লিখেছেন: মার্কিন ডলারের পৃষ্ঠপোষণার লেভেল বা স্তর ভেঙে পড়ছে। এ ঘটনা স্বর্ণ ও রৌপ্যের বর্তমান চড়া মূল্য শুধু তীব্র ভাবে বৃদ্ধি করবে না বরং সকল পণ্য বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দামের তীব্র ঊর্ধ্বমুখী বৃদ্ধিরও কারণ হবে। এই প্রক্রিয়া মার্কিন সম্পদ বিক্রি করে বৈদেশিক শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের প্রতি ঝোঁক,প্রবণতা ও আগ্রহকে আরও দ্রুত বৃদ্ধি করবে।

পূর্বে ২০০৮ সালে আবাসন ও গৃহায়ণের  হুবাব (বুদ্বুদ/bubble) সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণী করার অভিজ্ঞতার অধিকারী শিফ এ বিশ্বাস পোষণ করেন যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালাই এক ধরনের কৃত্রিম মেকি হুবাব (বুদ্বুদ/bubble ) তৈরি করেছে।

তিনি জোর গুরুত্বারোপ করেন যে ডলার ভিত্তিক সম্পদ (ডলারাকারে পুঞ্জীভূত অর্থ সম্পদ) থেকে বিশ্বের দেশগুলোর বের হয়ে আসা (ডিডলারাইজ়েশন বা বিডলারায়ন) কেবল একটি বড় হুমকি নয় বরং সচেতন বিনিয়োগকারীদের জন্য তা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজনিয়তা যাতে করে মাযুরার বাইরে বিদেশি (শেয়ার ও বিনিয়োগের) বাজার সমূহে আরও ভালো বাযদিহি (সক্ষমতা, ফলপ্রদতা বা অভীষ্ট ফলদান) অর্জিত হয়।

এ অর্থনীতিবিদ (৯-২-২০২৬ তারিখে) আরেকটি পোস্টে পূর্বাভাস দিয়েছেন যে যে সব বিনিয়োগকারী নিজেদের মার্কিন ডলারে পুঞ্জীভূত অর্থ সম্পদ অন্য মুদ্রায় বিক্রি ও রূপান্তরিত করবেন তারা ঐ সব বিনিয়োগকারী যারা নিজেদের অর্থসম্পদকে মার্কিন ডলারাকারেই বাকি রাখবেন তাদের চেয়ে অনেক উঁচু পর্যায়ের বাযদিহি (সক্ষমতা, ফলপ্রদতা বা অভীষ্ট ফল) পাবেন।

ডিডলারাইজেশনের (বিডলারায়ন অর্থাৎ আর্থিক ব্যবসায়িক লেনদেন ও অর্থসম্পদ সঞ্চয় করা থেকে মার্কিন ডলারকে বাদ দেওয়া) কারণে মাযুরার বাইরে অর্থনীতি ও ব্যবসায়-বাণিজ্যের রওনক (প্রসার, প্রবৃদ্ধি) ও শ্রীবৃদ্ধি ঘটবে এবং মাযুরার অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক মন্দার (রুকূদ/recession) সৃষ্টি হবে।

মাযুরা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংক্ষেপ

সূত্র: arzdigital.com

ইসলামী চিন্তাবিদ গবেষক ও লেখক মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha