হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হাওজা ইলমিয়ার প্রধান আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি বলেন, ইসলামি বিপ্লব ও আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার মধ্যে চলমান “মহান সাংস্কৃতিক সংগ্রাম” একটি বাস্তব সত্য, এবং এ ক্ষেত্রে আলেমরা সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে আছেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই চিন্তাগত ও সভ্যতাগত লড়াইকে সঠিকভাবে বোঝা একটি কৌশলগত অপরিহার্যতা; নচেৎ আমাদের অগ্রযাত্রা অসম্পূর্ণ থাকবে।
দেশব্যাপী হাওজা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের এক বৈঠকে ভাষণ দিতে গিয়ে আয়াতুল্লাহ আরাফি ২২ বহমানের জনসমাবেশের প্রশংসা করেন এবং শাবান মাসের সমাপ্তির সঙ্গে রমজান মাসের প্রস্তুতিকে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন।
তিনি রমজানকে “ধর্মচর্চা ও দাওয়াতের পৃষ্ঠপোষক বিদ্যালয়” আখ্যা দিয়ে বলেন, এ মাস আমলের মূল্য বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্ণনা অনুযায়ী, এ মাসে একটি আয়াত তিলাওয়াত করাও রমজান ছাড়া পূর্ণ কোরআন খতমের সমান সওয়াব রাখে; আর কিছু আমলের প্রতিদান অসংখ্য গুণ বৃদ্ধি করা হয়।
তিনি স্পষ্ট করেন যে রমজানের প্রস্তুতি শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক পর্যায়েও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সমাজের আধ্যাত্মিক পরিবেশে বাস্তব পরিবর্তন আনা যায়। তিনি তাবলিগি প্রেরণে হাওজা প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাকে “আল্লাহর নেয়ামত” হিসেবে উল্লেখ করে এ সমন্বয়কে প্রাদেশিক পর্যায় পর্যন্ত সম্প্রসারণের ওপর জোর দেন।
আয়াতুল্লাহ আরাফি বলেন, পশ্চিমা সভ্যতার মৌলিক চিন্তাগত স্তম্ভগুলোর মধ্যে রয়েছে জ্ঞানের আপেক্ষিকতা, বস্তুবাদ, মানবকেন্দ্রিকতা, ব্যক্তিস্বাধীনতার পরম ধারণা, ভোগবাদ ও উপযোগবাদ, লিবারেলিজম এবং সেক্যুলারিজমের মতো মতবাদ; যা মানববিদ্যা, শিক্ষা, শিল্পকলা ও জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি থেকে উপকৃত হওয়া যুক্তিসঙ্গত বিষয়, তবে এর পেছনের চিন্তাগত কাঠামোকে উপেক্ষা করা সঠিক নয়।
তিনি নতুন প্রজন্মের মনস্তত্ত্ব বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আজকের তরুণ দ্রুতগতির ও বহুমাত্রিক তথ্যের আক্রমণের মধ্যে আবদ্ধ, যার ফলে চিন্তার বিভ্রান্তি ও সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থায় তাবলিগকে কেবল তথ্য সরবরাহ হিসেবে নয়, বরং প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও হৃদয়ে প্রভাব সৃষ্টির একটি প্রক্রিয়া হিসেবে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।
তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নকেও অপরিহার্য বলেন এবং উল্লেখ করেন, প্রয়োজনীয় সম্পদ ছাড়া প্রশিক্ষণমূলক লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।
আয়াতুল্লাহ আরাফি ইসলামি বিপ্লবের বড় সাফল্যগুলোর মধ্যে রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এই বিপ্লব জবরদস্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত এক অ-ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
তিনি তরুণ প্রজন্মের জন্য সমকালীন ইতিহাসের প্রামাণ্য ও বিশ্লেষণধর্মী পুনঃপাঠকে অপরিহার্য বলে অভিহিত করেন, যাতে বিপ্লবের অর্জনসমূহ আধুনিক ভাষায় কার্যকরভাবে উপস্থাপন করা যায়।
শেষে তিনি হাওজা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ধারাবাহিক যোগাযোগ, সঠিক পরিসংখ্যান, কৌশলগত বিশ্লেষণ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন রমজান চিন্তাগত ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনকে শক্তিশালী করার এক সোনালি সুযোগ।
হাওজা / ইরানের হাওজা ইলমিয়ার প্রধান আয়াতুল্লাহ আলী রেজা আরাফি বলেছেন, ইসলামি বিপ্লব এবং আধুনিক পশ্চিমা সভ্যতার মধ্যে চলমান “মহান সাংস্কৃতিক সংগ্রাম” একটি বাস্তবতা, এবং এই ময়দানে আলেমরা প্রথম সারিতে অবস্থান করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বুদ্ধিবৃত্তিক ও সভ্যতাগত সংগ্রামকে সঠিকভাবে চিহ্নিত করা একটি কৌশলগত প্রয়োজন; অন্যথায় আমাদের অগ্রগতি অপূর্ণ থেকে যাবে।
আপনার কমেন্ট