শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ - ০৭:৪৩
মানবজাতির সমস্ত দুর্ভোগের মূল ইমামে যামানা (আ.ফা.)-এর প্রতি উদাসীনতা

বিশ্ব শিয়া মাজহাবের অন্যতম প্রভাবশালী মারজায়ে তাকলিদ হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা ওয়াহিদ খোরাসানি এক ভাষণে ইমাম যামানা (আ.)-এর প্রতি উদাসীনতাকে মানবজাতির ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনের সমস্ত দুর্ভোগের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর মতে, ইমামের প্রতি এই উদাসীনতার কারণে আমরা কেবল তাঁকে চিনতে ব্যর্থ হইনি, বরং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও আদব রক্ষায়ও অবহেলা করেছি। তিনি মুমিনদেরকে ইমামের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন ও দৈনন্দিন জীবনে তাঁর স্মরণকে প্রাধান্য দেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃত সাফল্য অর্জনের পথ দেখিয়েছেন।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: হযরত আয়াতুল্লাহ আল-উজমা ওয়াহিদ খোরাসানি এক ভাষণে বলেন, “আমরা নিজেরাই তাঁর  প্রতি অবিচার ও জুলুম করেছি। আমরা তাঁকে চিনিইনি; তাঁর আদব রক্ষা করিনি।

যদি প্রতিদিন সকালে পূর্ণ উপস্থিতি ও গভীর মনোযোগ সহকারে দোয়া (আহদ) পড়ো এবং দোয়ার শিক্ষা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করো, আর কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সময় থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের চিন্তা যতটুকু করো, ঠিক ততটুকু পরিমাণ হলেও তাঁর চিন্তা করো—তাহলেই যথেষ্ট। যদি এমনটি করো, তবে দেখবে কী হয়।

কিন্তু এখনও আমরা সে পর্যায়ে পৌঁছাতে পারিনি। যদি আমাদের অবস্থা এরূপ হয়, তবে আমরা কী প্রত্যাশা করি?! আল্লাহর রীতি পরিবর্তনযোগ্য নয়। প্রথমে ইমামে যামানার প্রতি অবিচার থেকে পবিত্র হতে হবে।

প্রথম পদক্ষেপ হলো, প্রতিটি মজলিসে, প্রতিটি মহফিলে, প্রতিটি পাঠে, প্রতিটি আলোচনায় তাঁকে স্মরণ করা।

শুধু আল্লাহ এবং ইমাম যামানা; গৌণ বিষয়গুলো বাদ দিয়ে মূল বিষয়ে মনোযোগ দাও।

ব্যক্তি ও সমাজের দুর্ভোগ, অসহায়ত্বের মূল কারণ হলো—আমি ও তুমি নিজের নাম-যশের জন্য যতটুকু চিন্তা করি, আল্লাহর নামের জন্য ততটুকু চিন্তা করি না, আর আল্লাহর নিদর্শনের জন্যও ততটুকু চিন্তা করি না।

আজকের এই যুগে আল্লাহর হুজ্জাত (নিদর্শন) হলেন 'ওয়ালিয়ে আসর' (ইমাম মাহদী)। তিনি সেই ব্যক্তি, যিনি আসমান ও জমিনের মধ্যে সংযোগের মাধ্যম।

এমন একজন ব্যক্তি কি এতটা উপেক্ষিত থাকতে পারেন? তোমাদের মজলিস, তোমাদের মিম্বর—শুরু হোক আল্লাহর নামে, সমাপ্তি হোক ইমামে যামানার নামে; হয়তো আমাদের প্রতি করুণার দরজা খুলে যাবে।”

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha